পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আদালতে সরকার কোনো ভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কোথাও করাটা সমীচীন নয়। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সিনেট সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে ড. ইউনূসকে বিচারিক হয়রানি না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে হাছান মাহমুদ বলেন, আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ড. ইউনূসের প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে বলতে চাই, এখানে সরকার কোনো মামলার পক্ষ নয়। মামলায় তার শাস্তি হয়েছে। সরকার তো আদালতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কংগ্রেসম্যানরা যদি সে রকম চিঠি দিয়ে থাকেন, তাহলে তারা বলছেন আদালতে হস্তক্ষেপ করার জন্য। সরকার কি আদালতে হস্তক্ষেপ করতে পারে? এটি করা কি সমীচীন? আমাদের দেশে এটা করা হবে না। কোথাও করাটা সমীচীন নয়। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সিনেট সদস্য গত ২২শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে ড. ইউনূসকে হয়রানি না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে হাছান মাহমুদ বলেন, ন্যাম সম্মেলনে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য বলেছি।
তাদের আগ্রহ আছে বলেও মনে হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আর আগের পর্যায়ে নেই। বাণিজ্য আমরা আরও সম্প্রসারণ করতে চাই। মন্ত্রী বলেন, উগান্ডায় আমি প্রথম বিদেশ সফর করলাম। এটা খুব সুন্দর দেশ। সে দেশের মানুষ অত্যন্ত চমৎকার। আমার নির্বাচনী এলাকার লোকদের সঙ্গেও সেখানে দেখা হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তার সমস্যা নেই। দেশটির ল্যান্ডস্কেপও খুব সুন্দর। কৃষি খাতে সেখানে সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সেই সুযোগও নিতে পারি। এক প্রশ্নের উত্তরে হাছান মাহমুদ বলেন, উগান্ডায় বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠানের সাইড লাইনে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি। অনেকের সঙ্গে কুশল বিনিময় হয়েছে। তারা সকলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এসব দেখে রিজভী (রুহুল কবির রিজভী) সাহেবের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ১৯-২০শে জানুয়ারি উগান্ডায় জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন এবং ২১-২২শে জানুয়ারি ৭৭ জাতি গ্রুপ ও চীনের তৃতীয় দক্ষিণ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। দেশে ফিরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এম খুরশেদ আলম ও জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এমদাদুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
