ঢাকা, ২ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২ জিলহজ্জ ১৪৪৩ হিঃ

দেশ বিদেশ

পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি কুড়িগ্রামবাসীর

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে
২৪ জুন ২০২২, শুক্রবার

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল বিকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২৬ সেন্টিমিটার কমে গিয়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি ২৭ সেন্টিমিটার কমে গিয়ে ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি ফিরে আসছে বানভাসিদের মাঝে।  জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যায় জেলার ৯ উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নের প্রায় ৩১৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৩৮ জন মানুষ। এতে বন্যায় তলিয়ে যায় ১৫ হাজার ৮৫১ হেক্টর ফসলি জমি। মাছের ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার। বন্যায় পাঠদান বন্ধ হয়ে যায় মোট ১২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। বন্যায় ৯৪৪টি নলকূপ ও ৩০২টি লেট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টানা বন্যায় ঘরবন্দি মানুষ পড়েছে ভীষণ ভোগান্তির মধ্যে।

বিজ্ঞাপন
এখনো অনেক বাড়িতে নলকূপ-লেট্রিন তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে গবাদিপশুর খড়। ফলে গো-খাদ্য আর বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন তারা। বাড়ির বয়স্ক ও নারীরা স্বাভাবিকভাবে ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে না পেরে ভীষণ বিপাকে রয়েছে। শুকনো জ্বালানি না থাকায় অনেক কষ্ট করে রান্না করতে হচ্ছে। 

ফলে একবেলা রান্না করে সেই রান্না দিয়ে দিন পার করছেন তারা। জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছে বানভাসি মানুষ। অনেকে অভিযোগ করছেন ত্রাণ দেয়া তো দূরের কথা, এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে না। বিশেষ করে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ কাজ না পেয়ে রয়েছে চরম বিপাকে।  কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের নুরানী পাড়া গ্রামের খাদিজা বেগম জানালেন, ‘নলকূপ ডুবি গেইছে। সেই পানি সবাই খাবার নাগছি। পায়খানা তলে গেইছে, বয়ষ্ক মানুষ আর বউ-ঝিদের খুব সমস্যা হইছে।’ এই এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িতে পানি উঠেছে। অনেকে রাতে সড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেই সড়কেও নেই নলকূপ ও ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা। ফলে বানভাসি মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের আকবর আলী জানান, ৫-৬ দিন থেকে পানিবন্দি জীবনযাপন করছি। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। 

খুব কষ্টে দিন পার করছি। ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি এলাকার আমিনুল জানায়, বন্যার কারণে কাজকর্ম বন্ধ ঠিকমতো বাজার করতে পারছি না। খাওয়া দাওয়ার সমস্যায় পড়ছি। পানিতে চলাফেরা করতে করতে পায়ে ঘা হয়ে গেছে। সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, সরকারিভাবে আমার ইউনিয়নের জন্য ৪ টন চাল পেয়েছি তা বুধবার ১০ কেজি করে বিতরণ করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক বানভাসি মানুষকে দেয়া সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, চলতি বন্যায় প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩৮ টন চাল, ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com