ঢাকা, ২২ মে ২০২২, রবিবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

বাংলারজমিন

বোরো ক্ষেতে শ্রমিক সংকট নেই হারভেস্টর মেশিন

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
১৫ মে ২০২২, রবিবার

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নিভৃত মাঠে নজর কাড়ছে সোনালী রঙের ধান ক্ষেত। সম্প্রতি মেঘাচ্ছন্ন আকাশের ডামাডোলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ  থেকে পাকা ধান রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু ক্ষেতের ধান ঘরে তোলার শুরুতে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। অধিক মজুরি দিয়েও শ্রমিকের চাহিদা মিটছে না তাদের। তবে দরকার কম্বাইন্ড হারভেস্টর  মেশিনের। এটি দিয়ে দ্রুত কাটা-মাড়াই করা সম্ভব হলেও খোঁজ মিলছে না সেই মেশিনের। 
সরজমিনে শনিবার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়  বোরোচাষিদের নানা প্রতিবন্ধকতা। কেউ কেউ অল্প শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে থাকলেও আবার অনেকে শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছে না।  কেউবা ধান ক্ষেতে বৃষ্টির জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন। 
জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে সাদুল্লাপুর উপজেলার মাঠপর্যায়ে ১৫ হাজার ৬৪৩ হেক্টর জমিতে কৃষকরা ধান আবাদ করেছেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ফলনও হয়েছে ভালো

বিজ্ঞাপন
ইতিমধ্যে এসব ধান কাটা-মাড়াই শুরু করা হয়। শ্রমিক যেন সোনার হরিণ। অধিক মজুরির বিনিময়ে মিলছে না সেইসব শ্রমিকদের দেখা। এ কারণে বৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে ক্ষেতেই পাকাধান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনায় কৃষকের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। কৃষকরা জানান, শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা-মাড়াইয়ে করতে সময় ও খরচ  বেশি পড়ে। সেই সঙ্গে ধানেরও কিছু ক্ষতি হয়। তবে কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিনে কাটা-মাড়াইয়ে অনেকটাই সুবিধা রয়েছে। এতে সময় ও খরচ কম হয়। এই মেশিন প্রত্যেক গ্রামে থাকলে কৃষকরা ধান কাটা-মাড়াইয়ের চিন্তামুক্ত থাকবেন। কিন্তু প্রত্যেক গ্রামে দূরের কথা, ইউনিয়নজুড়েও একটি নেই।
বুজরুক রসুলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম মন্টু নামের একজন কৃষক জানান, চলতি বোরো মৌসুমে দেড় হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে কাটা-মাড়াই শুরু করা হয়। কিন্তু  শ্রমিকের অভাবে সবগুলো ক্ষেতের ধান কাটা সম্ভব হয়নি। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন। সরকারের ভর্তুকি মূল্যে একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন দেওয়া হলে নিজের কাজের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকদের কাজেও ব্যবহার করা যেতো।  
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আমবিয়া খাতুন জানান, কৃষকদের লাভবান করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। বৃষ্টিতে ধান ক্ষেতের জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ধান কাটা-মাড়াইয়ে কৃষকরা কিছুটা শ্রমিক সংকটে পড়েছেন। সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিউল আলম জানান, যাতে করে কৃষকরা অতিদ্রুত ও কম খরচে ধান কাটা-মাড়াই করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ৬ টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষি ভর্তুকি মূল্যের আওতায় আরও কয়েকটি চাহিদা দেওয়া রয়েছে।

 

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com