ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি

কূটনীতিকদের ব্রিফ করলো সরকার, অংশ নেয়নি চীন, ভারত-রাশিয়ার প্রতিনিধি ছিলেন

স্টাফ রিপোর্টার
২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার

মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিতিশীলতার বিষয়ে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে সরকার। ব্রিফিংয়ে সরকার কূটনীতিকদের জানিয়েছে,   মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমান্তে গোলাগুলি ও হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারা ফায়দা লুটতে চায় যেন রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে না হয়। তবে বাংলাদেশ কোনো রকম সংঘাতে জড়িয়ে মিয়ানমারকে ফায়দা লুটতে দেবে না বলে কূটনীতিকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য কাউকে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আসিয়ানভুক্ত দেশের বাইরে অন্য সব দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের নিয়ে এ ব্রিফিং আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ব্রিফিংয়ে আসিয়ানভুক্ত দেশ ছাড়া বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ জন কূটনীতিক ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর আগে সোমবার আসিয়ানভুক্ত সাত দেশের মিশন প্রধানদের একই রকম ব্রিফ আয়োজন করা হয়। 

গতকালের ব্রিফিংয়ে চীনের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। ভারত এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত না থাকলেও তাদের প্রতিনিধিরা ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।  ব্রিফিংয়ে মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি ও হতাহতের ঘটনা বন্ধে স্ব স্ব অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিতে কূটনীতিকদের আহ্বান জানান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম।

বিজ্ঞাপন
ব্রিফিংয়ে কূটনীতিকরা জানিয়েছে, তারা এই বার্তা নিজ দেশের সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন। ব্রিফিং শেষে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়েছি পাঁচ বছর হয়ে গেল, মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাও আজ পর্যন্ত ফেরত নেয়নি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন যে, আমরা ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছি। আসলেই, আমরা ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছি। কিন্তু আমরা এমন কিছু করি নাই, যার জন্য মিয়ানমারের গোলা এসে আমাদের যে জনগণ, যারা আমাদের সীমান্তের ভেতরে আছে, তাদের জানমালের নিরাপত্তা ব্যাহত করবে এবং তারা গরু-বাছুর নিয়ে বাইরে যেতে পারবে না, তাদের ধানক্ষেতে যেতে পারবে না, তাদের ঘরবাড়িতে থাকতে পারবে না, এটা তো চলতে দেয়া যায় না। 

এই কারণে আমরা কূটনীতিকদের কাছে বলেছি যে, আপনাদের সাহায্য আমরা চাই, যাতে করে মিয়ানমার এ অঞ্চলে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভবিষ্যতে ফায়দা লুটতে না পারে, যাতে এই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে না হয়। বাংলাদেশ যে ‘চরম ধৈর্য’ ধরে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, সে কথা কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, আমরা কোনোভাবে চাই না এখানে জড়িত হতে, যাতে করে এখানে জড়িত হলে মিয়ানমার হয়তো সুযোগ পাবে, এই রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেয়ার জন্য অজুহাত পাবে, সেই রকম কোনো অজুহাত আমরা মিয়ানমারকে এই মুহূর্তে দিতে চাচ্ছি না। কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল, এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম বিষয়াবলী ইউনিটের এই সচিব বলেন, তাদের যে মতামত, তারা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে। আমরা যে চরম ধৈর্য দেখাচ্ছি এবং আমরা যেকোনো উস্কানিতে পা দিচ্ছি না, মিয়ানমারের কোনো উস্কানিতে পা দিচ্ছি না, এটাকে তারা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে। তারা বলেছে, তারা তাদের ক্যাপিটালে এই জিনিসগুলো জানাবে এবং যাতে করে ভবিষ্যতে যদি কোনো কিছু করণীয় থাকে, বিশেষ করে জাতিসংঘে যদি কোনো কিছু করণীয় থাকে, তারা আমাদেরকে সে বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছে। মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবে এদিকে গোলা পাঠাচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে নৌবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, সেটা আমাদের ধর্তব্যের বিষয় না। 

ইচ্ছা করে করুক বা যা কিছুই করুক, আমরা যেটা বলি যে, এটা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে ফেলবে। কাজেই মিয়ানমার সরকারকে এটা বুঝতে হবে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে বুঝতে হবে। মিয়ানমারের পরিস্থিতি তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ পশ্চিমে, দক্ষিণে মিয়ানমার আর্মি, উত্তরে আরাকান আর্মি। তো, তাদের গোলা কোনোভাবেই বাংলাদেশে আসার তো কথা না, পশ্চিমে তো আসার কথা না। ভৌগোলিকভাবে এটা হয় না, যদি কেউ ইচ্ছাপূর্বক না করে। খুরশেদ আলম বলেন, ইচ্ছাপূর্বক আমাদেরকে এই কনফ্লিক্টে জড়ানোর যে প্রচেষ্টা, সেটা আমরা (ব্রিফিংয়ে) বলছি যে, আমরা এই প্রচেষ্টায় জড়িত হবো না। আমরা আপনাদেরকে এটা অবহিত করলাম, আপনারা যে অ্যাকশন নেয়া মনে করেন, যথাযথ মনে করবেন, সেটা আপনারা নেবেন। কূটনৈতিক পর্যায়ের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনার বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে খুরশেদ আলম বলেন, আমরা সর্বস্তরেই মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেছি। আমি শুধু এতটুকুই বলবো যে, সর্বস্তরেই আমরা যোগাযোগ রাখতেছি, যাতে করে মিয়ানমার বুঝতে পারে, যে এই রকম একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা তাদের জন্য যেমন বিপজ্জনক, বাংলাদেশ কোনোভাবেই এটা সঠিকভাবে গ্রহণ করবে না।

 সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ওদের ভেতরে তো গোলাগুলি হচ্ছেই, সেটা অন্য জিনিস। এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তসহ আশপাশের এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য মিয়ানমার এবার আরাকান আর্মির পাশাপাশি রাখাইনের সশস্ত্র সংগঠন আরসার ওপর দায় চাপিয়েছে। দেশটি বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ‘আন্তরিক সম্পর্ক’ নষ্ট করার স্বার্থে এই দুই পক্ষ মিলে সীমান্ত এলাকায় চলমান পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সোমবার সকালে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ বিভাগের মহাপরিচালক জ ফিউ উইন এমনটা বলেছেন। সোমবার রাতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ফেসবুক পেজে এই বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করেছে।

 বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মর্টারশেল ও গোলাবর্ষণে হতাহতের ঘটনার মধ্যে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। মিয়ানমার থেকে আসা গোলায় এক কিশোর নিহতের ঘটনার তিন দিনের মাথায় সোমবার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের কোণাপাড়া ক্যাম্পের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সর্দার (মাঝি) দিল মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত চিঠিটি মেইল যোগে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মাঝি দিল মোহাম্মদ বলেন, আমরা চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছি, সামরিক জান্তা বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ওপর আরও বড় আক্রমণ করতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘকে শূন্যরেখার আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান দিল মোহাম্মদ।  

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা ইসুতে ভারত রাশিয়া ও চিন কোন সময়ই বাংলাদেশকে সমর্থন করে নাই অথচ পিরিতির কমতি নেই।

মোঃ হেদায়েত উল্লাহ
২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ২:২৭ পূর্বাহ্ন

মনে করেছিলাম বাংলাদেশে এ যাবত যারা সরকারে ছিল তন্মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারই শক্তিশালী এবং সাহসী। বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত ও মায়ানমার আমাদের দেশের প্রতি বা জনগণের প্রতি যে আক্রমণাত্মক ভূমিকা দেখাচ্ছে তা খুবই নেতিবাচক। ভারতের বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশীদেরকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে এবং মায়ানমার যেভাবে সীমা লংঘন করে হামলা করছে তা খু্বই ভীতিকর ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ। কিন্তু আমাদের সরকার জোরালো কোনো প্রতিবাদ করতে পর্যন্ত পারছে না। বিষয়টা বোধগম্য নয়। তারা শুধু বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত তথা বিরোধীদেরকে দমন-পীড়ন করে সাইজ করতে খুবই পারদর্শী।

শওকত আলী
২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ২:০৫ পূর্বাহ্ন

আগে শুনতাম বিডিয়ার (বিজিবি) বর্ডারে দেখলে বার্মিদের পেশাব বুট ভিজতো এখন বার্মিরা আমাদের মর্টার হামলা করে, কি আজব ব্যাপার, বুজলাম না, ভয়টা কিসের?

Faiz Ahmed
২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ২:০৪ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারের জান্তাকে মোকাবেলা করতে হবে কূটনৈতিকভাবে। জানু কূটনীতিই পারে বল নিজেদের কোর্টে নিয়ে আসতে। এজন্য চাই নতজানুমুক্ত বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতি। এটা তখনই সম্ভব যখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি সরকার দেশ পরিচালনা করবে।

আব্দুল মান্নান
২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১:১৮ পূর্বাহ্ন

India is the only country who is giving support to Myanmar to start this war. India supplied arms and other things to Mynamar this is they declared before.

Tanweir
২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ব্রিফ করে বলছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশে গুলিবর্ষন করছে,অন্যদিকে পঃমন্ত্রী মোমেন সাহেব আমেরিকায় বসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন এটা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর "অনিচ্ছাকৃত ভুল"। বিশ্ব কার কথা বিশ্বাস করবে? কেন সরকারের তথা একই মন্ত্রনালয়ের মধ্যে এই সমন্বয়হীনতা?

Mustafa Kamal
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ১১:০০ অপরাহ্ন

কেন ভারতের সাথে আমাদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের তাহলে তাদের রাষ্ট্রদূত কোথায় ছিলেন

Md Mojid
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ১০:১৮ অপরাহ্ন

"গতকালের ব্রিফিংয়ে চীনের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। ভারত এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত না থাকলেও তাদের প্রতিনিধিরা ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। " অথচ এনারাই এ সরকারের কাছের বন্ধু!

M S Rana
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৯:৪০ অপরাহ্ন

রাশিয়া আর ভারতের রাষ্ট্রদূত কোথায় গিয়েছে? তারা কেন আসলো না

মোস্তাইন বিল্লাহ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৫:১১ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status