ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

অর্থ-বাণিজ্য

চলতি অর্থবছরের দুই মাসে কমলো বিদেশি ঋণ সহায়তা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪.৩৮ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের এই দুই মাসে ১১৪ কোটি ২৯ লাখ (১.১৪ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ ছাড় করেছিল দাতারা। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে বিদেশি ঋণপ্রবাহ কমেছে ২৮ কোটি ডলার। অবশ্য বিদেশি ঋণপ্রবাহের উল্লম্ফন নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২২-২৩ অর্থবছর। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ৪৯ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা এসেছিল। গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি এসেছিল ৪৮.৫০ শতাংশ। কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসে ধাক্কা খেয়েছে। এই মাসে ৩৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের ঋণ ছাড় করেছে দাতারা, যা আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ কম। করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতিতে গত অর্থবছরে কম সুদের বিদেশি ঋণ প্রাপ্তিতে রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন
ওই অর্থবছরে ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ ছাড় করেছিল দাতারা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক অর্থবছরে এত বেশি ঋণ সহায়তা পায়নি বাংলাদেশ। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিদেশি ঋণ ছাড়ের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, বছরের প্রথম দুই মাসে দাতাদের কাছ থেকে যে ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের ঋণ সহায়তা পাওয়া গেছে, এরমধ্যে প্রকল্প সাহায্য এসেছে ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার। আর অনুদান পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া গিয়েছিল ১১০ কোটি ৮৭ লাখ (১.১০ বিলিয়ন) ডলার। অনুদান এসেছিল ৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার। ইআরডি’র তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার (৭.৯৬ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছিল ৭৩৮ কোটি (৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার। বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ বাড়তে থাকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে। ওই বছরই এক লাফে অর্থছাড় ৩০০ কোটি থেকে ৬৩৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। তারপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আসে ৬৫৪ কোটি ডলার। পিআরআই নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখন তো আর করোনার ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে অন্যরাও আগের চেয়ে কম ঋণ নিচ্ছে। সে কারণেই বিদেশি ঋণ কমছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে জাপান- ৩২ কোটি ৯১ লাখ ডলার। চীনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ১৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার। 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি দিয়েছে ১৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংক ছাড় করেছে ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। ভারত দিয়েছে ৭ কোটি ১৯ লাখ ডলার। এ ছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া গেছে ৪১ লাখ ১০ হাজার ডলার। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) দিয়েছে ১৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। ইআরডি’র তথ্যমতে, জুলাই-আগস্ট সময়ে দাতাদের ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ২২ হাজার ডলারের ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাতারা। এই বছরের জুলাই-আগস্টে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৩০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। এদিকে জুলাই-আগস্ট সময়ে আগে নেয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ে সুদ-আসল বাবদ ২৯ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার ডলার শোধ করা হয়েছিল। এ হিসাবে এই দুই মাসে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সুদ-আসল পরিশোধ বাবদ প্রায় ৩ শতাংশ বেশি অর্থ শোধ করতে হয়েছে সরকারকে। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বুধবার টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ ১ ডলার কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সা। 

এক বছর আগে ২১শে সেপ্টেম্বর টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ২৭ পয়সা। অর্থনীতিবিদরা বলেন, ডলারের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন আমাদের অর্থনীতিকে বড় ধরনের বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।  তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখন ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সরকারি ঋণ ৭০ বিলিয়ন ডলার। আর বেসরকারি খাতের ঋণ ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪/৮৫ টাকা। সে হিসাবে মোট ৯৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের টাকার অঙ্ক ছিল ৮ লাখ ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর বর্তমানে ব্যাংকে ডলারের রেট ১১০ টাকা দরে যদি হিসাব করা হয় তাহলে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ টাকার পতনে এক বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে সরকারি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। আর বেসরকারি খাতের ঋণ বেড়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে এখন আমাদের টাকার মান যে করেই হোক বাড়াতেই হবে। তা না হলে সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অর্থ-বাণিজ্য থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status