ঢাকা, ২৬ জুন ২০২২, রবিবার, ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৫ জিলক্বদ ১৪৪৩ হিঃ

অর্থ-বাণিজ্য

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমানোয় রেকর্ড

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

(১ সপ্তাহ আগে) ১৬ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৫৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

আগের বছরের চেয়ে সুইস ব্যাংকে রেকর্ড পরিমাণ আমানত বেড়েছে বাংলাদেশিদের। মাত্র ১২ মাসে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা করেছেন তারা। সব মিলিয়ে সুইস ব্যাংকগুলোতে এখন বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক-এসএনবি বৃহস্পতিবার ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড-২০২২’ শিরোনামে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশিদের জমানো অর্থের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশে যখন টাকা পাচার ঠেকানোর তুমুল আলোচনা, তখন নজিরবিহীন গতিতে সুইস ব্যাংকে টাকা জমিয়েছেন বাংলাদেশিরা। সারা বিশ্বের ধনীদের অর্থ গোপনে গচ্ছিত রাখার জন্য বহুদিনের খ্যাতি সুইজারল্যান্ডের। কঠোরভাবে গ্রাহকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে সুইস ব্যাংকগুলো। যে কারণে প্রচলিত বিশ্বাস, অবৈধ আয় আর কর ফাঁকি দিয়ে টাকা জমা রাখা হয় সুইস ব্যাংকে।

নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও এক দশক ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, প্রতি ফ্রাঁ ৯৫ টাকা করে ধরলেও দেশি মুদ্রায় যা ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। ঠিক এক বছর আগে, এই টাকার অঙ্ক ছিল ৫৬ কোটি ২৯ লাখ ফ্রাঁ বা ৫ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন
অর্থাৎ এক বছরেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে ২ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা।

এসএনবি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০১৭ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ, ২০১৮ সালের শেষে এই অর্থের পরিমাণ কমে হয় ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ২০১৯ সালে এসে দাঁড়ায় ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁতে। 

দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ বলা হলেও পাচার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। এমনকি আমানত হিসাবে কার কতো অর্থ আছে, তা-ও জানা যায়নি।
সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, যদি কোনো বাংলাদেশি তার নাগরিকত্ব গোপন করে অর্থ জমা রেখে থাকেন, তবে ওই টাকা এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। গচ্ছিত রাখা স্বর্ণ বা মূল্যবান সামগ্রীর আর্থিক মূল্যমানও হিসাব করা হয়নি এই প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ২০২১ সালেই বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি আমানত ছিল সুইস ব্যাংকে। ২০০২ সালে আমানত ছিল মাত্র ৩ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁ, দুই দশকে তা বেড়েছে প্রায় ৩০ গুণ। বৃদ্ধির হারও সবচেয়ে বেশি ছিল ২০২১ সালে। অবশ্য মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি’র হিসাবে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে থাকে ৭১ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সুইজারল্যান্ডে গোপনীয়তা কমতে থাকায় অনেক ধনী এখন অবৈধ টাকা জমা রাখার জন্য ঝুঁকছেন লুক্সেমবার্গ, কেম্যান আইল্যান্ড, বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড কিংবা বারমুডা’র মতো ট্যাক্স হ্যাভেনের দিকে।
 

পাঠকের মতামত

জয় বাংলা ছাড়া আর কিছু বলার নাই।

আবদুল মতিন
১৭ জুন ২০২২, শুক্রবার, ৪:২২ পূর্বাহ্ন

দেশে অর্নিবাচিত সরকার থাকলে যা হয়। ছোট কালে বড়দের কাছে শুনতাম চোরের মার বড়গলা।বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের আমলে চুরির টাকায় সুইচ ব‍্যাংক ভর্তি হয়ে যাচ্ছে আর সরকার প্রধান সহ খালেদা জিয়ার দুই কোটি টাকা নিয়ে রাতদিন জনগণের কান পেঠে দিচ্ছে। মানুষ সব বুঝে সাহস থাকলে সুষ্ট নির্বাচন দিন। অন্তন জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ দিন।

Ohidul alam
১৭ জুন ২০২২, শুক্রবার, ২:০৯ পূর্বাহ্ন

দেশ লুটের পয়সা কিভাবে বাইরে চলে যচ্ছে

Manik
১৭ জুন ২০২২, শুক্রবার, ১:৫৯ পূর্বাহ্ন

Tara Desher Manusher Vhaggo Unnoyener Janno Swice bank taka joma Rakhse nijer janno noy.

md abdus salam
১৭ জুন ২০২২, শুক্রবার, ১:১৬ পূর্বাহ্ন

সবই একটি নির্দিষ্ট দলের লোক, ওরা ঊন্নয়নের নামের সব টাকা লোপাট করে নিয়ে রেখেছে সুইস ব্যাংকে। ওরা কারা সবাই খুব ভাল করে দেশের মানুষ জানে। পদ্মা সেতু, মেট্ররেল, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৩ থেকে এমনকি ৬ গুন হয়ে যায়। এই লোপাটের টাকার একটিমাত্র অংশ যায় সুইস ব্যাংকে, বাকিটা কোথায় যায় আল্লাহ মাবুদ জানে। অথচ এর প্রতিটি পয়সা দেশের মানুষের রক্তের পয়সা, ট্যাক্সের টাকা। তথচ দেশের মানুষ চু----প করে বসে আছে।

শহিদ
১৬ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

এই টাকা মালিক কারা বাংকের মালিক জানালে বাংলা দেশের মানুষ উপর কিত হত

Abu Sayed
১৬ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

সবি উন্নয়নের হাওয়া...

Feroz alam
১৬ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অর্থ-বাণিজ্য থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com