রিসেট

গাজায় সেনা পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত, তবে...

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি (সোমবার), ২০২৬ Archive 2022Source: মিজানুর রহমান

টানা দুই বছর ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত  হওয়া গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো তাড়াহুড়া নয় বরং এ নিয়ে আরও যাচাই-বাছাইয়ে খানিকটা সময় নিতে চায় সেগুনবাগিচা। দায়িত্বশীল সূত্র এমনটাই জানিয়েছে মানবজমিনকে। সূত্র এটা স্পষ্ট করেছে যে, কোন ফরমেটে পুনর্গঠন কাজটি হবে? কোন পার্টে বাংলাদেশের সেনারা সম্পৃক্ত হলে বৈশ্বিকভাবে কোনো প্রশ্নের মুখে পড়বে না বাংলাদেশের জোট নিরপেক্ষ অবস্থান? তাছাড়া অন্য কোন কোন দেশ এতে অংশ নিবে? তা দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত শিডিউল মতে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি যদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অনুষ্ঠিত হয়, তবে ওইদিনই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্ত হবে। 

গাজা পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সমর্থন করে বাংলাদেশ সরকার তাতে সৈন্য পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, গাজায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ফোর্স কোনো অবস্থাতেই লড়াই বা যুদ্ধে অংশ নিবে না। সেখানে কখন, কী কাজে কতো সেনা প্রয়োজন বা পাঠানো হবে তা এখনো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে গত সপ্তাহে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে তিনটি স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে, ১. বাংলাদেশ সেখানে লড়াই করতে যাবে না। ২. সেখানে এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকতে হবে, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথাবার্তা বলা সম্ভব ৩. পরিবেশ অনুকূল না হলে কোনো ধরনের ডেপ্লয়মেন্ট হবে না। উপদেষ্টা বলেন, এই শর্তগুলো পরিষ্কার। এর বাইরে গিয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে এসে এ ধরনের আলোচনা কতোটা যৌক্তিক? এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, সরকারের কিছু ব্যক্তি বদলাতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থ বা আন্তর্জাতিক এনগেজমেন্ট হঠাৎ বদলে যায় না। যদিও তার এ বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন পেশাদার কূটনীতিকরা। 

তাদের মতে, ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে এমন স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আবশ্যিকভাবে নির্বাচনে সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে এমন দল বা জোটের সঙ্গে সরকারের আলোচনা জরুরি ছিল। যদি আলোচনা হয়ে থাকে তা জাতির কাছে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তারা। এ বিষয়ে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল বলেন, প্রথমত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোন বিবেচনায়, কার সঙ্গে আলোচনা করে সেনা পাঠানোর পথে পা বাড়ালো সেটা স্পষ্ট হতে হবে। সরকারের তরফে এখনো এ নিয়ে খোলাসা করে কিছু বলা হয়নি। মার্কিন গণমাধ্যম এটাকে ‘ট্রাম্পের গাজা প্ল্যান’ বলছে। সেটা কার নেতৃত্বে হবে। সেখানে কোন কোন দেশযুক্ত হচ্ছে? কার কী রোল হবে, বিশেষত বাংলাদেশের  রোলটা কী হবে? তা এখনো অজানা। তাছাড়া সেখানে সব দেশের  সৈন্যের রাইট টু রিপ্লাই সমান হবে কিনা? সেটা বড় প্রশ্ন। সর্বোপরি সেখানে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠালে রিস্ক কী? বেনিফিট কী? ইত্যাদি প্রাক্কলন করতে হবে। 

নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত বিসিএস (পররাষ্ট্র ক্যাডার) দশম ব্যাচের ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তটি না নিলে তা হবে অদূরদর্শিতা। যার বোঝা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে টানতে হবে। স্মরণ করা যায়, সমপ্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার-এর সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে আগ্রহ ব্যক্ত করেন। ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অধীন গঠিত ইন্টারন্যাশনাল স্টেবেলাইজিং ফোর্সেস (আইএফএফ) সেনা পাঠানো নিয়ে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে প্রশ্ন ও সংশয় ক্রমে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী একজন মার্কিন জেনারেল এই বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন। এটা ট্রাকের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু হামাস যদি সম্মতি না দেয়, তাহলে এতে যুক্ত দেশগুলো ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।