আগামী বছর থেকে সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের রিটার্ন অনলাইন জমা বাধ্যতামূলক করবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি জানান, বর্তমানে ক্ষেত্রবিশেষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক।
রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংগঠনটির সদস্যদের জন্য “ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল সাপোর্টিং বুথ” উদ্বোধনকালে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আয়কর বিষয়ে গোল্ডেন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও আয়কর উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এস এম সাকিল আহমাদ, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাংবাদিক মিয়া হোসেন এবং ডিআরইউ’র কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন সহ ডিআরইউ’র সদস্যরা।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগামী বছর থেকে আমরা ভ্যাটের অনলাইন রিটার্নও বাধ্যকতামূলক করে দেবো। আজও আমি একটা মিটিং করেছিলাম আমাদের বোর্ডে এবং সেখানে আমি নির্দেশনা দিয়েছি যে আমরা পারতপক্ষে পেপার রিটার্নটা নেবো না। কারণ এর মধ্যে অনেক রকমের ঝামেলা হয়।
কর বা ভ্যাটের রিটার্ন জমা নেওয়ার মাধ্যমে ডলার সাশ্রয় সম্ভব হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভ্যাটের রিটার্নটা খুব সহজ, বেশি জটিল কিছু না।
তিনি বলেন, দৌড়াদৌড়ি করে কিংবা যানবাহন ব্যবহার করে ম্যানুয়াল পদ্ধতি রিটার্ন জমা দিতে গেলে তেল পোড়ে। এই তেল কিনতে হয় রেমিট্যান্স থেকে আসা অর্থ দিয়ে।
চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছর এখন পর্যন্ত ২৬ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে তাদের ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন। গত আগস্টে সব করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করে এনবিআর। এক দফা সময় বাড়িয়ে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়য়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে এনবিআর।
রিটার্ন জমার সময় বাড়বে কি না জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, না সময় বাড়ানোর ব্যাপারটা এখনই বলা যাবে না, আমরা এটা বুঝে নেবো। সেক্ষেত্রে আমাদের যদি প্রয়োজন হয়, পরে হয়তো সরকার বিবেচনা করবে, স্যারদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবো।’
তিনি আরও বলেন, ডিআরইউ’র পক্ষ থেকে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলে সহায়তার জন্য সাপোর্টিং বুথ স্থাপনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সম্প্রতি কর বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “অনলাইনে ট্যাক্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই। সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে তথ্য দিলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে কেউ ভুল তথ্য দিলে বা হিসাবের গরমিল হলে দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বর্তাবে।”
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, কর দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি আতঙ্ক কাজ করে। এই আতঙ্ক দূর হলে সবাই আরও উৎসাহ নিয়ে কর দিতে আগ্রহী হবে।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, আয়কর রিটার্ন দাখিল একটি জটিল প্রক্রিয়া। এটি এনবিআর এখন অনলাইনে করায় অনেকটাই সহজ হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এনবিআরকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে ডিআরইউ’র অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল বলেন, “দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। এই প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে সদস্যদের জন্য এই প্রথম ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল সাপোর্টিং বুথ চালু করেছে। বুথে সদস্যদের জন্য আয়কর আইনজীবী ও আয়কর উপদেষ্টাদের দ্বারা সেবা প্রদান করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।”
