রিসেট

বিশ্বকাপে না গেলে ক্রিকেটার ও বিসিবির ক্ষতি কত কোটি টাকা?

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬ Archive 2022Source: স্পোর্টস ডেস্ক

ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের অনড় অবস্থান এখন চূড়ান্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিসিবি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে-নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে কোনো ম্যাচ খেলবে না টাইগাররা। যদি ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত হয়, তবে বাংলাদেশ এই আসরে খেলবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল ক্রিকেটীয় আবেগে নয়, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন ক্রিকেটার এবং বিসিবি।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল বিশ্বকাপে অংশ নিলেই বিসিবি, ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের জন্য বরাদ্দ থাকত প্রায় চার কোটি টাকা (৩ লাখ ডলার)। যদি বাংলাদেশ সেরা ১২ দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারত, তবে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াত সাড়ে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তে এই নিশ্চিত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের ক্রিকেট। আইসিসির কাছ থেকে অংশগ্রহণ ফি বাবদ যে ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল, সেটিও আর বিসিবির তহবিলে জমা পড়বে না।

আর্থিক এই ক্ষতির প্রভাব সরাসরি পড়বে ক্রিকেটারদের ওপর। প্রতিটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার সর্বনিম্ন আড়াই লাখ টাকা আয় করেন। এর বাইরে ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস এবং টুর্নামেন্টের প্রাইজমানির বিশাল অংশ হারানোর ঝুঁকিতে আছেন তারা। ২০২৪ বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান টানলে দেখা যায়, দ্বিতীয় রাউন্ড পার হতে না পারা দলগুলোও প্রায় সোয়া ৪ কোটি টাকা পেয়েছিল। এবার সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়া মানে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আয়ে বড় ধস।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মতে, বাংলাদেশকে ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন মানে আইসিসির জন্য প্রায় ২০ কোটি দর্শক হারানো। যদিও সম্প্রচার স্বত্ব আগে বিক্রি হয়ে যায়, তবে মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ না থাকলে বড় লোকসানের মুখে পড়বে স্পন্সর ও বিজ্ঞাপনদাতারা। বিশেষ করে ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ের ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশের ম্যাচ ঘিরে যে বিশাল টিআরপির আশা ছিল, তা ভেস্তে যেতে পারে।