ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৪, রবিবার, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

বিশ্বজমিন

ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট

আদানির সঙ্গে বাংলাদেশের অস্বাভাবিক চুক্তিতে গোপনীয়তা

গেরি শিহ, অনন্ত গুপ্ত

(১ বছর আগে) ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বুধবার, ৯:৫৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

mzamin

ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জে এক আবেদন অনুযায়ী, গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানি থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে বিদ্যুৎ চাইছেন বাংলাদেশি কর্মকর্তা। বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে মঙ্গলবার। এর মধ্যদিয়ে ভারতের বিলিয়নিয়ার গৌতম আদানির বিপুল পরিমাণ ‘স্ক্রুটিনি’র লক্ষণ বেরিয়ে এলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক খবরে একথা লিখেছেন সাংবাদিক গেরি শিহ এবং অনন্ত গুপ্ত। এতে বলা হয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়ার কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে ৩রা ফেব্রুয়ারি। তা মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে স্টক এক্সচেঞ্জ। এতে আদানি পাওয়ার ভারতের নিয়ন্ত্রকদের বলেছে যে, লোভনীয় বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে ডিসকাউন্ট বিবেচনা করতে আমাদের কাছে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু তা বছরের পর বছর রয়েছে গোপনীয়তায় আবৃত।
পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) চুক্তি ১৬৩ পৃষ্ঠার। গোপন এই চুক্তি ডিসেম্বরে হাতে পেয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং তারা এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন
এই গোপন চুক্তির অধীনে দরিদ্র ও ঋণের ভারে জর্জরিত বাংলাদেশ আদানি প্রতিষ্ঠিত কয়লাচালিত নতুন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুতের জন্য উচ্চ মূল্য পরিশোধ করবে। গৌতম আদানি হলেন- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের মিত্র। তাদের কাছ থেকে যে মূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে তা অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। উপরন্তু এতে যেসব শর্ত রয়েছে তাতে অস্বাভাবিক শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে আছে কয়লার মূল্য বেঁধে না দেয়া। এর অর্থ হলো- বাংলাদেশ উচ্চ মূল্য চার্জ করতে পারেন আদানি। তিনি নিজস্ব শিপিং নেটওয়ার্ক এবং কয়লা হ্যান্ডেলিং বিষয়ক পোর্টের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি করবেন বলেই মনে হচ্ছে। 
২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর আদানি এবং বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ)। সফরে ভারতীয় নেতৃত্ব বাংলাদেশ সরকারের কাছে বাংলাদেশে ভারতীয় ব্যবসাকে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করেন। 
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আদানির সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি কর্মকর্তারা। স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, তারা এর শর্ত নিয়ে নতুন করে সমঝোতা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু এ সপ্তাহে ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে লেখা চিঠিতে আদানি পাওয়ার বলেছে, বিদ্যুৎ কেনা বিষয়ে এই চুক্তি নতুন করে আলোচনা করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আদানির মুখপাত্র বর্ষা চাইনানি। এমনকি অনুরোধ করলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। 
ওদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আদানির সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্কাগতিতে। ভারত সহ আন্তর্জাতিক ব্যবসা সার্কেলে তিনি সবার নজরে এসেছেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহে তার সাতটি  কোম্পানি পাবলিক ট্রেড করে মারাত্মক লোকসান খেয়েছে। বাজারে হারিয়েছে কমপক্ষে ১০০০০ কোটি ডলার।  এটা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হিন্ডেনবার্গ রিসার্স প্রকাশিত ২৪শে জানুয়ারির এক রিপোর্টের পর। এতে তার ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন আদানির শীর্ষ নির্বাহীরা। তারা বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমালোচনা ভারতের ওপরও আঘাত হেনেছে। 
গত বছর ওয়াশিংটন পোস্ট একটি তদন্ত করে। তাতে দেখা যায়, আদানি পাওয়ার বিষয়ক প্রকল্প ব্যাপকভাবে আয়কর নীতি ভঙ্গ করেছে। আইন পরিবর্তন করা হয়েছে মোদি সরকারের অধীনে। এর ফলে এই বিলিয়নিয়ারের প্রতিষ্ঠান কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলার সেভ করতে সক্ষম হয়েছে। 
 

(অনলাইন দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ) 
 

বিশ্বজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত

প্রেমের টানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেনীতে/ পঞ্চাশোর্ধ নারী ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করলেন ২৫ বছরের যুবককে

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status