ঢাকা, ২৫ জুন ২০২২, শনিবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

দেশ বিদেশ

হাতিরঝিলের সৌন্দর্য অমূল্য সম্পদ হাইকোর্টের রায় চেম্বারে বহাল

স্টাফ রিপোর্টার
২০ জুন ২০২২, সোমবার

হাতিরঝিলের বেগুনবাড়ি প্রকল্পে সব ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদসহ ৪ দফা  নির্দেশনা ও ৯ দফা সুপারিশ সম্বলিত হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে আগামী ২৭শে জুন বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।  গতকাল আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। অপরদিকে রাজউকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নী জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ব্যারিস্টার ইমাম হাসান। এর আগে গত ২৪শে মে হাইকোর্ট  হাতিরঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সিসহ সব ধরনের যান্ত্রিক বাহন বন্ধের পরামর্শ দেন। এ প্রকল্পের ভেতরে হোটেল, রেস্তরাঁসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা অবৈধ ঘোষণ করে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। রায়ে ৪টি নির্দেশনা ও বেশ কয়েকটি পরামর্শ দেয়া হয়। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে হাতিরঝিলের নামকরণ এবং সেখানে মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলারও পরামর্শ দেয়া হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে দেয়া ৪ নির্দেশনা হচ্ছে- রাজধানী ঢাকার ফুসফুস বেগুনবাড়ি খালসহ হাতিরঝিল এলাকা যা ‘হাতিরঝিল’ নামে পরিচিত, তা ‘পাবলিক ট্রাস্ট প্রপার্টি’ তথা জনগণের জাতীয় সম্পত্তি।

বিজ্ঞাপন
 হাতিরঝিল এলাকায় হোটেল, রেস্তরাঁসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ এবং নির্মাণ বেআইনি ও অবৈধ। হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বরাদ্দ করা সব হোটেল, রেস্তরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অবৈধ এবং এখতিয়ার বহির্ভূত মর্মে এসব বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা করা হলো।  রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সব ধরনের হোটেল, রেস্তরাঁ এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। হাতিরঝিলের বিষয়ে রায়ে ৪টি নির্দেশনা ছাড়াও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে আদালত। হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ি সম্পূর্ণ প্রকল্পটি সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও পরিচালনায় একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ তথা ‘হাতিরঝিল লেক সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা, যা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সরাসরি অধীনে থাকবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশল বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪তম ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে যৌথভাবে হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকার স্থায়ী পরামর্শক নিয়োগ করা।  জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য মাটির নিচে আন্তর্জাতিক মানের টয়লেট স্থাপন করা। নির্ধারিত দূরত্বে বিনামূল্যে জনসাধারণের জন্য পান করার পানির ব্যবস্থা করা। পায়ে চলার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক লেন তৈরি করা।  পানির জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় লেকে সব ধরনের যান্ত্রিক বাহন তথা ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। লেকে মাছের অভয়ারণ্য করা।  হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রথম বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে নামকরণ করা।  হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ি সম্পূর্ণ প্রকল্পটি সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও পরিচালনার ব্যয় রেভিনিউ বাজেট থেকে বরাদ্দ করা। ২০১৮ সালে হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রজেক্টে লে-আউট প্ল্যানের নির্দেশনার বাইরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধে রাজউকের নিষ্ক্রিয় থাকার প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন রিট করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পরে ওই রুলের শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৩০শে জুন রায় ঘোষণা করেন আদালত।  

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com