ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

প্রথম পাতা

ছোট হচ্ছে এনজিও’র দুনিয়া, তহবিল কমছে, বন্ধ হচ্ছে অনেক সংস্থা

সিরাজুস সালেকিন
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, শনিবার

ছোট হয়ে আসছে এনজিও’র দুনিয়া। তহবিল সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক এনজিও। বাতিল হয়েছে অনেকের নিবন্ধন। বাতিলের অপেক্ষায় রয়েছে আরও বেশকিছু। বৈশ্বিক মহামারি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দাতা সংস্থাগুলো। সরকারের নিয়ম-নীতি ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন আসছে ধারাবাহিকভাবে।  সবমিলিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের এনজিও খাত। গত ১০ বছরে এনজিওগুলোর বিদেশি ফান্ড প্রাপ্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদেশি অর্থের প্রবাহ ক্রমান্বয়ে কমছে। দেশে সর্বোচ্চ পরিমাণে ফান্ড ছাড় হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৭ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। এই ফান্ড প্রাপ্তির পেছনের অন্যতম কারণ ছিল ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা সংকট।

বিজ্ঞাপন
পরবর্তী ২০১৯-২০ অর্থবছরে ফান্ড ছাড় হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা ফান্ড ছাড় হয়েছে। গত জুলাই মাসে ফান্ড ছাড়া হয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকা। গত কয়েক বছরে ছাড় হওয়া ফান্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ গেছে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে। ফলে কক্সবাজার কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোর কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি তহবিল কম পাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন। বাংলাদেশের জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের যে হিসাব প্রচার করা হচ্ছে তা দেখে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো তহবিল প্রদানে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। তারা আফ্রিকাসহ বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোতে তাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করছে।

 এ ছাড়া দাতা সংস্থাগুলো তাদের কাজের পদ্ধতিও পরিবর্তন করেছে। সংস্থাগুলো বাংলাদেশেই নিজেদের শাখা খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে করে স্থানীয় পর্যায়ের এনজিওগুলো বিদেশি তহবিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এনজিওগুলোকে অর্থায়নের ক্ষেত্রেও পদ্ধতি বদলেছে সরকার। এখনো সরাসরি প্রকল্প প্রদান না করে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকারি দপ্তরগুলো। এসব টেন্ডারে অংশগ্রহণের জন্য যে ধরনের শর্ত দেয়া হচ্ছে তাতে অনেক এনজিও এসব শর্ত পূরণ করতে পারছে না। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহণের জন্য এনজিও ব্যুরো নিবন্ধন কিংবা ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার সনদ থাকার শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। যা প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এনজিওদের তহবিলের আরেকটি উৎস ছিল ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সিএসআর (সোশ্যাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটি)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো সিএসআর-এর অর্থ সামাজিক কাজে ব্যয়ের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয় করছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কাজের ধরন পাল্টাতে হচ্ছে এনজিওগুলোকে।  অতীতে এনজিওগুলোর মূল কার্যক্রম ছিল সচেতনতা সৃষ্টি কেন্দ্রিক। 

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমে এনজিওগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতো। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে সরকারের পক্ষে কাজ করা সম্ভব ছিল না সেখানে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এনজিওরা। কিন্তু সেবামূলক কাজের পরিবর্তে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বেশি যুক্ত হচ্ছে এনজিওগুলো। বিদেশি ফান্ডের প্রবাহ কমার পেছনে স্বল্পন্নোত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণকে কারণ মনে করেন এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিস অব বাংলাদেশ (এডাব) এর সভাপতি মো. আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, তহবিল সংকটের কারণে ছোট এনজিওগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। অনেক এনজিও বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির কথা বলছে তা সুষম না। এখনো বহু এলাকার মানুষ উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। তাদের মধ্যে অভাবের তাড়না রয়েছে। যেখানে সরকারের পাশাপাশি এনজিওগুলোর কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সুশাসন, মানবাধিকার ও জবাবদিহিদার ঘাটতিও দাতা সংস্থাগুলোর মুখ ফেরানোর পেছনের অন্যতম কারণ বলেও মনে করেন তিনি। তবে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো ভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বড় বড় সংস্থাগুলো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা পিকেএসএফ থেকে ঋণ নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তহবিল সংগ্রহে এই সুবিধা নিতে পারছে না। এর পেছনে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিগত সমস্যা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এনজিওদের সংগঠন ফেডারেশন অব এনজিও’স ইন বাংলাদেশ (এফএনবি)। সংগঠনটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং ব্যুরো বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল সংকট দূর করতে আমরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি। কোনো নির্দিষ্ট একটি ব্যাংক যদি তাদের অর্থায়নে আগ্রহী হয় তাহলে এই শ্রেণির প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই তাদের তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। এ ছাড়া বড় এনজিওগুলোকেও এ ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।  গত জানুয়ারিতে ২০টি এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করেছে এনজিও ব্যুরো। ২০২১ সালে বাতিল হয়েছে ২২টি এনজিও’র নিবন্ধন। ২০১৯ সালে বাতিল হয়েছে ২ শতাধিক এনজিও’র নিবন্ধন।

