ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বুধবার, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১০ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

আন্তর্জাতিক

আর কতো লাশ হলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হবে!

মোহাম্মদ আবুল হোসেন
১৩ নভেম্বর ২০২৩, সোমবার
mzamin

এই যুদ্ধে এরই মধ্যে লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ কম-বেশি জড়িয়েছে। সিরিয়ায় ইরানের স্থাপনা আছে এমন স্থানকে টার্গেট করে  ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইসরাইল। বার বার হামাসের রকেট হামলায় ইরানের হাত থাকার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মিশর, ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ইসরাইলের হত্যার উন্মত্ততায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ করছে। কোনোভাবে যদি এই উত্তেজনার স্ফুলিঙ্গ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাকে চাপা দিয়ে রাখা খুবই কঠিন হবে। 
এসব উত্তেজনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন হলেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখে নতুন সুর শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে রাজি হবে না ইসরাইল। এর অর্থ খুবই পরিষ্কার। তা হলো তিনি ইঙ্গিত দিচ্ছেন এর মধ্যদিয়ে তারা গাজাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। একে দখলদারিত্ব বললে ভুল হবে না

আর কতো লাশ হলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হবে! আর কতো লাশ হলে গাজায় নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যা বন্ধ হবে! কবে বন্ধ হবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রক্তের নেশা।

বিজ্ঞাপন
আর কবে মুসলিম বিশ্ব মাথা তুলে দাঁড়াবে! যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস ধ্বংসের নামে ইসরাইল গাজাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে। সভ্য বিশ্ব তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু দেখছে! মুসলিম দেশগুলো, আরব লীগ, ওআইসি মিটিংয়ের পর শুধু মিটিং করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ গাজায় বিপর্যকর অবস্থা নিয়ে সতর্কতা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক সতর্কতা দিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক। যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছেন মুসলিম দেশগুলোর নেতারা। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন পশ্চিমা বিশ্বের নেতারাও। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

তিনি বলছেন, এখন যুদ্ধবিরতি দেয়া মানে হামাসের কাছে আত্মসমর্পণ করা। এই অজুহাতে তিনি এখন গাজাকে জনমানবশূন্য করে দেয়ার চেষ্টা করছেন। এখন মনে পড়ছে হামাসের বিরুদ্ধে হামলার শুরুর দিকের তার মন্তব্য। তিনি বলেছিলেন- গাজাকে একটি নির্জন দ্বীপে পরিণত করা হবে। এ জন্য তিনি গাজা, পশ্চিমতীরে ইচ্ছেমতো যা খুশি তাই করে যাচ্ছেন। তাকে বাধা দেয়ার কেউ নেই। এই ধ্বংসযজ্ঞ, এই গণহত্যার যেন লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তাকে। সেই লাইসেন্স নিয়ে তিনি প্রতিক্ষণ বোমা হামলা চালিয়ে মানুষের চিহ্নকে মুছে দিতে চাইছেন। গাজায় সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফা। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক হাজার রোগী, আহত মানুষ, বাস্তুচ্যুত। আর আছেন মেডিকেল স্টাফরা। এখন সেই হাসপাতালেও হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। সেখানকার একজন সার্জন বলেছেন, বোমা হামলায় তাদের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেন্টিলেটরে থাকা দু’জন রোগী এতে মারা গেছে। 

এর মধ্যে একটি শিশু। কর্তৃপক্ষ বলেছে, সেখানে অক্সিজেনের অভাবে বিপুল সংখ্যক শিশু মারা যেতে পারে। ওই সার্জন বলেছেন, অব্যাহতভাবে বোমা হামলা হচ্ছিল হাসপাতাল ও এর আশপাশে। হাসপাতালে আশ্রয় নেয়া কেউ বের হয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করতেই তাদেরকে গুলি করছে ইসরাইলি সেনারা। এরই মধ্যে এভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন অনেকে। ইসরাইলের দাবি গাজার হাসপাতালগুলোর আন্ডারগ্রাউন্ডকে হামাসের যোদ্ধারা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদেরকে টার্গেট করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কী সেখানে কোনো হামাস সদস্য আছেন! বিভিন্ন মিডিয়ার যে রিপোর্ট তাতে হামাসের অবস্থান মাটির নিচে টানেলে। তারা মাটির উপরে থাকলেও সুড়ঙ্গপথে অবস্থান পরিবর্তন করছেন। কিন্তু হাসপাতালে হামলা কেন! তবে কী হামাসকে শেষ করার নামে ইসরাইল ওই জনপদে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে জাতিনিধনের শিকারে পরিণত করতে চায়! এমন অসংখ্য প্রশ্ন এখন বিশ্ববাসীর সামনে। সতর্কতা উচ্চারণ করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস, মেডিসিন্স সান্স ফ্রন্টিয়ার্স। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছেন হাসপাতালে হামলা বন্ধ রাখতে। গাজায় ভয়াবহভাবে সাধারণ মানুষের প্রাণহানিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রোববার এবিসিকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের আইনে হাসপাতাল, রোগী এবং মেডিকেল স্টাফদের সুরক্ষিত রাখার বাধ্যবাধকতা আছে। তাই হাসপাতালগুলোতে হামলা বন্ধ করতে ইসরাইলকে অনুরোধ জানাই। আমরা এ যুক্তি বুঝতে পারি যে, বেসামরিক অবকাঠামোকে আত্মরক্ষার স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে হামাস। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেখছে, হাসপাতালগুলোতে কী ঘটছে। 

