ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৩ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

দেশ বিদেশ

ওসমানীনগরে হাত উঁচিয়ে ত্রাণের জন্য কাছে ডাকেন বন্যার্তরা

জয়নাল আবেদীন, ওসমানীনগর (সিলেট) থেকে
২৫ জুন ২০২২, শনিবার

এখনো পানিবন্দি ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। বন্যার পানি থমকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণের নৌকা দেখলেই ছুটে যাচ্ছেন মানুষ। কেউ সাঁতরিয়ে, কেউ নৌকায়, আবার অনেক জায়গায় হাত উঁচিয়ে কাছে ডাকে শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ। চিৎকার করে বলে এদিকে আসেন। তাদের আশা এই বুঁঝি কেউ ত্রাণ নিয়ে আসছে। ত্রাণ পাওয়ার পর তাদের মুখের হাসি সবকিছুকে হার মানায়। বন্যায় ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, বিত্তবান, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এখনো ত্রাণ পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন বেশির ভাগ মানুষ।

বিজ্ঞাপন
 উপজেলার প্রায় এলাকার বেশির ভাগ বন্যাদুর্গতরা ত্রাণ পাননি। অন্যদিকে, বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে হাহাকার বেড়েই চলেছে। ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত রয়েছে। এতে উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন পানিবন্দিরা। বন্যার পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছেন পানিবন্দি মানুষ। তলিয়ে গেছে টিউবওয়েল। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। শুকনো খাবারের জন্য হাহাকার করছেন পানিবন্দি মানুষ। বেশির ভাগ আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি সহায়তা না পৌঁছায় আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দারা ভুগছেন খাদ্য সংকটে। কিছু কিছু সামাজিক সংগঠন বা ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে যা সকল আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ওসমানীনগর উপজেলাকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানানো হলেও প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সেক্ষেত্রে আন্তরিক ভূমিকা রাখছেন না। এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। বন্যাক্রান্ত মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দ্বিগুণ মূল্য হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। ফলে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যার কারণের অসহায় মানুষের কাজ নেই। নেই কোনো উপার্জন। এমন অবস্থায় খাদ্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমদ আম্বিয়া বলেন, সরকারের পাশাপাশি আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ১ হাজার মানুষকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি। ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। 

মানুষের অবস্থা দেখে চোখের জল ধরে রাখা যায়নি। সাদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মুসা বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক আশ্রয়কেন্দ্রেসহ বিভিন্ন গ্রামে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি। সরকারের পাশাপাশি প্রবাসীদের উদ্যাগে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status