ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, শুক্রবার, ২০ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ রজব ১৪৪৪ হিঃ

রাজনীতি

পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশ নিয়ে যে অভিযোগ করলেন বিএনপি নেতারা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

(১ মাস আগে) ৪ ডিসেম্বর ২০২২, রবিবার, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪২ অপরাহ্ন

mzamin

ব্যানার, পোস্টার, লিফলেটে ছেয়ে গেছে চারদিক। পুরো জেলাজুড়ে করা হয়েছে মাইকিং, শোভাযাত্রা। রাস্তার মোড়ের ট্রাফিক সংকেত বাতি, সড়কদ্বীপ, বাঁকও ঢেকে গেছে পোস্টার-ব্যানারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলেছে জোরেশোরে প্রচারণা। অবশেষে আজ ৪ঠা ডিসেম্বর।  দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা। সেই  মহাসমাবেশে যোগ দিতে দূরদূরান্ত থেকে মিছিলে মিছিলে শহরে প্রবেশ করছেন নেতাকর্মীরা। বলতে গেলে সকাল থেকেই মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছে বন্দরনগরী। চারদিকে  এখন উৎসবের আমেজ। তবে  সেই আমেজকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন এখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন
দলটি গত ১২ই নভেম্বর ঠিক একই মাঠে বিভাগীয় মহাসমাবেশ করেছিল। সেই সমাবেশে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

বিএনপি  নেতাকর্মীদের দাবি, গত ১২ তারিখে পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে আওয়ামী লীগ এই প্রোগ্রাম দিয়েছে। যেখানে তাদের  পোগ্রাম করতে বাধার পাহাড় ছিলো। আর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে পলোগ্রাউন্ড মাঠে  সমাবেশ করছে। অনৈতিকভাবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগ এই  সমাবেশে উপস্থিতিতে তাদের (বিএনপি) ছাড়িয়ে যেতে চায়।

 

 

পলোগ্রাউন্ড মাঠে আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশ নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আহবায়ক মোশাররফ হোসেন দীপ্তি মানবজমিনকে বলেন, তাদের সমাবেশের সাথে আমাদেরটা মিলিয়ে  লাভ নেই। আমরা রাষ্ট্র যন্ত্রের সকল বাধা ডিঙ্গিয়ে মহাসমাবেশ করেছি। আর তারা রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা নিয়েই মূলত একটি  পিকনিকের আয়োজন করছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও আছে কমপক্ষে ২০ হাজার। আজকে চট্টগ্রামের সরকারি সব অফিস কার্যত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হরিলুটের টাকায় গার্মেন্ট কর্মী থেকে শুরু করে টোকাই পর্যন্ত ভাড়া করেছে সমাবেশের জন্য। শহরের সব বিলবোর্ড দখল করে ব্যানার টাঙ্গিয়েছে। এক মাস ধরে মাইকিং করেছে। কাজেই তাদের  সাথে আমাদের  জনসমাবেশের তুলনা করে লাভ নেই।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে  আজকে সমাবেশ করছে। গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের সমাবেশে আনার জন্য বাধ্য করছে। এ ছাড়া খোলা বাজারে চাউল ক্রয়ের কার্ডধারী সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীসহ সকল স্তরের রাষ্ট্রের সুবিধা ভোগী লোকজনকে সমাবেশে আসতে বাধ্য করছে। গত কয়েকদিন  তারা রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাইক বাজিয়ে সাধারণ নাগরিক বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের  অস্থির করে তুলেছে। নগরীর সাধারণ মানুষ তাদের এহেন কর্মকান্ডে দিশেহারা অবস্থায়। পুলিশ প্রশাসনের সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা নিয়ে এ সমাবেশ হচ্ছে। এখানে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা নেই বললেই  চলে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি আওয়ামী লীগের সমাবেশকে স্বাগত জানাই। সভা সমাবেশ করা সবার অধিকার। তবে সেখানে তো রাষ্ট্রযন্ত্র এভাবে নির্লজ্জ বৈষম্য করতে পারে না। তাদেরকে জামাই আদর করে পোগ্রাম করতে দিচ্ছে। আর আমাদের নেতাকর্মীদের সমাবেশের  কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরপাকড় করেছে। সমাবেশে আসার পথে হামলা করে শতাধিক নেতাকর্মীকে রক্তাক্ত করেছে। 

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ আজকে রাষ্ট্রযন্ত্রকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে সমাবেশ করছে। আর দেশে  জুলুম নিপীড়ন থেকে মুক্তিকামী জনতা আমাদের  সমাবেশে এসেছে। জনগণ পকেটের টাকা খরচ করে আমাদের প্রোগ্রামে এসেছে। আর তারা বিরিয়ানির প্যাকেট আর বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে লোকজন জড়ো করছে।
তিনি বলেন, প্রশাসন আমাদের প্রোগ্রামে প্রচার প্রচারণা চালাতে দেইনি। কোন মাইকিং করতে দেইনি। আর তারা এক মাস ধরে মাইকিং করেছে। শুধুমাত্র তাদের মাইকের আওয়াজেই  নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের লোকজন  যেন একনিষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হয়ে সমাবেশ সফল করার দায়িত্ব নিয়েছে। বিষয়টি আসলে প্রশাসনের জন্য লজ্জার বিষয়।

এদিকে বিএনপির এইসব অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের  সভাপতি এমএ সালাম মানবজমিনকে  বলেন, এরা তো অনেক কথা বলে। সবচেয়ে বড় কথা আমরা চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে সমাবেশ করছি। বাইরে থেকে তেমন কেউ আসার কথা নয়। আর তারা করেছে বিভাগীয় সমাবেশ। এছাড়া তারা সারাদেশ থেকেই লোক নিয়ে এসেছিলো। নেত্রী আসার খবরে আমাদের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও দারুণ খুশি। তারা  নেত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

রাজনীতি সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status