রিসেট

বাংলাদেশে আরেক দফা ধাক্কা

প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার), ২০২৫ Archive 2022Source: মানবজমিন ডেস্ক

উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার পর বাংলাদেশে আবারো সহিংসতার নতুন ঘূর্ণাবর্ত শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ভারতবিরোধী বক্তব্য এবং নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব-  সব মিলিয়ে এমন এক সময়ে দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ছে, যখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্থিতিশীলতা ও দিকনির্দেশনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যে প্রতিবাদ আন্দোলন হয়েছিল, তার অন্যতম নেতা ছিলেন হাদি। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং প্রায়ই নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতেন। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা টেলিগ্রাফের এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, হাদির মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ সমর্থকরা চট্টগ্রামে ভারতের কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালায় এবং দেশের দু’টি প্রধান পত্রিকা- প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। হাদির সমর্থকরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, হাদির হত্যাকারীদের ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। একই সঙ্গে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, হাদির সমর্থকদের একটি অংশ দাবি করছে- হত্যাকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছিল।

এ পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার হাদির জীবন ও অবদানকে সম্মান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে তার সমর্থকদের নতুন ভারতবিরোধী প্রচারণায় সরকার যোগ দেয়নি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের কিছু গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণই নয়াদিল্লিবিরোধী ঘৃণা প্রচারকারীদের আরও শক্তিশালী করেছে। এখন যদি সেই একই শক্তিগুলো ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধেই মুখ ফেরায়, তাহলে এর দায় তিনি ও তার উপদেষ্টারা এড়াতে পারেন না।

এই সহিংসতা এমন এক সময় ঘটছে, যখন বাংলাদেশ চরম অস্থিরতার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। মাত্র দুই মাস পর দেশে নির্বাচন হওয়ার কথা। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ভারতকে চাপ দেয়া হচ্ছে- নির্বাসনে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে যেন ঢাকার হাতে তুলে দেয়া হয়।
শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। একদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে, অন্যদিকে বিএনপি’র ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা আছে- এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানঘেঁষা শক্তি, যেমন জামায়াতে ইসলামী ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে, ভারতবিরোধী জনতা সহিংস আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ এবং পুরো অঞ্চলই এক উদ্বেগজনক সময়ের মুখোমুখি। তবে এখনো দেরি হয়ে যায়নি। ইউনূস প্রশাসনের সামনে সুযোগ আছে- ভুল পথ থেকে ফিরে সঠিক দিক নির্ধারণ করার। কারণ এখানে প্রশ্নের মুখে রয়েছে ১৯৭১ এবং ২০২৪- দুই সময়ের উত্তরাধিকার ও আত্মত্যাগের মূল্য।