পাঠকের মতামত

গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাংগা রাখতে এনজিওর কোনো বিকল্প নাই।

Fokrul Alam
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবিবার, ১:৫৩ পূর্বাহ্ন

জন সচেতনতার দিক থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এগিয়ে গিয়েছে এনজিও কার্যক্রম বা ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের মাধ্যমে। উদাহরণঃ খোলা স্থানে মল-মুত্র ত্যাগ না করা। এছাড়াও - বাল্যবিবাহ রোধ, জন্মনিয়ন্ত্রণ, যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম, এইচআইভি এইডস সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণ, পোলিও সচেতনতা ও টিকা, গ্রামীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রবাসী কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, শিশু শ্রম, শিশু পাচার, পারিবারিক সহিংসতা, এসিড সন্ত্রাস, শিশুদের শিক্ষা ও বিনোদন সামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে সর্বপরি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা কার্যক্রমে সরকারের পাশাপাশি সর্বাত্নক কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য কে সামনে রেখে এই এনজিও গুলো বিপুল পরিমানে ডলার বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে দেশে আনে ও অত্যন্ত সুচারুরূপে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করে যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে। এনজিও মহলে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, বিভিন্ন অডিট ও ফাইন্যানশিয়াল কমপ্লায়েন্স মেনটেইন করার জন্য এনজিও রা পাঁচ টাকার দূর্নীতি ধরতে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করতে কোন কুন্ঠা করে না। সমাজের যে লোকগুলো সমাজসেবা মূলক কাজে নিবেদিত তাদের মধ্যে সবচেয়ে গোছানো ও অর্গানাইজড যারা তারাই সরকারী নিবন্ধন নিয়ে এনজিও প্রতিষ্ঠা করে অপর মানুষদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে। আমি নিজেও একজন গর্বিত উন্নয়ন কর্মী বা Development Worker. দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবোর্চ্চ ডিগ্রি নিয়ে প্রচুর প্রতিভাবান যুব পুরুষ ও যুব নারী এই Development Sector এ বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এটা ঠিক যে একশ্রেণীর দূর্নীতিবাজ এনজিও'র নাম ভাঙ্গিয়ে অনুমোদনবিহীন সুদের কারবার করে যাচ্ছে আর নাম দিচ্ছে এনজিও। বা এনজিও নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে কেউ কেউ ... এগুলো সবোর্তভাবেই ঘৃণিত ও পরিত্যাজ্য। অসৎ মানুষ কম-বেশী সব পেশাতেই আছে। সেটা পেশার দোষ নয়, দোষ ঐ সকল অসৎ মানুষদের যারা মানুষের অধিকার নষ্ট করে। পরিশেষে সরকারী নিয়ন্ত্রন কাঠামোর মধ্যে থেকে দেশের দরিদ্র- নিপিড়িত মানুষদের উন্নয়নে নিয়োজিত রোদেপোড়া, ঘামে ভেজা মাঠ পর্যায়ের সম্মুখ উন্নয়ন যোদ্ধাদের থেকে শুরু করে উন্নয়ন সেক্টরের নেতৃত্বে থাকা উন্নয়নতত্বে তাত্বিকভাবে সমৃদ্ধ তথা মানুষের কল্যানে নিয়োজিত উন্নয়ন সেক্টরের আলোকিত মানুষদের অভিনন্দন জানিয়ে শেষ করছি।

মোস্তফা ফিরোজ সুমন
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, শনিবার, ১১:৩১ অপরাহ্ন

Government should care for NGOs with stated rules and regulations. Unemployment status has been increasing due to unavailable funds.

Dr. Shamsur Rahman
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, শনিবার, ৯:২১ অপরাহ্ন

আদৌ এন,জি,ওর লোনের মাধ্যমে কারো ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে এমন নজির নাই।

Fakhrul
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, শনিবার, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

এ দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এনজিও সেক্টরের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। হাজার হাজার মানুষের কর্মের সুযোগ হয়েছে। যারা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা পায়না, তাদেরকে লোন সহায়তা করে এনজিও। কাজেই দেশের স্বার্থেই এনজিওকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

আশরাফুল আলম
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, শনিবার, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

আমরা এখন ধনী রাষ্টের কাতারে চলে এসেছি।বিদেশী সাহায্যের প্রয়োজন নেই ।কাজেই এনজিও দিয়ে রাষ্টের জনগনের কোন ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না ।

লুৎফর রহমান মিলটন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৮:৫৬ অপরাহ্ন

নাগরিক সমাজের পরিসর কমিয়ে আনাই প্রধান উদ্দেশ্য

Quamrul
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৬:৫১ অপরাহ্ন

এনজিও বলতে আমরা বুঝি সুদ ভিত্তিক ঋণদান ।

Titu Meer
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৬:১৩ অপরাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status