ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১১ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

দেশ বিদেশ

বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) থেকে ফিরে
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার
mzamin

বঙ্গোপসাগরের কূলঘেঁষে বাঁশখালীর গণ্ডামারা এলাকায় অবস্থিত ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছেছে। কেন্দ্রের দুই ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আসন্ন গ্রীষ্মে চট্টগ্রাম এলাকার বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেছেন এসএস পাওয়ার কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মালিকানায় রয়েছে দেশীয় শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ, চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচ টিজি। ১১ই ফেব্রুয়ারি সরজমিন বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মিত হয়েছে। এখান থেকে ৪৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালক বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এএসএম আলমগীর কবির জানান, আগামী এপ্রিলে সাব-স্টেশনের কাজ শেষ হলে পুরো বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেয়া সম্ভব হবে। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, কয়লা ঢেকে দেয়া বেল্টে জেটি থেকে কোল ইয়ার্ডে নেয়া হচ্ছে। তবে কোল ইয়ার্ডের দুই-তৃতীয়াংশ উন্মুক্ত রয়েছে। আলমগীর কবির জানান, ইয়ার্ডের দু’পাশে ফেন্স (বেড়া) দিয়ে ঘিরে রাখা আছে।

বিজ্ঞাপন
কয়লা খোলা থাকলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমে। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এবাদত হোসেন ভূঁইয়া জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি ডলার অর্থাৎ ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রকল্পটিতে এস আলম গ্রুপের মালিকানা ৭০ শতাংশ এবং বাকি ৩০ শতাংশের রয়েছে চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচটিজির। গত বছর এ কেন্দ্রটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়। গত ১৮ই সেপ্টেম্বর প্রথম ইউনিট এবং ২৬শে অক্টোবর  দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। এখন পর্যন্ত তাদের বিদ্যুৎ কেনা বাবদ কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ পর্যন্ত আড়াই হাজার কোটি টাকা পাবে এসএস পাওয়ার। প্লান্টটি জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। যৌথভাবে কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বর্তমানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ প্রায় ১২ টাকা পড়ছে। কয়লা আনা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। প্রতিদিন পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে ১১ হাজার ৫০০ টন কয়লা লাগে। এই হিসেবে বছরে লাগবে ৪২ লাখ টন কয়লা। জেটিতে ৬ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারে। পিডিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, আঞ্চলিক চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় ব্যয়বহুল ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালাতে হতো। এখন আর সেগুলোতে হচ্ছে না। এখন কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবমিলিয়ে খরচ পড়ছে ১০ থেকে ১২ টাকার মতো। আর ডিজেলে ২৫ টাকা এবং ফার্নেস অয়েলে ১৫ টাকা। ডিজেলের সঙ্গে তুলনা করলে প্রতি ইউনিটের খরচ কম পড়ছে ১৩ টাকার মতো। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আরও ৩ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে এস আলম গ্রুপ। এর মধ্যে অর্ধেক আসবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। জীবাশ্ম জ্বালানি, যেমন- কয়লা বা গ্যাস দিয়েও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে এস আলম। ২০২৭ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করছে তারা। এ বিষয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালক বলেন, প্রকল্প এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

 

পাঠকের মতামত

এই এস আলম গ্রুপ দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যাবস্হা কে শেষ করে দিয়েছে। দেশ কে তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়ে ফেলেছে।

Riaz
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ৮:০৫ অপরাহ্ন

দেশের চাহিদা ১৪৫০ মেও। বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ৩১০০ মেও। তারপরও নেপাল থেকে আমদানীর চুক্তি হলো গত মাসে। ঘটনা কি? দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রেখে আদানী বাবুর কাছ থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু, বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে, এ কথার মানে কি?

রবিন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ১২:০০ অপরাহ্ন

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status