ঢাকা, ২২ মে ২০২২, রবিবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

মত-মতান্তর

ভাষা আন্দোলন ও আমাদের স্বাধীনতা

ড. শরীফ আস্-সাবের

(১ মাস আগে) ২০ এপ্রিল ২০২২, বুধবার, ১২:৫২ অপরাহ্ন

মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা

- অতুলপ্রসাদ

৫২’র ভাষা আন্দোলন বাংলা ভাষা ও বাঙালী জাতির ইতিহাসে একটি অবিস্মরনীয় অধ্যায়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য যে আন্দোলন, তা শুধু ভাষা অধিকার আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশভাগ পরবর্তী এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রথমবারের মত শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ যা তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে গোটা বাঙালী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে তুলে। এর ফলে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকদের শোষন, বঞ্চনা এবং কপটতা স্পষ্ট হয়ে উঠে এবং বাঙালী মানসে স্বাধিকার আকাঙ্খা জাগ্রত হয়। একই সময়ে, ভাষা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক এবং কর্মসংস্হান সংশ্লিষ্ট বৈষম্যও প্রকট হতে থাকে।

দেশভাগের পরপরই ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্কের শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে তমুদ্দীন মজলিশ প্রকাশিত এক পুস্তিকায় কাজী মোতাহার হোসেন বলেন, ‘...যদি গায়ের জোরে উর্দুকে বাঙালি হিন্দু-মুসলিমের উপর রাষ্ট্রভাষা রূপে চালাবার চেষ্টা হয়, তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ, ধূমায়িত অসন্তোষ বেশী দিন চাপা থাকতে পারে না। শীঘ্রই তাহলে পূর্ব-পশ্চিমের সম্বন্ধের অবসান হবার আশংকা আছে।’ এই পুস্তিকা প্রকাশের অব্যবহিত পরেই ১৯৪৮ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাকে অবজ্ঞা করে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষনা করেন।

 

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে দেশের আপামর বাংলা ভাষাভাষী মানুষ, সূচনা হয় ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের। সেই আন্দোলনে অংশগ্রহকারী অকুতোভয় ভাষা সৈনিকেরাই প্রথমবারের মত বাঙালী জাতিসত্তাকে তুমুলভাবে নাড়া দিয়েছিলেন, বাংলার আপামর মানুষকে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, এবং প্রকারন্তরে তাঁরাই স্থাপন করেছিলেন স্বাধীনতার প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর!

বাংলাদেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক, ভাষা সৈনিক সুফিয়া আহমেদ এর মতে, ভাষা আন্দোলনেই পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য, এই আন্দোলনে মমতাজ বেগম, সুফিয়া আহমেদ, রওশন আরা বাচ্চু, সারা তৈফুরসহ বিপুল সংখ্যক মহীয়সী নারীও পুরুষদের পাশাপাশি সমান তালে মাঠে নেমেছেন, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছেন, যাঁদের অনেকে জেল পর্যন্ত খেটেছেন।

নবসৃষ্ট পাকিস্তানে বাঙালীরা তাদের প্রতিশ্রুত সুযোগ সুবিধা থেকে ছিল বঞ্চিত

বিজ্ঞাপন
তাদের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষাও কোনরূপ পূর্ণতা পায়নি। অর্থনৈতিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক টানাপোড়েন এবং পাকিস্তান এর জাতির পিতা জিন্নাহসহ পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বিমাতাসুলভ আচরণে অতিষ্ঠ বাঙালী যখন কিংকর্তব্যবিমুর, ভাষা আন্দোলন তখন এইসব আন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটি প্রকৃষ্ট সুযোগ হিসাবে সামনে এসে হাজির হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিশ্লেষক বদরুদ্দীন উমর মনে করেন, ‘ভাষা আন্দোলনের কোনো একক রাজনৈতিক নেতা ও নায়ক ছিল না। জনগণই ছিলো তার প্রকৃত নায়ক।’ এ বিষয়ে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, ১৯৪৭ এর আগের ‘আমরা মুসলমান’ ধারনাটি পরিবর্তিত হয়ে ৪৭-পরবর্তী সময়ে ভাষাভিত্তিক পরিচয়টিই প্রধান হয়ে উঠে।

