ঢাকা, ২৪ মে ২০২২, মঙ্গলবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২২ শাওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

শরীর ও মন

দৈনন্দিন জীবনে এলার্জি ও করণীয়

অধ্যাপক (ডা.) মোহাম্মদ আবদুল হাই

(১ মাস আগে) ১৯ এপ্রিল ২০২২, মঙ্গলবার, ১২:৩২ অপরাহ্ন

হঠাৎ শরীরে এ এক মহা অস্বস্তি। একটানা হাঁচিতে ক্লান্ত শরীর। কখনো আবার নাকে সুড়সুড়ি। রাত বাড়লেই শ্বাসকষ্ট। আবার ঘর বা অফিস পরিষ্কার করছেন। হঠাৎ করেই শুরু হয়ে গেল হাঁচি, পরে শ্বাসকষ্ট। অথবা প্রাণভরে ফুলের গন্ধ নিলেন, শরীরে জেগে উঠলো লাল চাকা চাকা দাগ। শখের বসে বা আনন্দে একটু বেশিই খেয়ে ফেললেন চিংড়ি মাছ, ইলিশ, বেগুন, গরুর দুধ, ডিম তাতেই চুলকাচ্ছে গা।

 

এসবই অ্যালার্জির অতি পরিচিত চেনা লক্ষণ।
কেন হয় অ্যালার্জি?

সহজ উত্তরে বলবো- আমাদের শরীর সব সময়ই ক্ষতিকর বস্তুকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। অনেক সময় ক্ষতিকর নয় এমন ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে শরীর প্রতিরোধের চেষ্টা করে। শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি বলে

বিজ্ঞাপন
আবার অন্যভাবেও বলা যায়, প্রত্যেক মানুষের শরীরে এক একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ‘ইমিউন সিস্টেম’ থাকে। কোনো কারণে এই ব্যবস্থায় গোলযোগ দেখা দিলে তখনই অ্যালার্জির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। হাঁচি থেকে শুরু করে খাবার ও ওষুধের প্রতিক্রিয়াতে এই রোগ হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জি সামান্য অসুবিধা করে। আবার কারও ক্ষেত্রে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
লক্ষণ সমূহ:
অ্যালার্জিজনিত সর্দি- এর উপসর্গ হচ্ছে অনবরত হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, অনেকের চোখ দিয়েও পানি পড়তে থাকে।

অ্যাজমা বা হাঁপানি- উপসর্গ হচ্ছে কাশি, ঘন ঘন শ্বাসের সঙ্গে সাঁইসাঁই আওয়াজ, শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট, ভালো করে দম নিতে না পারা, বুকে অস্বস্তি।

আর্টিকেরিয়া- ত্বকে লালচে ফোলা দাগ, গা, হাত, পায়ে চুলকানি, ত্বকের গভীরে হলে হাত পা ফুলে যেতে পারে। ত্বকে জ্বালা-যন্ত্রণা ও চামড়া শুকনো ও খসখসে হয়ে যায়, ত্বকে ছোট ছোট দানা তৈরি হয়, চামড়া ফেটে যাওয়া, ত্বকের চামড়া উঠে যাওয়া।

একজিমা- বংশগত চর্মরোগ-ত্বক শুষ্ক হয়, চুলকায়, লাল লাল দাগ তৈরি হয় ত্বকে, চামড়া ফেটে যায়।
অ্যালার্জি মোকাবিলায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা:

রক্ত পরীক্ষা: রক্তে ইয়োসিনেফিলের মাত্রা বেশি আছে কিনা তা দেখা।
স্কিন প্রিক টেস্ট: রোগীর চামড়ার ওপর বিভিন্ন এলার্জেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
প্যাচ টেস্ট: এই পরীক্ষাও রোগীর ত্বকের ওপর করা হয়।
বুকের এক্স-রে: হাঁপানি রোগের চিকিৎসার আগে আগে বুকের এক্স-রে করা উচিত।
অ্যালার্জি মোকাবিলার সব থেকে বড় উপায় হলো সম্ভাব্য যা যা থেকে অ্যালার্জি হতে পারে সেগুলো এড়িয়ে চলা। তাহলেই সহজে অ্যালার্জির কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু এলার্জি একেবারে চলে যায় তা সত্য নয়। অ্যালার্জি ভেদে ওষুধও প্রয়োগও করা যেতে পারে। ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিনও অ্যালার্জিজনিত রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।

লেখক: চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, সিলেট।
চেম্বার: ২২, স্টেডিয়াম মার্কেট, সিলেট। ফোন: ০১৭১২২৯১৮৮৭।

শরীর ও মন থেকে আরও পড়ুন

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com