মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং সুদানের সার্বভৌম পরিষদের চেয়ারম্যান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান শনিবার নিল নদের পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, বিশেষ করে বিতর্কিত গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধ (জিইআরডি) ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি নিল নদের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের প্রশংসা করেন এবং এটিকে ‘মিশরীয় জনগণের জীবনরেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
সিসি বলেন, মিশর আন্তর্জাতিক আইনের নীতির ভিত্তিতে নিল অববাহিকার দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক ও আন্তরিক সহযোগিতায় অঙ্গীকারবদ্ধ, যাতে কারও ক্ষতি না করে সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করা যায়। তিনি আরও জানান, এই প্রেক্ষাপটে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠিয়েছি, যেখানে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছি। মিশরের অবস্থান ও পানি নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছি। তার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছি এবং আগামী সময়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি।
আলাদা এক পোস্টে সুদানের নেতা আল-বুরহান জানান, সুদান ট্রাম্পের এই উদ্যোগ ও মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে স্বাগত ও সমর্থন জানায়। তার মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সব পক্ষের অধিকার সংরক্ষণ করে টেকসই ও সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখা। ওদিকে শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা শুরু করতে প্রস্তুত।
৬৬৫০ কিলোমিটার (৪,১৩২ মাইল) দীর্ঘ নিল নদ মোট ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। এগুলো হলো বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান ও মিশর।
ইথিওপিয়া সরকার গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্লু নাইলের ওপর গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধ উদ্বোধন করে, যা ১৪ বছর ধরে নির্মাণাধীন ছিল। বাঁধের পানি ভরাট ও পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে ভাটির দেশ মিশর ও সুদানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মতবিরোধ চলে আসছে। মিশর ও সুদান বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে যে, বাঁধের পানি ভরাট ও পরিচালনা নিয়ে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করতে হবে, যাতে ন্যায্যতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
