অর্থ-বাণিজ্য
লাইটক্যাসল পার্টনার্স এর বার্ষিক প্রতিবেদন
বাড়ছে উৎপাদন খরচ, বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম
স্টাফ রিপোর্টার
(১ বছর আগে) ২০ অক্টোবর ২০২৩, শুক্রবার, ৫:০৮ অপরাহ্ন

বর্তমানে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যকে গতিশীল, সহজীকরণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে পাঁচটি মূল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা জরুরি। এগুলো হচ্ছে- শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, প্রান্তিক উপকারভোগীদের জন্য গৃহীত নীতি বাস্তবায়ন না হওয়া, আর্থিক সুযোগ সুবিধায় প্রবেশগম্যতা না থাকা, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া ও অদক্ষ মানব সম্পদ।
দেশের বিজনেস কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ‘দি লাইটক্যাসল বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স ২০২২-২০২৩ (বি সি আই)’ শিরোনামে প্রতিবেদনটির পঞ্চম সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। এই উপলক্ষ্যে সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশে অস্বাভাবিকভাবে শিল্পের কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই কারণে জিনিসপত্রের দামও মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়। এভাবে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ জীবন যাপনের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বি সি আই ২০২৩ কিছুটা ইতিবাচক থাকলেও তা আগের বছরের (বিসিআই, যা +২৮.৬৯) তুলনায় কম, যা সামগ্রিক ব্যবসা বাণিজ্যে সূক্ষ্ম অবনতির ইঙ্গিত বহন করে। এর কারণ, লক্ষ্য অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি, ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও ভোক্তার চাহিদা কমে যাওয়া।
এতে উল্লেখ করা হয়, তবে এরমধ্যে আশাব্যঞ্জক খবর হচ্ছে, এই সময়ে পোশাক শিল্পে রফতানি আয় আগের চেয়ে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানির (বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স-বিসিআই, যা +৬.৩১) তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ((বিসিআই, যা +১৪.৯১) তুলনামূলক ভালো করেছে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে: যুদ্ধে বিশ্ববাজারে বৃহত্তর সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা।
দেশের খ্যাতনামা বহুজাতিক কোম্পানি, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেশন, স্থানীয়ভিত্তিক ব্যবসায়িক সংগঠন, স্টার্ট-আপ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এস.এম.ই)সহ প্রতিনিধিত্বকারী ১৬৭টি ব্যবসায়িক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ২৫টিরও অধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশ, বিশ্ব বাজার পরিস্থিতি, সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও শিল্প খাত, দেশে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় ব্যবসায়ের গতি প্রকৃতি, অর্থনীতির অবস্থার গভীর পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর নিরিখে এই ফলাফল উঠে আসে।
প্রতিবেদনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বেসরকারি খাতে যে প্রভাব পড়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। এতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে- চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসায়িক আস্থা বাড়ানো, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রচারের কৌশল গ্রহণ করা, মুদ্রাস্ফীতি কমানো, শিল্পে কাঁচামালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ইত্যাদি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের অক্টোবরে খাদ্য মুল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫০ শতাংশ, ২০২৩ সালের মার্চে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশ। একই সময়ে (২০২২ সালের অক্টোবর) মুদ্রাস্ফীতি ৮.৯১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৩৩ শতাংশে (২০২৩ সালে মার্চে) উপনীত হয়। প্রতিবেদনে খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০২২ এর সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতি পরিবারে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২২ সালে খাবারের খরচ বৃদ্ধি ও পরিবারের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে আশার কথা এই যে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য সামগ্রী, টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিজাত পণ্য রফতানি আয় কমলেও এই সময়ে পোশাক খাতে রফতানি আয় তুলনামূলক বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে এই খাতে রফতানি আয় ছিল ৪২.৬১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দাঁড়িয়েছে ৪৬.৯৯ বিলিয়ন ডলার।
এ সম্পর্কে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, এই রিপোর্টে অর্থনীতির এমন কিছু সূচক উঠে এসেছে, যা দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে তুলে ধরে। দেশের নীতি নির্ধারক, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এই ‘বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স’ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনগুলোতে কাজে লাগাতে পারেন।