ঢাকা, ৭ ডিসেম্বর ২০২২, বুধবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

বাংলারজমিন

মেঘনার জাকির চেয়ারম্যানের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার নেপথ্যে

মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবারmzamin

মো. জাকির হোসেন। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মানিকারচর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। জাকির নিজেকে মেট্রিক পাস দাবি করলেও এলাকাবাসী জানায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করতে পারেননি তিনি। ২০০১ সালে ১৭ বছর বয়সে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমান ঢাকার মানিকনগর গোপীবাগ এলাকায়। একই গ্রামের রহিম বাদশা পালকি কোম্পানির ট্যাক্সি চালাতেন। রহিম বাদশার কাছ থেকে গাড়ি চালানো শিখে একই কোম্পানির ট্যাক্সি নিয়েই জাকিরের যাত্রা শুরু। আস্তে আস্তে যুক্ত হয়ে যান মানিকনগরের মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। কিছুদিন যেতে না যেতেই হয়ে যান রেন্ট এ কারের ব্যবসায়ী। চালিয়ে যান মাদকসহ রেন্ট এ কারের ব্যবসা। ২০০৭ সালের ২রা ডিসেম্বর কুমিল্লা পুলিশের হাতে মাদকসহ গ্রেপ্তার হন জাকিরের ওস্তাদ রহিম বাদশা।

বিজ্ঞাপন
কিন্তু জাকির থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। একইভাবে ২০২০ সালের ২২শে এপ্রিল মেঘনার মানিকারচর বাজারে ব্যাপক মাদকদ্রব্যসহ মাদকের চালান উদ্ধার করে র‌্যাব। পালিয়ে যায় ড্রাইভার। বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় ওই গাড়ির চালক এবং এই চালানের মালিক ছিলেন জাকির হোসেন। কিন্তু রাতারাতি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রফাদফা করে ফেলেন। তখন থেকে নিজ গ্রামের বিভিন্ন প্রোগ্রামের স্পন্সার করতে থাকেন জাকির। তাই এলাকায় ছিল বেশ সুনাম। এই সুবাদে এলাকার কিছু লোক তখন জাকিরের পক্ষে সাফাই গাইতে থাকেন। টাকার বিনিময়ে দলীয় লোকদের সঙ্গে আঁতাত করে হয়ে যান মানিকারচর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। এরপর ফন্দি আটেন মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবেন জাকির। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে শুরু হয় যাওয়া-আসা। প্রলোভনে পটিয়ে নিলেন দলীয় অনেক নেতাদের। অবশেষে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে যান। শুরু হয় একের পর এক নাটক। আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নিজের নির্বাচনী অফিস নিজেই পুড়িয়ে মামলা দেন এলাকার নিরীহ লোকজনের ওপর। শুধু তাই নয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাকসুদ আলম (এসঢু) কে মার্ডার মামলার আসামি করে জেল খাটানো হয়। ১১ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন। বহিরাগতদের ভাড়া করে এনে শাওন হত্যাসহ ৮ জনকে আহত করে হয়ে যান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান হওয়ার পর প্রথমে একটু লোক দেখানো কাজ করলেও পরে শুরু হয় টাকার হিসাব, টাকা ছাড়া কাজ হবে না। ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করতে হবে, ফি বাবদ ১ হাজার টাকা দিতে হবে এ নিয়ে উনার বিরুদ্ধে শত অভিযোগ। বাগাইকান্দী গ্রামের মো. ফেরদৌস (ক্যান্সেল) বলেন, আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্প করে জায়গাসহ পুকুর বন্ধক নামা দলিল করে নেন। কাউকে বললে আমার নামে মামলা হবে, আমাকে গুম করে ফেলবে এমন হুমকি-ধমকি দেয়া হয়। ৩রা ডিসেম্বর আহত জজ মিয়ার ছোট ভাই আবু সায়েদ বাদী হয়ে মামলা করেন, চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। ১৬ই ডিসেম্বর হাজিরা দিতে গেলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর একের পর এ প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে তার বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, গত ৭ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর মুগদা থানায় সাবেক পুলিশ পরিদর্শক গোলাম রসুল বাদী হয়ে  জাকিরের নামে একটি প্রতারণার মামলা করেন। মামলাটি গোয়েন্দা (তেজগাঁও) বিভাগের তেজগাঁও জোনাল টিম ছায়াতদন্ত শুরু করে। গত ২১শে সেপ্টেম্বর মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে জাকির হোসেন (৩৮) কে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগ। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রায় ৩শ’ ভুক্তভোগীকে পোর্ট থেকে স্বল্প দামে গাড়ি ক্রয় করে দেয়া, ক্রয়কৃত গাড়ি রেন্ট এ কারের মাধ্যমে মাসিক ভাড়ায় পরিচালনা করা, একই গাড়ি এভাবে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ভুয়া কাগজপত্র দ্বারা চুক্তি, গাড়ি একাধিক জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি, ব্যাংক থেকে গাড়ির বিপরীতে কাস্টমারকে না জানিয়ে ব্যাংক লোন সুবিধা নেয়াসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

 

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত

আন্দোলনে উত্তাল জাবি/ ‘দ্বিতীয় মানিকের উত্থান’

ঝুঁকি নিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা/ ত্রিশালে ৪৭ কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status