আমরা ইসরাইলকে বলবো, এসব স্থাপনাকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সুরক্ষিত রাখতে হবে। আমরা সেটা চাই। একই সঙ্গে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাই। কিন্তু কারও কথায় কোনো কান দিচ্ছেন না বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 
আল শিফা হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেছেন, আমরা মৃত্যু থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরে অবস্থান করছি। শনিবার তিনি হাসপাতালের ভেতর থেকে এসব কথা বলছিলেন। তখন জ্বালানি ও বিদ্যুতের অভাবে সেখানে অপারেশন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, আল শিফা হাসপাতালকে টার্গেট করা হচ্ছে। এখান থেকে কেউ বাইরে গেলেই তাকে ইসরাইলি স্নাইপাররা গুলি করে হত্যা করছে। হাসপাতালে নবজাতকদের সহায়তার জন্য ইনকিউবেটরের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মেডিকেল ক্রুদের একজন সদস্য। তাকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইল। ইনকিউবেটরের ভেতর একটি নবজাতককে হারিয়েছি আমরা। আইসিইউতে একজন যুবককেও হারিয়েছি। গাজার ডেপুটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. ইউসেফ আবু আল রীস বর্তমানে এই হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করছেন। তিনি বলেছেন, সেখানে সব জেনারেটর বন্ধ হয়ে গেছে।

 বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সরবরাহের কোনো উৎস নেই। ইনকিউবেটরে আছে ৩৯টি নবজাতক। তারা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। হাসপাতাল কম্পাউন্ডের চারপাশে স্নাইপার মোতায়েন করেছে ইসরাইল। ফলে ভেতরেও মানুষ স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারছে না।  রোববার হাসপাতালটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় জাতিসংঘের স্থানীয় কর্মকর্তাদের। এর আগে আল জাজিরা টেলিভিশনে এই হাসপাতালের ভেতরের যে দৃশ্য দেখানো হয়, তা হৃদয়বিদারক। বেডে আর্তনাদ করছেন আহতরা। কোনো মাকে মাতৃত্ববিষয়ক সেবা দেয়ার জন্য বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি হাঁসফাঁস করছেন। সারিবদ্ধ বেডে রোগী। তাদের কারও পায়ে ব্যান্ডেজ। কারও মাথায়। এসব ভিড়ের মধ্যদিয়ে সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটি শিশুর মৃতদেহ দু’হাতে বহন করছেন একজন। আশপাশের মানুষ  ক্রোধ-উন্মত্ত চোখে তাকিয়ে আছেন সেদিকে। 

