রিসেট

৫০০ বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চায় জাহিদ সরকার

প্রকাশিত: ২৬ জুন (সোমবার), ২০২৩ Archive 2022Source: প্রতীক ওমর, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

এস এ জাহিদ সরকার। একেবারেই তরুণ। শিক্ষাজীবন শেষ করে এক মুহূর্ত বসে থাকেননি তিনি। তারুণ্যের উদ্দীপনায় অনেকটা ঝাঁপিয়ে পড়েন ব্যবসার মাঠে। অল্প সময়ের ব্যবধানে জাহিদ নিজের অবস্থানকে মজবুত করতে সক্ষম হয়েছেন। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জাহিদ এখন রীতিমতো অনুপ্রেরণার নাম। তিনি ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০০ বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান। জাহিদ সরকার জয়পুরহাটে জন্ম নিলেও বেড়ে ওঠা এবং ব্যবসার ক্ষেত্র বগুড়ায়। 

কীভাবে এত দ্রুত সফল হলেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ মানবজমিনকে বলেন, কোভিড ১৯ মহামারি জনজীবনকে থমকে দিয়েছিল। কিন্তু এই লকডাউন আর ঘরে আটকে থাকাটাই আমার জন্য ব্যবসার দ্বার উন্মুক্ত করে। বিশেষ করে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার জন্য। জনসমাবেশে চলাফেরার ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাজারে গিয়ে কেনাকাটা না করতে পারা। এক ধরনের একঘেয়েমি ও হতাশাপূর্ণ জীবন থেকে মুক্তি পেতেই মানুষ টানা দুই বছরে ঝুঁকেছেন অনলাইন শপিং-এ। আর এই সুযোগে শুরু করে ফেললেন ইনটেক এগ্রো এন্ড ফুড প্রডাক্টস্‌ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। 

জাহিদ বলেন, আমার ব্যবসার শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। ২-৩ জন পার্টনার নিয়ে শুরু করলেও তারা আস্তে আস্তে সবাই চলে যায়। শত বাধা আর প্রতিকূলতার মধ্যেও আমি দমে যাইনি, নিরাশ হইনি। যেখানে আমি বেকারত্ব নিয়ে দিশাহারা ছিলাম, সেখানে আজ আমি ১৫ থেকে ২০ জন যুবকের বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। প্রতি মাসে আমি অফিসের সব খরচের ব্যবস্থা করে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতন দেই।

তিনি আরও বলেন,  ১২ শতক জায়গায় তেল এবং মসলার কারখানা করেছেন। ১টি মিনি কাভাডভ্যান ক্রয় করেছেন। www.intactagro.com নামে ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন এবং ইনটেক এগ্রো নামে একটি মোবাইল অ্যাপস তৈরি করেছেন যা গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। ভিন্ন ভিন্ন চাষিদের মধ্যে ন্যাচারাল পণ্য ভোক্তাদের কাছে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করে আসছেন। এ ছাড়াও পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। এখান থেকেও ভালো টাকা আয় হয়। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়াসহ সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে সেই পুকুর থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করেন। 

এদিকে ব্যবসায় সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কথাও জানান ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এস এ জাহিদ সরকার। তিনি বলেন, একটা সময়ে এ ব্যবসায় অনেক বেশি লাভ করা যেতো। কিন্তু ব্যবসায় প্রতিযোগী বেশি হওয়ায় এবং বর্তমানে সব জিনিসের দাম বৃদ্ধিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। কোনো কোনো মাসে লাভের বদলে লোকসানও গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বড় বড় উদ্যোক্তাদের কারণে আমাদের মতো মাঝারি বা ছোট উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা কষ্টকর দাঁড়িয়েছে। তারা বাজার দখলে নিয়েছে। তারা বেশি উৎপন্ন করে কম দামে বেশি বেশি সেল করে পুষিয়ে নেন। কিন্তু আমাদের মতো ক্ষুদ্র বা মাঝারি উদ্যোক্তাদের চাহিদা কম। আমরা কম উৎপন্ন করছি, কিন্তু বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি না। জাহিদ সরকার বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করে দেয় তাহলে আমার মতো শত শত বেকার ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে বেকারদের কাজে লাগনোর অনুরোধ সংশ্লিষ্টদের।