ঢাকা, ৩০ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

অনলাইন

হাজীপুরে ৮৫ ভাগ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক

জহিরুল ইসলাম জহির, লালমাই (কুমিল্লা) থেকে

(৬ দিন আগে) ২৩ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

লালমাই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের ৮৫ শতাংশ নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গ্রামটির সহস্রাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকের মতো বিষপান করে চলেছেন। লালমাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের আওতায় চলমান আর্সেনিক পরীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

গ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাজীপুর গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার মানুষের খাওয়ার পানির চাহিদা মিটাতে রয়েছে প্রায় আড়াইশ অগভীর নলকূপ। গত ১৭ জুন, ১৮ জুন ও ২১ জুন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নিয়োজিত টেস্টার রাসেল, তানভীর, সজিব ও ফাতেমা ওই গ্রামের ১৯২টি নলকূপের পানি আর্সেনিক পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় দেখা যায়, ১৬৪টি নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে। পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ৫০ পিপিবি হলেও হাজীপুর গ্রামের ১৭টি নলকূপের পানিতে ১০০০ পিপিবি, ৫২টি নলকূপের পানিতে ৫০০ পিপিবি, ৪২টি নলকূপের পানিতে ৩০০ পিপিবি, ১৮টি নলকূপের পানিতে ২০০ পিপিবি ও ৩৫টি নলকূপের পানিতে ১০০ পিপিবি মাত্রার আর্সেনিক রয়েছে।

টেস্টার রাসেল আহমেদ ও তানভীর জানান, হাজীপুরের ৮৫ ভাগ নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে। ব্যক্তিগত ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার দেওয়া নলকূপের পানিতেও আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে। যেসব নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া যাচ্ছে সেসব নলকূপের মুখে লাল রং করে দিচ্ছি। কিন্তু কিছু অসচেতন ব্যক্তি নলকূপে লাল রং করতে দেয়নি।

হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা, বাকই উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, তিন বছর আগেও একটি সংস্থা পরীক্ষা করে আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে বলে জানিয়েছিল। আমার নলকূপের পানিতেও ১০০ পিপিবি মাত্রার আর্সেনিক রয়েছে।

এক হাজার পিপিবি মাত্রার আর্সেনিক পাওয়া নলকূপের মালিক আবুল কাশেম ও আবুল হাসেম বলেন, জেনে শুনেই আর্সেনিকের মতো বিষ নিয়মিত পান করতেছি।

বিজ্ঞাপন
যতদ্রুত সম্ভব আমাদেরকে গভীর নলকূপ স্থাপন করে বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার সুযোগ করে দিতে সরকারসহ বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তদের দাবি, এখন পর্যন্ত গ্রামের কেউই আর্সেনিক জনিত কোন রোগে আক্রান্ত হননি।

লালমাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, লালমাইয়ের সবকয়টি গ্রামে একযোগে নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা কার্যক্রমটি সম্পন্ন করতে ৩ জন মেকানিক ও ৫২ জন টেস্টার কাজ করছে। ২১ জুন দুপুর পর্যন্ত অত্র উপজেলার ৬ হাজার ৯৮০টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৪টি নলকূপে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। বাকই উত্তরের হাজীপুর গ্রামের ৮৫ ভাগ নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে। যতদূর জেনেছি, ওই গ্রামের নলকূপগুলো ৬০ থেকে ৭০ ফুট গভীরে স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারের গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্পে হাজীপুর গ্রামকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

লালমাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রওনাক জাহান বলেন, বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন স্যার কে অবহিত করেছি। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে অনুরোধ করেছি। হাজীপুরবাসীকে বলবো প্লিজ রেড মার্ক করা নলকূপের পানি  পান করবেন  না।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উল্যাহ বলেন, চলমান জরীপ কার্যক্রম শেষ হলে যে গ্রামে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি দেখবো, সে গ্রামে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে।

প্রসঙ্গত আর্সেনিকের মাত্রা মানুষের কর্মকান্ড ও প্রাকৃতিক উভয় কারণে বাড়তে পারে। মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে পানিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, কীটনাশক, বর্জ্য পদার্থ অবক্ষেপণ অন্যতম। আর প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাটির নিচে আর্সেনিকের খনি। এ খনিজ পদার্থ ভূগর্ভের পানির স্তরের সংস্পর্শে এলে পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে যায়। আর্সেনিকের বিষক্রিয়ার ফলে মানবদেহে আর্সেনিক বাহিত রোগ হয়। মানবদেহে যখন আর্সেনিকের মাত্রা অনেক বেড়ে যায় তখন সে অবস্থাকে আর্সেনিক বিষক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দীর্ঘসময় ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি খেলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব শরীরে দেখা যায়।

 

 

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com