রিসেট

সরকার পতনে গণঅভ্যুত্থানের আহ্বান ইনসাফ কমিটির

প্রকাশিত: ১২ মে (শুক্রবার), ২০২৩ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। কিন্তু তারা বাংলাদেশে এসে কাউকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যাবে না। অন্যের দিকে তাকিয়ে থেকে গণতন্ত্র আসবে না। ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে হলে সেই ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। রাজপথে নামতে হবে। গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করতে হবে। কেউ কমিউনিস্ট হতে পারে, কেউ ইসলামি হতে পারে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।  পৃথিবীর কোথাও সম্মিলিত আন্দোলন ছাড়া গণতান্ত্রিক মুক্তি আসে নাই। এই যাত্রায় ফ্যাসিস্টের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষার বিকল্প নেই। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার ও বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশিষ্ট কবি, লেখক ও জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটির আহ্বায়ক ফরহাদ মজহার এসব কথা বলেন।  তিনি আরও বলেন, মতিঝিলে কীভাবে হেফাজতকে দমন করা হয়েছে সেটা সবাই দেখেছে। ধর্ম পালন করার অধিকারও মানবাধিকারের মধ্যে পড়ে। তবে হেফাজতের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। সার্বভৌম রাষ্ট্রে ব্যক্তির অধিকার হরণ করতে পারে না। যারা জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা হরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। সেই ক্ষমতা আবার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। যেকোনো আন্দোলন ও বিদ্রোহই  মানবাধিকার।  ফরহাদ মজহার বলেন, আন্দোলনের নামে লম্বা লম্বা ফর্দ ও দফা দিয়ে কাজ হবে না। কেন তুমি দফা দিবা? জনগণের তো স্বীকৃত অধিকার আছে আন্দোলন করার। তাহলে এত দফা কেন? আন্তর্জাতিক আইনে আছে, রাষ্ট্র যদি আপনার অধিকার হরণ করে নেয় এবং নিজেকে সার্বভৌম দাবি করে তাহলে এটাকে উৎখাত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বাংলাদেশের সমস্যা বাংলাদেশের জনগণকেই সমাধান করতে হবে। দেশের জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। গণঅভ্যুত্থান কখনোই বেআইনি না। মুক্তিযুদ্ধ কি বেআইনি কোনো কাজ ছিল? অবশ্যই ছিল না। আন্দোলন মানেই বিদ্যমান আইনকে চ্যালেঞ্জ করা। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন বলে কিছু নেই। দেশে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা চলছে বলে মনে করে জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি। গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া বলেন, ছাত্রলীগ একটি স্বীকৃত ষন্ত্রাসী বাহিনী। তারা সন্ত্রাসী কাজ করার সনদ পেয়েছে। আমি বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের একটা সমালোচনা করবো। তার উচিত হয়নি আওয়ামী লীগের মতো একটি গোখরা সাপকে বাঁচিয়া রাখা। তিনি আওয়ামী লীগকে দলীয় অফিস দিয়েছেন। ওটা তখন পাকিস্তানিদের প্রপার্টি ছিল। এটা জিয়া সাহেব দান করেছিলেন। আলোচনায় ইনসাফ কায়েম কমিটির সদস্য সচিব ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ বলেন, মিছিল-সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা, সেটার জন্য অনুমতি নিতে হয় পুলিশের কাছ থেকে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ বাস্তবায়নে গণজাগরণ সৃষ্টি করা হবে। সভায় আরও বক্তব্য দেন হিউম্যান রাইটস মিশনের চেয়ারম্যান ড. আবদুল মালেক ফরাজী, বাংলাদেশ পুনর্গঠন আন্দোলনের সভাপতি মহসিন রশীদ, জাতীয় সংহতি মঞ্চের নেতা আশরাফুল হক, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক খালেদ সারোয়ার প্রমুখ।