ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

ডেঙ্গু রোগী কমছে

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
২৪ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবারmzamin

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া ডেঙ্গু জ¦র নিয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। ১৩ নম্বর বেডের পাশে বসেই মাথায় হাত  বুলিয়ে দিচ্ছেন তার মা। সে ২২শে নভেম্বর ভর্তি হয় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত ৩১ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে। তার মা জানান, মেয়ের প্রচ- জ¦র ছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই এলাকায় প্রচুর নতুন ভবন হচ্ছে। এসব জায়গায় পানি জমে থাকছে। আর সেখান থেকেই এডিস মশা হতে পারে বলে তার ধারণা। একই হাসপাতালে ডেঙ্গু জ¦র নিয়ে গতকালই ভর্তি হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী মীম। তার স্বামীও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন কয়েকদিন আগে।

সরজমিন দেখা যায়, সরকারি ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. এসএম জিয়াউল বারী (রুবেল) মানবজমিনকে বলেন, গত মাসের মাঝামাঝি থেকে চলতি মাসের শুরুতে ডেঙ্গু রোগী শয্যার চেয়ে বেশি ছিল। এখন অনেকটাই কমেছে। কেন এ বছর ডেঙ্গু রোগী বেড়েছিল জানতে চাইলে তিনি ধারণা দিয়ে বলেন, কামরাঙ্গীরচরের আদি বুড়িগঙ্গা নদীর চ্যানেলটি এবছর পরিষ্কার করা হয়েছে। হয়তোবা সেখানকার কোনো স্বচ্ছ পানি থেকে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর এলাকার বাসিন্দারা একটু কম সচেতন। ওই এলাকা থেকে বেশি রোগী তার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবার। 

এদিকে এবছর প্রায় দিনই নয়া রেকর্ড গড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ততে। মৃত্যুতেও এবছর নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, এখন পর্যন্ত ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১৪৫ জন ঢাকা মহানগরীতে এবং ঢাকার বাইরে ৯৫ জন মারা গেছেন। ২০০০ সালে দেশে ডেঙ্গু আসার পর এটাই এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ ছাড়া ডেঙ্গুতে চলতি মাসে সর্বোচ্চ ৯৯ জনের মৃত্যু দেখলো দেশবাসী। এবছর প্রায় প্রত্যেক জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। 

ডেঙ্গুর প্রকোপ কখন কমতে পারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মানবজমিনকে বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চলতি মাস থেকে ধীরে ধীরে কমে আসবে। তবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হবে না। 
দেশের খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা চিকিৎসকরা যেসব সাধারণ উপসর্গ দেখি, এবার চিত্র কিছুটা ভিন্ন মনে হচ্ছে। আক্রান্তরা অল্প জ্বরেও দু-একদিনের মধ্যে কাবু হয়ে যাচ্ছে। এবার যেহেতু ডেঙ্গু ও করোনা সংক্রমণ সমানতালে চলছে, তাই প্রথম পরামর্শ হলো জ্বরের শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। জ্বর অল্প, সমস্যা হবে না, এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা যেকোনো মুহূর্তে খারাপ হতে পারে।

সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে গতকাল বলা হয়, ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এবছর এখন পর্যন্ত ২৪০ জনের মৃত্যু হলো। এরমধ্যে ১৪৫ জন ঢাকা মহানগরীতে এবং ঢাকার বাইরে ৯৫ জন। ২০০০ সালে দেশে ডেঙ্গু আসার পর এটাই এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু। শনাক্ত সামান্য কমে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৭৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২ জনে। চলতি বছরে ৫৪ হাজার ৪০৫ ডেঙ্গু রোগী সারা দেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ৩৪ হাজার ৮৮৮ জন রাজধানী ঢাকায় এবং ১৯ হাজার ৫১৭ জন রোগী ঢাকার বাইরের রয়েছেন। অক্টোবরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২১ হাজার ৯৩২ জন এবং মারা গেছেন ৮৬ জন।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪৭৭ জনের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ২৬২ জন এবং ঢাকার বাইরে ২১৫ জন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ৪৭৭ জনসহ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২ জনে। ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১ হাজার ১৭৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ৯০৭ জন। এতে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ২৩শে নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে সর্বমোট রোগী ভর্তি ছিলেন ৫৪ হাজার ৪০৫ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছিলেন ৫২ হাজার ৮৩ জন। এই বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

মাসভিত্তিক রোগী ভর্তি বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২০ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৩ জন, মে মাসে ১৬৩ জন, জুনে ৭৩৭ জন ভর্তি এবং মারা গেছেন ১ জন, জুলাইয়ে ১ হাজার ৫৭১ জন ভর্তি এবং মারা গেছেন ৯ জন, আগস্টে ৩ হাজার ৫২১ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা গেছেন ১১ জন। সেপ্টেম্বর মাসে ৯ হাজার ৯১১ জন ভর্তি হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২১ হাজার ৯৩২ জন এবং মারা গেছেন ৮৬ জন। চলতি মাসে মারা গেছেন ৯৯ জন। এটাই এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ মাসে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৩৮১ জন। 

২০১৯ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত এটাই এক বছরে সর্বোচ্চ ভর্তি রোগী। সে বছর মৃত্যু হয়েছিল ১৬৪ জনের। ২০১৮ সালে ১০ হাজার ১৪৮ জন  ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, মৃত্যু হয় ২৬ জনের। ২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তেমন দেখা না গেলেও ২০২১ সালে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জন মারা যান।

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

অ্যাকশনে পুলিশ, নিহত ১, রিজভী, আমান, সালাম, শিমুল, খোকন, এ্যানীসহ গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক, বিক্ষোভের ডাক/ রণক্ষেত্র নয়াপল্টন

ধরপাকড়, রিজভী-ইশরাকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা/ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, স্থান জটিলতা কাটেনি

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status