রিসেট

আসন্ন নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা যাচ্ছে না

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার), ২০২৬ Archive 2022Source: অর্থনৈতিক রিপোর্টার

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, গণভোটের বিদ্যমান কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের দুর্বলতার কারণে এর ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এক ধরনের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনকে যে অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা প্রয়োজন, বাস্তবে সে অর্থে এটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা যাচ্ছে না। গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

এতে উপস্থিত ছিলেন- সিপিডি’র জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত, অনুষ্ঠান সহযোগী সামি মোহাম্মদ, মালিহা সাবাহ ও নূর ইয়ানা জান্নাত। সিপিডি’র এই গবেষণায় সারা দেশের পরিবেশ ও দুর্যোগপ্রবণ ১৫০টি নির্বাচনী এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ৪৫০ জন সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী এবং ১ হাজার ২০০ জন ভোটার জরিপে অংশ নেন। জরিপের ফলাফলের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় ‘সবুজ সমাজ’ গঠনের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভোটারদের প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরা হয়।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং ইশতেহার ঘোষণা করে ভোটারদের সামনে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। তবে একইসঙ্গে এ কথাও বলা জরুরি যে, জাতীয় নির্বাচনকে যে অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা প্রয়োজন, বাস্তবে সে অর্থে এটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা যাচ্ছে না।
নির্বাচনকে কেন অন্তর্ভুক্তিমূলক বলে মনে হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে- পতিত দলটির ভোটই হচ্ছে ডিসিসিভ ফ্যাক্টর। এটা দিয়ে বোঝা যায়, একটা বড় অংশের ভোটারকে তার চাহিদামতো ভোট দেয়া হচ্ছে না। সেটা আমাদের কাছে মনে হয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে ভোটারদের জায়গা থেকে কিছুটা হলেও সেটা পূর্ণ হচ্ছে না। 

নির্বাচনী ইশতেহার বিশ্লেষণের বিষয়ে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, সিপিডিসহ অন্যান্য থিংক ট্যাংকগুলো নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণত ইশতেহার নিয়ে গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করে থাকে। কী ধরনের ইশতেহার হওয়া উচিত, দলগুলোর ইশতেহারের মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য রয়েছে এবং কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুপস্থিত- এসব দিক তুলে ধরে।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে নতুনত্ব এনেছে রাজনৈতিক দলগুলো। রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো উন্নয়নের গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতি থেকে বেরিয়ে এসেছে। তারা সামাজিক উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। তবে তাও যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া, নানা উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও বাস্তবায়নে অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে, নির্বাচনী ইশতেহারে তার উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারকে মূল এজেন্ডা হিসেবে নেয়নি ঠিকই, তবে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে অনেকটাই স্থিতিশীল।’
সামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে ভোটারদের অগ্রাধিকার খুবই মৌলিক দু’টি বিষয়ে। সেই দুটি বিষয় হলো- স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। সিপিডি’র মতে, এই বাস্তবতা থেকে দেখা যায়, দেশের বড় একটি অংশ এখনো মৌলিক চাহিদা পূরণের লড়াই করছে।