রিসেট

একটি ক্ষুদ্র উগ্রগোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে গেছে সরকার

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬ Archive 2022Source: অর্থনৈতিক রিপোর্টার

অন্তর্বর্তী সরকারকে ইঙ্গিত করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, উনারা নতুন বন্দোবস্ত ও শক্তির কথা বলে শেষ বিচারে গিয়ে একটি ক্ষুদ্র ও উগ্রগোষ্ঠীর কাছে অনেক ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে গেছে। সে জন্য উনারা নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারলেন না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, উনারা কী নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনটাও করতে পারবেন কিনা।’
রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফরম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: আগামী সরকারের জন্য নাগরিক সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এর আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেই সংস্কারের কথা বলেছিল, সেই সংস্কারকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে যে সক্ষমতা, অংশীজনের অংশগ্রহণ, উন্মুক্ততা দরকার, সেটি তারা দেখাতে পারেনি। সংলাপের ক্ষেত্রে সরকার শুধু রাজনীতিবিদদের গুরুত্ব দিয়েছে- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটা জাতীয় উত্থান, জাতীয় জাগরণ, জাতীয় অংশগ্রহণের ভেতরে অংশীজনদের নিয়ে নতুন বন্দোবস্তের চিন্তাকে সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, পুরনো বন্দোবস্তের সবচেয়ে বড় রক্ষক হলো আমলাতন্ত্র। এই আমলাতন্ত্রকে ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকার যেই সংস্কারের কথা বললো, সেই সংস্কার কার্যকরে যে সক্ষমতা ও অংশীজনের অংশগ্রহণ দরকার সেটা তারা দেখাতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত তারা নতুন শক্তির কথা বলে একটি ক্ষুদ্র ও উগ্রগোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে গেলেন। তিনি জানান, নতুন বন্দোবস্ত সৃষ্টির জন্য তারা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন সংস্কারের উপর। তবে এই সংস্কারগুলো সবকিছুই ছিল উপরি কাঠামো। এজন্য তারা বলেছেন, শাসনতান্ত্রিক ভাষা আনতে হবে। গণতন্ত্রকে ঠিক করতে হলে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে অথবা আমলাতন্ত্রের যে আচরণ আছে সেগুলো বদলাতে হবে। কিন্তু তা হয়নি। 

দেশে নতুন বন্দোবস্তের কথা যারা বলেছিলেন তাদের সমালোচনা করে এ গবেষক বলেন, ‘যারা নতুন বন্দোবস্তের কারিগর হতে চেয়েছিলেন তারা পুরনো বন্দোবস্তের অংশ পেয়ে গেলেন। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ঢুকে গেলেন। ওই ব্যয়বহুল নির্বাচনের অংশ হয়ে গেলেন। তারা মনে করলেন, আগামী দিনে হয়তো কিছুটা আগানো যাবে। এই সুযোগে যারা পুরনো বন্দোবস্তের ধারক-বাহক ছিল তাদের কিন্তু আবার উত্থান হলো।’
নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে তারা কি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনটাও করতে পারবেন? এই নতুন বন্দোবস্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের যেই সব অভিজ্ঞতা হলো এগুলোকে আগামী দিনে কাজে লাগাতে হবে। শুধু উপরি কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন বন্দোবস্ত করা যায় না। যে শক্তি এটার পক্ষের শক্তি তাকে সংগঠিত করতে হয়। তার জন্য নতুন রাজনীতি লাগে।’

দেশের গণমাধ্যমে কোনো সংস্কার হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিডিয়া কমিশনের কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হয়নি। মিডিয়া কমিশনের অন্যতম প্রস্তাব ছিল, মিডিয়া হাউজগুলো নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। সে যদি তার নিজের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে অন্যের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা চাওয়ার অধিকার তার সীমিত হয়ে যায়। এ ছাড়া মিডিয়ার যে সব পেশাজীবী সংগঠন আছে তারাও যথোপযুক্ত স্বাধীন ভূমিকা নিতে পারেন না। কারণ তারা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত ছিলেন। মিডিয়া যদি রাজনীতি করে, মিডিয়া যদি রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত থাকে অবশ্যই তাদের কণ্ঠস্বরের গ্রহণযোগ্যতা অনেক কমে যায়।’
সংবাদ সম্মেলনে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়। নীতি সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সিপিডি’র বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করেন সিপিডি’র অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। এতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক প্ল্যাটফরমের কোর গ্রুপ সদস্য আসিফ ইব্রাহিম, রাশেদা কে চৌধূরী, শাহীন আনাম ও সুলতানা কামাল।