গাজার উত্তরাঞ্চলে রিমাল এলাকায় অবস্থিত আল সিফা হাসপাতাল। ১৯৪৬ সালে তা প্রতিষ্ঠিত হয়। তা সফলভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। জরুরি মেডিকেল সুবিধা পাওয়ার জন্য গাজাবাসীর কাছে এই হাসপাতাল পরিণত হয়েছে লাইফলাইন। যুদ্ধে যে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছেন, তাদের অস্থায়ী আবাস এই হাসপাতাল। তারা সেখানকার করিডোর এবং প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু ইসরাইলের অভিযোগ, এই হাসপাতাল হলো হামাসের কমান্ড সেন্টার। এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পরিচালক বলেছেন, এটা ডাহা মিথ্যা কথা। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হামাসও। ইসরাইলের বিরুদ্ধে যেমন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে। তেমনি হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনাকে যেকোনো সশস্ত্র গ্রুপের ঢাল হিসেবে ব্যবহারকে যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তাই বলে ইসরাইল বেসামরিক মানুষের জীবনকে এড়িয়ে হামলা চালাতে পারে না। বেসামরিক লোকজনের জীবন রক্ষা করতে না পারাটাও যুদ্ধাপরাধ। হাসপাতালকে টার্গেট করাও একটি যুদ্ধাপরাধ। 
ইরান সতর্কতা দিয়ে যাচ্ছে বার বার। শনিবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব লীগ ও ওআইসি’র সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসি সতর্ক করেছেন। বলেছেন, এই হামলা বন্ধ না হলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওই সম্মেলনে যোগ দেয়া বেশির ভাগ নেতা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের অনেকেই বলেছেন, হামাস নিধনের নামে যেভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, তা যুদ্ধাপরাধ। অবিরাম আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের আইন লঙ্ঘন করছে ইসরাইল। 

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ভাষণ দেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি অবিলম্বে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ এবং সব জিম্মি, বন্দির মুক্তি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এটা হলো মানবিক এক বিপর্যয়। এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনগুলো ভয়াবহভাবে লঙ্ঘন করছে ইসরাইল। তাদের এটা বন্ধ করাতে ব্যর্থতার মধ্যদিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রমাণ করেছে বিশ্ব দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা নিশ্চিত যে, শান্তির একমাত্র উপায় হলো ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও বেআইনি বসতি স্থাপন বন্ধ, ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং ১৯৬৭ সালের ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তাতে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে পূর্ব জেরুজালেমকে। 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান গাজায় নবজাতক, শিশু ও নারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেন ইসরাইলকে। একই সঙ্গে নতুন করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান তিনি। এরদোগান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গাজায় এই যুদ্ধ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ নয়, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। হামাস তাদের মাতৃভূমির জন্য প্রতিরোধ আন্দোলন করছে। দখলদার ইসরাইলকে তাদের মতো এক কাতারে ফেলতে পারি না আমরা। 

কিন্তু এমন বক্তব্য আর বিবৃতিতে কাজের কাজ কতোটা হবে- সেটাই প্রশ্ন। বক্তব্য- বিবৃতিতে যদি কাজ হতো, যদি নেতানিয়াহুর মধ্যে মানবতা বলতে কিছু থাকতো, তাহলে অনেক আগেই যুদ্ধবিরতি হয়ে যেতো। বিশ্বের চারপাশ থেকে এই যে আহ্বান আসছে, দেশে দেশে এই হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে, তাতে টনক নড়ার কথা। এমনও হতে পারে, এই এক গাজা ইস্যুতে বিশ্ব অস্থির হয়ে পড়তে পারে। কারণ, এই যুদ্ধে এরই মধ্যে লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ কম-বেশি জড়িয়েছে। সিরিয়ায় ইরানের স্থাপনা আছে এমন স্থানকে টার্গেট করে  ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইসরাইল। বার বার হামাসের রকেট হামলায় ইরানের হাত থাকার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মিশর, ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ইসরাইলের হত্যার উন্মত্ততায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ করছে। কোনোভাবে যদি এই উত্তেজনার স্ফুলিঙ্গ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাকে চাপা দিয়ে রাখা খুবই কঠিন হবে। 

এসব উত্তেজনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন হলেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখে নতুন সুর শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে রাজি হবে না ইসরাইল। এর অর্থ খুবই পরিষ্কার। তা হলো তিনি ইঙ্গিত দিচ্ছেন এর মধ্যদিয়ে তারা গাজাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। একে দখলদারিত্ব বললে ভুল হবে না। তার এমন বক্তব্যের পর এর ব্যাখ্যা চেয়ে তার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। এ তথ্য জানিয়েছে ইসরাইলি ব্রডকাস্টিং অথরিটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছিলেন, যুদ্ধ যখন শেষ হয়ে যাবে তখন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হবে গাজা, পশ্চিমতীর। তার এ মন্তব্যের পরই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই বক্তব্য রাখেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরাইলের মধ্যে মতের অমিল দেখা যাচ্ছে। ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া রিপোর্ট করেছে যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ‘নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ’ বলতে কী বুঝিয়েছেন তা জানাতে বলেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

 

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

নির্বাচিত কলাম সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status