ঢাকা, ২৫ জুন ২০২২, শনিবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

দেশ বিদেশ

বান্দরবানে ঝুঁকিতে কয়েক হাজার বসতঘর

বান্দরবান প্রতিনিধি
২০ জুন ২০২২, সোমবার

বান্দরবানে অবিরাম বৃষ্টিতে পাহাড় ও নদী তীরবর্তী বসতিগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া শহরে মাইকিং করা হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা প্রশাসনকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকা করা  হয়েছে। গত কয়দিন যাবৎ বান্দরবানে মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে পানি নেমে আসছে। এ ছাড়া স্থানীয় সাঙ্গু নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে অবিরাম ভারী বর্ষণে পাহাড়ের উপর ও পাদদেশে কয়েক হাজার বসতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসে বসতঘর ধ্বংস ও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। প্রবল বৃষ্টির ফলে পাহাড়ের মাটি নরম ও ক্ষয় হওয়ায় এ ঝুঁকি দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন
প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড় ও নদী তীরবর্তী বসতি থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বান্দরবান পৌরসভা মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি গত শনিবার দুপুরে প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবান পৌরসভা এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়- ইতিমধ্যে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল ফারুক ইনস্টিটিউট, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খোলা হয়েছে। এখন থেকেই এসব আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন উঠতে পারবে। লোকজন উঠলেই তাদের খাবার, থাকাসহ স্যানিটেশনের ্যবস্থা করা হবে। এদিকে বান্দরবান জেলা প্রশাসন থেকেও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে জেলার সাত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম?্যাজিস্ট্রেট মো. কায়েসুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ইউএনওদের নিজ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নিরূপণ, তালিকা প্রস্তুত করার জন?্য বলা হয়েছে।  নির্বাহী ম?্যাজিস্ট্রেট কায়েসুর রহমান বলেন, তবে এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠার মতো পরিস্থিতি না হলেও প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নেয়ার জন?্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এদিকে গত বুধবার ১৫ই জুন থেকে বান্দরবানে মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।  বান্দরবান মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানি বিভাজন কেন্দ্রের প্রধান  বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাববুল ইসলাম বলেন, গত শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ২৬ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নদীর পানি বাড়লেও সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপদসীমার অনেক নিচে বলে জানান, বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অরূপ চক্রবর্তী। তিনি জানান, সাঙ্গু নদীর পানির বিপদসীমা প্রায় ১৬ মিটার হলেও গত শনিবার বিকাল পর্যন্ত তা ছিল প্রায় সাত মিটার। জেলার মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানিও বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com