ঢাকা, ৩০ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

অনলাইন

ফেনীর বন্যা পরিস্থিতি

পানি নামতেই দৃশ্যমান ক্ষত, গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যানচলাচল ব্যাহত

ফেনী প্রতিনিধি

(৬ দিন আগে) ২৩ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:২০ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১:০৯ অপরাহ্ন

ফেনীর ফুলগাজীতে নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করতেই ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হচ্ছে। তীব্র পানির স্রোতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে গ্রামীণ সড়ক। ব্যাহত হচ্ছে দু’চাকা থেকে শুরু করে চার চাকার ছোট যানবাহন চলাচল। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে উপজেলার অন্তত আড়াই’শ পুকুরের কোটি টাকার মাছ। সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণের শুকনো খাবার বিতরণ হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ না পওয়ার আক্ষেপ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফুলগাজীর প্রধান সড়ক থেকে সদর উপনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামে যাওয়ার সড়কটির কয়েকটি স্থানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে তীব্র পানির স্রোতে পাকা সড়কের তিনটি স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এ সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা গাছের গুড়ি ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো বানিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করেছে।

উত্তর দৌলতপুর গ্রামের শীলা রানী দাস নামে এক গৃহবধূ বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় এক হাজার মিটার দূরত্ব পাকা সড়কে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে। আধাপাকা সড়ক এখনও একফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

একই গ্রামের ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী ঝর্ণা আক্তার বলেন, বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে মূল সড়কে তিনটি স্থানে বড় বড় ভাঙন হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দেড়পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ফুলগাজী বাজার থেকে দেড়পাড়া সড়কটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
এছাড়া দক্ষিণ ঘরিয়া ও দরবারপুর সড়কেও রাস্তার পিচঢালাই উঠে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সড়কের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ফুলগাজী উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত না করায় বন্যার পানি এখনো সড়ক থেকে পুরোপুরি নেমে যায়নি। বন্যাকবলিত এলাকার বেশ কয়েকটি রাস্তার ওপর দিয়ে এখনও পানি প্রবাহিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফুলগাজী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জল বনিক বলেন, ‘ফুলগাজীতে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত আড়াই শত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এসব পুকুরে পারিবারিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে মাছ চাষ করা হতো। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া পুকুর থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে তিনি ধারণা করছেন। আমরা উপজেলা মৎস্য অফিস প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরবর্তীতে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণের শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও অনেকেই তিন দিনেও ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। উত্তর দৌলতপুর গ্রামের সুমিতা সাহা বলেন, সোমবারের আকস্মিক বন্যায় পানি ঘরের মেঝে পর্যন্ত উঠেছিলো। বুধবার উঠান থেকে পানি নিমে গেলেও চারদিকে পানি থাকায় তারা হাট-বাজারে যেতে পারছে না। বন্যার পানি ডিঙ্গিয়ে তাদের কেউ ত্রাণও দিতে আসেনি।

অপরদিকে পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা বন্যা কবলিত এলাকায় এসেছি আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আপনাদের জন্য মানবিক উপহার নিয়ে এসেছি। এটা কোন ত্রাণ বা সাহায্য নয়, আমাদের অফিসারদের পক্ষ থেকে অফিসারদের নিজস্ব উদ্যোগে চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্যার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলগাজী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে হটলাইন নম্বর চালু করেছি। হটলাইনটি পুরো বন্যার সময় চলমান থাকবে। হটলাইন এ ফোন করে যে কোন সমস্যা জানাতে পারবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান, ফেনীর মুহুরী-কহুয়া-সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। ফের বৃষ্টি না হলে দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করা হবে।

প্রসঙ্গত, , ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পানি এবং ভারী বর্ষণের ফলে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফুলগাজী উপজেলায় তিনটি স্থানে (উত্তর দৌলতপুর, বরইয়া ও দেড়পাড়া) ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ওইদিন রাতে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পরশুরাম উপজেলার পশ্চিম অলকা স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দুই উপজেলার ১৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

 

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com