বাংলাকে কোণঠাসা না করার জন্য ১৯৪৭ এ তমুদ্দুন মজলিশের পরামর্শ অবজ্ঞা করে ১৯৪৮ এ জিন্নাহ কর্তৃক উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা এবং ৫২’র উন্মাতাল ফেব্রুয়ারী দেশের সকল স্তরের মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। তবে, বাঙালীর ক্ষোভ এবং হতাশা শুধুমাত্র ভাষায় সীমাবদ্ধ ছিলো না। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক বাংলা ভাষার অমর্যাদাসহ বাঙালীর স্বার্থবিরোধী সকল অপকীর্তি এবং ষড়যন্ত্র ছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর দুঃশাসন, বৈষম্য ও অবহেলা এই ক্রোধ ও উষ্মাকে এক অনাহুত এবং অপ্রতিরোধ্য বিদ্রোহে পরিণত করে। ক্রমান্বয়ে তা কৃষক, শ্রমিক ও ছাত্র জনতার অংশগ্রহণে এক সার্বজনীন রূপ পরিগ্রহ করে। বদরুদ্দীন উমর এর ভাষ্য অনুসারে, এই আন্দোলন শুধুই ভাষার জন্য আন্দোলন ছিল না, এই আন্দোলন ছিল শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালীর আধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।

৫২’র ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শহীদদের স্মরণে ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতি বছর উদযাপিত হয়ে আসছে একুশে ফেব্রুয়ারী। বাঙালীরা এই দিনটিতে ভাষা সৈনিকদের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এবং পাক হানাদার বাহিনীর শাসন, শোষণ এবং বর্বরতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধিক্কার জানায়। সেই সুবাদে, ভাষা শহীদদের জন্য শোক পরিণত হয় শক্তিতে আর নিয়মিত নবায়ন হয় বাংলার মর্যাদা ও বাঙালীর অধিকার রক্ষার অব্যয় শপথ।

মোদ্দা কথায়, দেশভাগের মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা পূর্ববঙ্গের রাজনীতিতে বয়ে আনে ব্যাপক পরিবর্তন এবং পাকিস্তানের অন্যতম রূপকার মুসলিম লীগ তার জনপ্রিয়তা হারায়। এই পরিস্থিতিতে, ১৯৫৩ সালে মুসলিম লীগকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে তিন জনপ্রিয় নেতা, মওলানা ভাসানী, শের এ বাংলা ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর যৌথ নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রথম দফাটিই ছিল ‘বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা’। ভাষা বিষয়ে আরও দুইটি অন্যতম দাবী ছিল, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ ঘটনাস্থলে শহীদ মিনার নির্মাণ ও শহীদদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া’ (দফা ১৭) এবং ‘একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস এবং সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষনা’ করা (দফা ১৮)। যদিও এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রচারণার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আদায়, পশ্চিম পাকিস্তানী স্বৈরাচার এর নাগপাশ থেকে মুক্তিও তাঁদের নির্বাচনী ইস্তেহারের অংশ ছিল। তদনুসারে, ইস্তেহারের ১৯ দফায় পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবী করা হয়। ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুলভাবে জয়লাভ করে এবং মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়। এই বিজয় ভাষা ও স্বায়ত্বশাসন আন্দোলনে নতুন তেজ ও গতির সঞ্চার করে এবং ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলনের মুখে অবশেষে ১৯৫৪ সালের ৭ই মে পাকিস্তান গণপরিষদ অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেয়। এ ছাড়া, ভাষা আন্দোলনকারীদের দাবীর প্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালে সরকার বাংলা ভাষার প্রসার ও গবেষণার জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঢাকায় বাংলা একাডেমী চালু করেন। চূড়ান্তভাবে, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হলে ২১৪ নং অনুচ্ছেদে বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়।

বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বাঙালী ও বাংলা ভাষার প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ শেষ হয়ে যায়নি। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পর নতুন করে নতুন আঙ্গিকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয় যার অংশ হিসেবে তদানীন্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব এস এম শরীফ এর নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের উদ্দেশ্যে একটি কমিশন গঠন করা হয়। ‘শরীফ কমিশন’ নামে পরিচিত এই কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট ২৭ অধ্যায়ে বিভক্ত একটি প্রতিবেদন সরকারের বিবেচনার জন্য দাখিল করে।

কমিশন বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যাবস্থার পাশাপাশি ভাষা এবং বর্ণমালা বিষয়ক কতিপয় পরামর্শ প্রদান করে যা ছিল বাংলা ভাষাভাষী নাগরিকদের স্বার্থবিরোধী। প্রতিবেদনে ষষ্ঠ থেকে স্নাতক শ্রেণী পর্যন্ত ইংরেজি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া পাকিস্তানের সর্বজনীন ভাষা হিসাবে উর্দুর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং উর্দু ও বাংলা ভাষার মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সেই উদ্দেশ্যে, কমিশন উভয় ভাষার জন্য অভিন্ন বর্ণমালার সুপারিশ করে এবং রোমান হরফের সাহায্যে বাংলাসহ পাকিস্তানী ভাষাসমূহকে সরলীকরণ করার প্রস্তাব করে। এই প্রস্তাবটিকে অনেকটাই উর্দু হরফে বাংলা লেখার বিকল্প হিসাবে দাঁড় করানো হয়।

১৯৬২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর শরীফ কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়নের ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পূর্বাঞ্চলের মানুষ। শিক্ষা সঙ্কোচন এবং বর্ণমালা নিয়ে প্রচ্ছন্ন ষড়যন্ত্র এই বিক্ষোভের সম্যক কারণ হলেও শিক্ষানীতিসহ পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে অসন্তোষ এবং বিরোধিতাও এই বিক্ষোভের অংশ ছিল। দেশব্যাপী এই আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ নাম না-জানা অনেকেই এবং সারা বাংলায় অসন্তোষ ও আন্দোলন নতুন করে দানা বেঁধে উঠে। ফলশ্রুতিতে, সরকার শরীফ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি। পুনরায়, আইউব খানের সরকার ১৯৬৪ সালে বিচারপতি হামুদুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি গণবিরোধী শিক্ষা কমিশন গঠন করে। তবে, প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে হামুদুর কমিশন কৃত রিপোর্টটিও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয় সরকার।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়, ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের তদানীন্তন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘৬ দফা’ দাবীনামা পেশ করেন। ছয় দফা দাবীর মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র পরিণত করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা দাবীর পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলনের সূচনা হয় যা পরিণতি পায় ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে। আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ দেশে সামরিক শাসন জারি করেন এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।

১৯৭০ এর ৭ই ডিসেম্বর প্রথম এবং শেষবারের মত অনুষ্ঠিত হয় অবিভক্ত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন যাতে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করেই ১৯৭১ এর ১লা মার্চ সেনাশাসক ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করায় উদ্বেগ, অস্থিরতা এবং বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশের মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমান এক জ্বালাময়ী ভাষণে বাঙালীর স্বাধিকার আদায়ে গণআন্দোলনের ডাক দেন এবং বলেন, "এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম”। একই সাথে, শেখ মুজিবুর রহমান শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ইয়াহিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান। কিন্তু আকস্মিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঢাকা শহরে নির্বিচার গণহত্যা শুরু করে ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে। সেই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। ফলশ্রুতিতে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ভাষার দাবী নিয়ে সেই আন্দোলনের সমাপ্তি হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের মধ্য দিয়ে।

লেখকঃ ড. শরীফ আস্‌-সাবের, শিক্ষক, লেখক ও সুশাসন বিশেষজ্ঞ। প্রেসিডেন্ট এন্ড সিইও, ‘গভারন্যান্স,অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক’ (গেইন ইন্টারন্যাশনাল)

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com