ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বুধবার, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

স্থানীয় রাজনীতির হা ল চা ল- ৫

মানিকগঞ্জে শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ, বাধা-বিপত্তির মুখে বিএনপি

রিপন আনসারী, মানিকগঞ্জ থেকে
২৭ নভেম্বর ২০২২, রবিবারmzamin

মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত মজবুত থাকলেও দলের ভেতর রয়েছে অভ্যন্তরীণ বিরোধ। তবে টানা তিনবার দলটি ক্ষমতায় থাকায় বেড়েছে কর্মী-সমর্থক। আর বিএনপি এখানে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজপথে নামলেই বাধা-বিপত্তি আর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। 

আওয়ামী লীগ: মানিকগঞ্জ জেলা আওয়মী লীগ সাংগঠনিকভাবে বরাবরই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে দলের ভেতর ঠাণ্ডা বিরোধ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এক সময় দলের দুর্দিনে রাজপথ কাঁপানো জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন পরীক্ষিত ও পোড় খাওয়া নেতাকর্মী কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। এদের মধ্যে দলের পদ-পদবি থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন অনেকে। যার কারণে দলীয় কর্মকাণ্ডে অনেক নেতাকর্মীকেই মাঠে দেখা যায় না। পদ-পদবি ও মূল্যয়ন না পাওয়ায় তাদের মধ্যে রয়েছে মান-অভিমানের পাহাড়। আর দলীয় নেতাকর্মীদের রাজনীতির পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছে কার্যত এমপিরা।

বিজ্ঞাপন
জেলার ৩টি আসনের মধ্যে দু’টি আসনের এমপিদের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিরোধ চরমে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, দলের পরীক্ষিত নেতাদের চাইতে হাইব্রিডদের মূল্যায়ন বেশি। সর্বশেষ জেলা আওয়ামী লীগের ভেতর অভ্যন্তরীণ বিরোধ জনসম্মুখে প্রকাশ পায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন মাত্র ২৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পাওয়ায় এ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। এই কষ্টার্জিত জয়ের পেছনে দলের ভেতর মতবিরোধ ক্ষীণ হলেও অনৈক্যের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান এডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন। শেখ রাসেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এ নিয়ে গোলাম মহীউদ্দিন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালামের মধ্যে প্রকাশ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। গোলাম মহীউদ্দিন সেদিন ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একটা নাম নাজানা অখ্যাত লোকের সঙ্গে কনটেস্ট করে আমাকে জিততে হয়েছে। কোন শক্তির বলে সে আমাকে প্রায় খেয়েই ফেলেছিল। ছোট্ট হলেও আমাদের ভেতর মতবিরোধ আছে এবং ক্ষীণ হলেও অনৈক্য আছে। ছোট্ট মতবিরোধ ও ক্ষীণ অনৈক্য নিয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কী করে আমরা জাহিদ মালেক স্বপন, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মমতাজ বেগম কিংবা যারাই মনোনয়ন পান না কেনো তাদের জেতাবো। এটা ভাবতে হবে।’ 

এদিকে দীর্ঘ ৭ বছর পর আগামী ৭ই ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে সরগরম আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ব্যানার, বিলবোর্ড ও বড় বড় তোরণে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এই সম্মেলন ও নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল মানবজমিনকে বলেন, দলের ভেতর সমস্যা অবশ্যই রয়েছে। সেই সমস্যার কারণেই গেল জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমরা ছুঁই ছুঁই করে জয়লাভ করেছি। আসলে আমাদের পরাজয়ই হয়েছে। এটা মূলত নেতৃত্বের কারণে হয়েছে। দলের নেতৃত্ব যদি দীর্ঘদিন একটা জায়গায় থাকে তাহলে তাদের প্রতি মানুষের অনিহা চলে আসে, এটাই তার বহিঃপ্রকাশ। দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যার অবসান করতে হলে নতুন নেতৃত্ব আসতে হবে। দলের সমস্ত নেতাকর্মীরা চায় পরিবর্তন এবং নতুন নেতৃত্ব। আমি মনে করি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে দলের ভেতর অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকবে না। 

বিএনপি: মানিকগঞ্জ এক সময় বিএনপি’র শক্ত ঘাঁটি ছিল। ভোটের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় জেলার ৪টি আসনই ছিল বিএনপি’র একক দখলে। প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নু ও সাবেক মন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়ার মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদদের একক আধিপত্যে দীর্ঘ সময় ভোটের মাঠে বিএনপি’র সঙ্গে টেক্কা দিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সারা দেশের প্রেক্ষাপটে মানিকগঞ্জের সবগুলো আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। সে নির্বাচনের পর থেকেই মূলত জেলা বিএনপি’র রাজনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খায়। তার আগে জেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল সিনিয়র নেতাদের মধ্যে। ২০১৩ সালে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে আফরোজা খান রিতাকে জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত করায় বিরোধ সিংগভাগই কমে যায় বলে বিএনপি’র দাবি। এরপর ২০২১ সালের ১৪ই মার্চ জেলা বিএনপি’র সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দ্বিতীয় বারের মতো আফরোজা খান রিতা সভাপতি ও এসএ জিন্নাহ কবীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় জেলা বিএনপি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আন্দোলন সংগ্রামে দলকে সুসংগঠিত করতে এ কমিটির নেতৃত্বে জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সক্রিয়। তবে বিএনপি’র দাবি দীর্ঘদিন দল ক্ষমতার বাইরে থাকায় মানিকগঞ্জে বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালালেও দলীয় নেতাকর্মীরা একের পর এক রাজনৈতিক মামলার গ্যাড়াকলে আটকে পড়েছে। ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হচ্ছে নানা কৌশলে। 

জেলা বিএনপি’র সভাপতি আফরোজা খান রিতা মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল। বিএনপি’র জন্মলগ্ন থেকেই মানিকগঞ্জে দলের শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে। অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবেই আমাদের দলীয় সকল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বড় দলের ভেতর কিছু মতবিরোধ থাকতেই পারে। তবে সেগুলো তুচ্ছ। কর্মী-সমর্থকরা সবাই ধানের শীষের সঙ্গেই আছে এবং থাকবে। মামলা-হামলার পরও, শত বাধা পেরিয়েও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ইস্যুতেই আমরা মাঠে আছি। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।

 

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status