ঢাকা, ২৫ জুন ২০২২, শনিবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

বাংলারজমিন

ঈশ্বরদীতে পদ্মার আগ্রাসী রূপ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
২৩ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার

পাবনার ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে ভাঙন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার শুরুতেই ভাঙনের ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সাঁড়ার নদীর বাম তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও লালন শাহ সেতু রক্ষা বাঁধটি। গ্রামবাসীর আশঙ্কা, ভাঙন ও পানির তীব্রতা বাড়লে যেকোনো সময় ভাঙতে পারে বাঁধটি। গতকাল সকালে সরজমিন দেখা গেছে, বর্ষার শুরুতেই এবার পদ্মা নদীর বাঁধের সীমানার খুব কাছাকাছি ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষরা অনেকটা শঙ্কায় রাত কাটাচ্ছেন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এখানে থানাপাড়া ও ব্লকপাড়ায় বাঁধের জমি ভেঙেছে। পানির তোড়ে এরই মধ্যে প্রায় ১০ বিঘা বাঁধের সামনের জমি বিলীন হয়েছে। গ্রামবাসী জানান, দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঈশ্বরদীর পদ্মায় পানি বাড়ছে। ৭-৮ দিনে নদীতে প্রায় পাঁচ ফুট পানি বেড়েছে সাঁড়া ঘাটের সীমানায়। পানি বাড়ার কারণে সাঁড়ার ৫ নম্বর ঘাটের সামনের চরের ৫০ বিঘা অনাবাদি জমিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন
ব্লকপাড়ায় সামনে নদীর তীরে সরকারি উদ্যোগে তৈরি করা চিতল ও দেশীয় প্রজাতি মাছের অভয়াশ্রম সীমানার চিহ্নিতকরণও ভেসে গেছে। সাঁড়ার ঝাউদিয়া গ্রামের দলিলুর রহমান বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে সাঁড়ার এই নদীতে সরকারি উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ছয় মাস পর আবারো নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। নদী ভাঙতে ভাঙতে ইতিমধ্যে বাঁধের প্রায় কাছে এসেছে। এই কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। একই গ্রামের রফিকুল শেখ জানান, সাঁড়ার ব্লকপাড়া বাঁধের কাছে নদীতে পানির চাপ খুবই বেশি। এখানে নিচে ‘গলন’ থাকায় পানির চাপে দুই দিনে বাঁধের সামনে প্রায় ৬০ মিটার জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার বলেন, এর আগেও ভাঙন দেখা দেয়ায় সাঁড়ার কয়েকটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে তিন দফায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়। এর ফলে তখন নতুনভাবে আর ভাঙন শুরু হয়নি। তবে এবারের পরিস্থিতি তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে তিনি ভাঙনরোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানাবেন বলে উল্লেখ করেন। ঈশ্বরদীর সাঁড়ায় নদী ভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা সরজমিন দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া কিছুদিন আগেও সাঁড়া ঘাটের ওই এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়। তবে পরিস্থিতি গুরুতর হলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন। এ পরিস্থিতিতে ভাঙনরোধের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির কাজও চলছে।

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বাংলারজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com