রিসেট

বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি (শনিবার), ২০২৬ Archive 2022Source: ইশতিয়াক পারভেজ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। শেষ হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) ফাইনাল রোমাঞ্চ। তানজিদ হাসান তামিমের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ভর করে বিপিএলের মুকুট পরলো এবারের আসরের নয়া দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় রাজশাহী। টস জিতে চট্টগ্রাম অধিনায়ক মেহেদী হাসান ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার সেই সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করেন রাজশাহীর ব্যাটাররা। বিশেষ করে ফাইনালে জ্বলে ওঠা তানজিদ তামিমের ব্যাটেই লড়াকু পুঁজি পায় দলটি। ১৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। রাজশাহীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি চট্টগ্রামের ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। রাজশাহীর লঙ্কান ফাস্ট বোলার বিনুরা ফার্নান্দো চার ও কিউই পেসার জিমি নিশাম নেন দুই উইকেট। দারুণ স্পেলে ৪ ওভারে ১৫ রানে তিন উইকেট নেন বাংলাদেশি স্পিনার হাসান মুরাদ। 


ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহীর শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম মিলে উদ্বোধনী জুটিতেই যোগ করেন ৮৩ রান। পাকিস্তানি তারকা ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে ফিরলেও রানের চাকা সচল রাখেন তানজিদ। এরপর অভিজ্ঞ কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৭ রান যোগ করেন তিনি। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নেন। শেষ দিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও জিমি নিশাম দলের স্কোর বড় করতে সহায়তা করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ফাইনালের মূল নায়ক নিঃসন্দেহে তানজিদ। মাত্র ২৯ বলে ফিফটি পূরণ করার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬২ বলে স্পর্শ করেন স্বপ্নের তিন অঙ্ক। তার ১০০ রানের জাদুকরী ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কা। এর আগে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরির কীর্তি ছিল শুধু ক্রিস গেইল এবং তামিম ইকবালের। বিপিএলে এটি তানজিদের তৃতীয় সেঞ্চুরি। আসরে এর আগে তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকার জার্সিতে সেঞ্চুরি করেন। চলতি আসরে ৪০০ রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।


অন্যদিকে ১৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই হোঁচট খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিনুরা ফার্নান্দোর জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম ও মাহমুদুল হাসান জয়। পাওয়ার প্লে-তেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে চট্টগ্রাম। অধিনায়ক মেহেদী হাসান ও জাহিদুজ্জামান কিছুক্ষণ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় আস্কিং রেট বাড়তে থাকে। স্বীকৃত ব্যাটার আসিফ আলী কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কোনো সহায়তা না পাওয়ায় চট্টগ্রামের পরাজয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। রাজশাহীর বোলাররা তাদের কোনো সুযোগই দেননি।
১৭তম ওভারেও জোড়া আঘাত হানেন বিনুরা ফার্নান্দো। এছাড়া মুকিদুল ইসলাম ও তানভীর ইসলামও দারুণ বোলিং করেন। অন্যদিকে হারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল ছিলেন চট্টগ্রামের শরীফুল ইসলাম। ফাইনালে ২ উইকেট নিয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেটের রেকর্ড গড়েন তিনি, যা ছাড়িয়ে গেছে তাসকিন আহমেদের রেকর্ড। 


ফিক্সিংয়ের অভিযোগে পদ ছাড়লেন বিসিবি পরিচালক শামীম
ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর স্বেচ্ছায় নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক ঘোষণায় তিনি জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক পদ ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ তার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। ফেসবুকে দেয়া বক্তব্যে তিনি লেখেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে আমি স্বেচ্ছায় বিসিবি’র সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়। এটি কোনোভাবেই দোষ স্বীকার নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার প্রতি আমার অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনাম আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, সত্য ও ন্যায়ের ওপর তার আস্থা রয়েছে এবং তিনি তদন্ত প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহায়তা করবেন।


সম্প্রতি এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এক ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক শামীমের বিরুদ্ধে বিপিএলের একটি ম্যাচে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সিলেট পর্বে অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে ম্যাচ গড়াপেটার পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে শামীমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্যের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগ থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন শামীম এবং পরে অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।