দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া সার কারখানা যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (জেএফসিএল) দীর্ঘ ২৩ মাস ৯ দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় গ্যাস সংযোগ পুনরায় দেয়ার পর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কেপিআই-১ মানসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি ১৯৯১ সাল থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে আসছে। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টনে নেমে আসে। কারখানা সূত্র জানায়, ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ২০২৪ সালের ১৫ই জানুয়ারি থেকে যমুনা সার কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে যমুনায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। যমুনা সার কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা চরম কষ্টে ছিলেন। গ্যাস সংযোগ ফিরে আসায় পর কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় সবার মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, কিছু যন্ত্রাংশের মেরামত শেষে পূর্ণমাত্রায় অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদনে যেতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি আরও বলেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে কারখানায় নিয়মিত ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে। গ্যাস প্রেসার কম। পূর্ণমাত্রায় গ্যাস প্রেসার পেলে কারখানার নিয়মিত উৎপাদন বাড়তে পারে।
