ঢাকা, ২৫ জুন ২০২২, শনিবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

বিশ্বজমিন

সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব মন্ত্রীপরিষদে পাস, শ্রীলঙ্কায় কমছে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা

মানবজমিন ডেস্ক

(৪ দিন আগে) ২১ জুন ২০২২, মঙ্গলবার, ৪:৩১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৪:৩৪ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে শ্রীলঙ্কা। এ জন্য প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবিতে প্রায়শই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হচ্ছে। এসব বিক্ষোভকারীকে সন্তুষ্ট করতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রীপরিষদ। তারা এ জন্য সংবিধান সংশোধন অনুমোদন করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এর আগে বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকাসে। 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহের মিডিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা দিনুক কলোম্বাজ আজ মঙ্গলবার বলেছেন, সোমবার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রীপরিষদ। কথিত ২১তম সংশোধনীর খসড়ায় বলা হয়েছে, সংবিধানের কিছু ক্ষমতা পার্লামেন্টের কাছে ফেরত দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন কমিশন পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো টুইটে বলেছেন, ২১তম সংশোধনী সোমবার মন্ত্রীপরিষদের মিটিংয়ে উত্থাপন করা হয়েছিল এবং তা এদিনই পাস হয়েছে। এই প্রস্তাব এখন পাঠানো হবে পার্লামেন্টে।

বিজ্ঞাপন
সেখানে পার্লামেন্ট সদস্যদের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ যদি এর পক্ষে ভোট দেন তাহলে তা অনুমোদিত হবে। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকাসে তার ছোটভাই গোটাবাইয়া রাজাপাকসেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার পর তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি পার্লামেন্টে ২০তম সংশোধনী আনেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রেসিডেন্সির অধীনে ব্যাপক ক্ষমতা লুফে নেন। এই ক্ষমতার ফলে মন্ত্রীদের বিষয়ে সার্বিক ক্ষমতা দেয়া হয় প্রেসিডেন্টকে। তিনি যাকে খুশি তাকে মন্ত্রী নিয়োগ বা মন্ত্রিত্ব থেকে বরখাস্ত করতে পারেন। এখানেই শেষ নয়। এই ক্ষমতার ফলে নির্বাচন কমিশন, সরকারি সেবাখাত, পুলিশ, মানবাধিকার, ঘুষ, দুর্নীতির তদন্ত কমিশনের সার্বিক দায়িত্ব চলে যায় প্রেসিডেন্টের হাতে। 

১৯৭৮ সাল থেকে শ্রীলঙ্কা শাসিত হচ্ছে শক্তিধর নির্বাহী প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেমে। কিন্তু সংস্কারবাদী একটি সরকার ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এসব ক্ষমতা কমিয়ে তা ছড়িয়ে দেয়া হয় পার্লামেন্ট এবং নিরপেক্ষ কমিশনের কাছে। বলা হয় এরপরের পর্যায়ক্রমিক প্রেসিডেন্টগুলো হয়েছে অধিকতর কর্তৃত্বপরায়ণ। 
দেশ যখন সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ভুগছে, তখন এর জন্য প্রধানত দায়ী করা হয় রাজাপাকসে পরিবারকে। জবাবে প্রতিবাদীদেরকে শান্ত করতে কিছু ক্ষমতা কমানোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া। কিন্তু কয়েক মাস ধরে যে বিক্ষোভ হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি হলো ক্ষমতা থেকে রাজাপাকসেদের সরে যেতে হবে। একদিকে করোনাভাইরাস মহামারি, অন্যদিকে আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় অতিবাহিত করছে শ্রীলঙ্কা। তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট দেখা দিয়েছে। 

সোমবার আইএমএফের ৯ সদস্যের একটি দল বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোতে পৌঁছেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে তাদের আলোচনার কথা রয়েছে যে, কিভাবে শ্রীলঙ্কাকে তারা ১৭তম ঋণ দেবে। ওদিকে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আল জাজিরাকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে ‘ওয়ান চায়না পলিসি’র প্রতি আবারও আনুগত্য প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কা। ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনার জন্য অপেক্ষায় আছে শ্রীলঙ্কা। খাদ্য সংকট সমাধানে শ্রীলঙ্কাকে চাল দান করার নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন।

বিশ্বজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বিশ্বজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com