ঢাকা, ২ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২ জিলহজ্জ ১৪৪৩ হিঃ

বাংলারজমিন

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে মাছ ধরার উপকরণ বিক্রিও বৃদ্ধি পেয়েছে

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
২৪ জুন ২০২২, শুক্রবার

বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলায় মাছ ধরার উপকরণ বিক্রিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় দেশীয় বাঁশ-বেত দিয়ে মাছ ধরার ফাঁদ তৈরির কারিগরসহ বাড়ির মহিলারা অবসর সময়ে এসব উপকরণ তৈরি করে বাড়তি অর্থ আয় করছে। এলাকা ভিক্তিক এসব দেশীয় উপকরণের নাম- ভোরং, পলই, ঢাংগি, ডাড়কি, টইয়া, ডিড়ই, বানা, হেঙ্গা ও খোলসুন নামে অভিহিত। পেশাদার ও মৌসুমী জেলেরা এসব দিয়ে মাছ শিকার করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছে। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদী-নালা ও পুকুর-ডোবার মাছ ভেসে গেছে। এসব মাছ ছড়িয়ে পড়েছে জমিতে। এ সুযোগে লোকজন মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেছে। পানির মধ্যে মাছ ধরার জন্য এসব ফাঁদ রেখে দেয়া হয়। 
বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে বাঁশের তৈরি ভোরং নামের একটি যন্ত্র। এলাকাভেদে এ যন্ত্রটিকে খোলসুন বলা হয়। আর বই-পুস্তকের ভাষায় বিটে বলা হয়। পানির মধ্যে এই যন্ত্রটি রেখে দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
চলাচলের সময় ছোট ছোট মাছগুলো বাঁশের তৈরি এই ফাঁদের ভিতরে আটকা পড়ে। এটি প্রামাঞ্চলের মাছ ধরার জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।
সরজমিন গত মঙ্গলবার দুপুরে খানসামা উপজেলার পাকেরহাট ও গতকাল চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর হাটে দেখা যায়, মাছ ধরার কয়েক প্রকার এসব উপকরণ নিয়ে কারিগররা বসে আছেন। পেশাদার ও সৌখিন মাছ শিকারিদের আনাগোনায় জমে উঠেছে মাছ ধরার ফাঁদের বাজার। একেকটি উপকরণের দাম প্রকারভেদে অন্তত ৩০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। 
মাছ ধরার উপকরণ কিনতে আসা খানাসামা উপজেলার ছাতিয়ানগড় গ্রামের মশিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের গ্রামের আশপাশের আবাদি জমি ও ছোট ছোট ডোবা-নালা বর্ষার পানিতে ভরে গেছে। এসব আবাদি জমি ও ছোট ছোট ডোবা-নালায় দেখা মিলছে বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ। আমি বর্ষাকাল শুরু হলেই মাছ ধরি, এটা আমার নেশা। তাই মাছ ধরার জন্য ভোরং কিনতে এসেছি। 
দীর্ঘ ১০ বছর থেকে মাছ ধরার এসব উপকরণ তৈরি ও বিক্রি করেন ভাণ্ডারদহ গ্রামের সুখচাঁদ। তিনি বলেন, ‘আগের মতো তো আর বাঁশের উপকরণের বিক্রি নাই। এখন মানুষ আধুনিক হয়ে গেছে। তারা প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ব্যবহার করেন। কুলা, ঝাঁড়ু, খইচালা আর কেউ বেশি নেয় না। তবে বর্ষাকাল আসলে একটু বেশি মাছ ধরার উপকরণ বিক্রি হয়।’ একেকটি উপকরণ বিক্রি করে আকারভেদে ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। তবে আগের চেয়ে এসবে লাভ অনেক কমে গেছে। শুধুমাত্র বাপ-দাদার জন্য অনেকেই এখন এসব উপকরণ তৈরি ও বিক্রি করে।

 

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বাংলারজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com