ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১১ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

বাংলারজমিন

বাজারের আগুনে পুড়ে যাচ্ছে উত্তরের মানুষ

প্রতীক ওমর, উত্তরাঞ্চল ঘুরে
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার
mzamin

গড় আয় নিচের দিকে। গড় খরচ সীমা ছাড়িয়েছে বেশ আগেই। দেখা যায় না। ধরাছোঁয়ার বাইরে। দিশাহারা অবস্থায় উত্তরের মানুষেরা। বাজারের দামে ঘাম ঝরছে। উত্তরের জেলা-উপজেলাগুলো ঘুরে বেশির ভাগ জায়গায় দেখা গেছে সাধারণ মানুষের চোখেমুখে হতাশার ছাপ। কপালে চিন্তার দাগ পড়ে গেছে। উত্তরের পরিবারগুলো পুরুষনির্ভর। আয় রোজগার কেবল পুরুষরাই করে থাকে।

বিজ্ঞাপন
এখানে কলকাখানার বালাই নেই। যা আছে সেগুলোতে কর্মসংস্থান নেই। 

কখনো পিয়াজ, কাঁচামরিচ। কখনো চাল, লবণ, তেল আতঙ্কের মধ্যে রাখছে সব সময়। প্রতিনিয়তই বাজারের অস্থির মেজাজে সাধারণ মানুষ এখন মহা ভাবনায়। তাপময় বাজার আর উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ কীভাবে চলছে সেই অবস্থা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কৃষক আমির আলী। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে কেমন করে চলছে তার সংসার? তিনি জানান, জমিতে ধান চাষ হয় দুই মৌসুম। অন্য কোনো ফসল খুব বেশি হয় না। ফলে ধান বিক্রি করেই সবজি কিনতে হয় তাদের। সংসারের অন্যান্য খরচও চালাতে হয়। গেল কয়েক বছর বাজারের টালমাটাল অবস্থায় দিশাহারা তিনি। 

লালমানিরহাটের সাংবাদকর্মী সাব্বির আহম্মেদ লাভলু জানান, ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা’। মানুষের আয় মোটেও বাড়েনি। ফসল ভালো হলেও অনেক সময় ন্যায্য দাম পায় না গ্রামের কৃষকরা। এখন ভোজ্য তেলের দামের কাছেই গ্রামের মানুষরা কাবু হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের দোহাই দিয়ে এখন প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। ব্যবসায়ীরা লোক বুঝে একেকজনের কাছে একেক রকম দামে পণ্য বিক্রি করছেন। এতে একেবারেই খেটেখাওয়া শ্রেণির মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। সেই সঙ্গে মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ চরম হতাশায় ভুগছেন। 

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মানবজমিনের কাছে হতাশার কথা জানান নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজিপুর এলাকার হাইস্কুল শিক্ষক আব্দুল বাসেদ বুলবুল। তিনি বলেন, মাসের অর্ধেক না যেতেই বেতনের টাকা শেষ হয়ে যায়। সারা মাস বিভিন্ন দোকানে বাকিতে জিনিষ কিনে সংসার চালাতে হয়। বেতন সঠিক সময়ে না পেলে দোকানিরাও বাকি দেয়া বন্ধ করে দেয় অনেক সময়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে শিক্ষক সমাজের। কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। বগুড়া শহরের দিনমজুরের কাজ করেন আব্দুল কাদের। যেদিন কাজ হয় সেইদিন ৬০০-৮০০ টাকা আয় হয়। আয় হলে বাজার হয়। না হলে বাজার হয় না। সংসার চালাতে তিনি নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। শখের খাবার কতোদিন খাননি সেই হিসেবও নেই তার কাছে। কথা হয় গোদারপাড়া বাজারের চাল ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম আসাদের সঙ্গে। তার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৪ জন। স্ত্রী আর দুই ছেলে। মাসের শুরুতেই পারিবারিক বাজেট করেন তিনি। আয় কমে যাওয়ায় নবম শ্রেণি পড়ুয়া বড় ছেলের পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। চিকিৎসা-পোশাকসহ অন্যান্য ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status