ঢাকা, ২৫ জুন ২০২২, শনিবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

অনলাইন

চিলমারীতে বাড়ছে বন্যার পানি, ঘরছাড়া শ’ শ’ পরিবার

সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) থেকে

(৩ দিন আগে) ২২ জুন ২০২২, বুধবার, ৩:৪৮ অপরাহ্ন

ব্রহ্মপুত্রের পানি চলছে বিপদ সীমার ওপর দিয়ে। বিপদ কাটেনি চিলমারীর। দুশ্চিন্তায় বানভাসিরা। ঘরছাড়া হয়েছে শ’ শ’ পরিবার। বিপাকে রয়েছে ঘরছাড়া পরিবারগুলো। ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও নজর পড়ছে না বাঁধে আশ্রয় নেয়া বানভাসিদের ওপর। বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নেয়া বানভাসিদের বাড়ছে দুর্ভোগ। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাব। কিশোরী মেয়েসহ গরু, ছাগল নিয়েও দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন তারা।
জানা গেছে, বন্যার পানি চারদিকে ঢুকে পড়ায় কুড়িগ্রামের চিলমারীর বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ রয়েছে পানিবন্দি হয়ে।

বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। টানা বৃষ্টি সাথে উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার পেরিয়ে শুরুতেই তলিয়ে নেয় নদের তীরবর্তী অঞ্চলসহ বাঁধের আশপাশ এলাকাগুলো। বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় বন্যায় আক্রান্ত মানুষজন ছাড়তে শুরু করে আশ্রয় স্থান। বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নেন পাশ্ববর্তী বাঁধ ও উঁচু স্থানে। উপজেলার পাত্রখাতা থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এবং বাঁেধর নিচে বসবাসরত কয়েশত পরিবার বন্যার থাবায় ছেড়েছে বাড়িঘর, আশ্রয় পেতেছে বাঁধে। শত শত পরিবার বাঁধে তাঁবু, পলিথিন, চালা দিয়ে করছে মানবেতর জীবনযাপন। বন্যার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে আসা মানুষজনের আবার ভিজতে হচ্ছে বৃষ্টি আর পুড়তে হচ্ছে রোদে যাকে বলে মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। কষ্টের উপর কষ্টে থাকলেও তাদের ভাগ্যে মেলেনি সাহায্য। বন্যার কারণে হাতে কাজ না থাকায় বাঁেধ আশ্রয় নেয়া দিনমজুর পরিবারগুলো দিন পার করছে খেয়ে না খেয়ে। বাঁেধ আশ্রয় নেয়া রমনা মিস্ত্রী পাড়ার জামেলা, বোলো, আমিনুল বলেন, বাড়ি ঘরে পানি প্রায় সপ্তাহ থেকে বাঁধে আশ্রয় নিয়ে আছি। কিন্তু কোন সাহায্য দেয়া তো দূরের কথা কোন খবরও নিলো না কেউ। এসময় অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বাঁধের মানুষ যে কতটুকু সমস্যা আর কষ্টে থাকে তা কি কেউ বোঝে, সকলে খালি চর নিয়ে ব্যস্ত। তারা আরো বলেন, চরের মানুষের তো জমিজমা এবং ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বাঁেধ মানুষের তো তাও নাই। ত্রাণ সঠিক ভাবে বন্টন হয় না মন্তব্য করে রানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সত্যি কথা বলতে কি সকলে চর নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু বাঁধের পাশের আর নদীর তীরবর্তী এবং উপজেলা সদরের আশপাশের মানুষ বন্যায় যে কত কষ্টে থাকে তা কেউ বুঝতে চায় না। বন্যায় আক্রান্ত কোন মানুষের ভয়ের কোন কারণ নেই জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার সব সময় বন্যার্ত মানুষের পাশে ছিল এবং আছে, আমরা সরকারি নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি এবং সব সময় তাদের পাশে আছি।

 

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

অনলাইন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com