রিসেট

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকটকে ‘জাতীয় সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান

প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার), ২০২৫ Archive 2022Source: রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

পার্বত্য চট্টগ্রামের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বহুমাত্রিক সংকটের কারণে এ অঞ্চলের চলমান সমস্যা আর কেবল আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। গতকাল নাগরিক প্ল্যাটফরম-এর প্রাক নির্বাচনী উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে আয়োজিত আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফ করার সময় এসব কথা বলেন তিনি। বলেন, একাধিক প্রতিবেশী দেশের সংশ্লিষ্টতায় এই পার্বত্য অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে বিকশিত হচ্ছে সেই লক্ষ্যে পার্বত্যাঞ্চলের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আসছে। 

পার্বত্য চট্টগ্রামের এমন একটি পরিস্থিতি বিরাজ করছে যার জন্য জাতীয় সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমাধানের মূলে হলো এই অঞ্চলের যে মানুষরা আছেন জাতি-ধর্ম সমপ্রদায় নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সকলের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে এবং ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের প্রতি মনোযোগী থেকে একটি সমাধানের পথরেখা বের করতে হবে। এই জাতীয় সমাধানের পথরেখা নির্বাচনী ইশতেহারের ভেতরে রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং আগামীদিনের বাংলাদেশের জন্য এটা কীভাবে কার্যকর করবেন এটা পরিষ্কারভাবে জানতে চেয়েছেন স্থানীয় স্টেকহোল্ডাররা। তিনি বলেন, আজকের আলোচনায় প্রাণ খুলে অত্রাঞ্চলের স্টেকহোল্ডাররা তাদের নিজস্ব ভাবনার কথা; এলাকায় স্থিতিশীল পরিস্থিতির লক্ষ্যে প্রদান করা বক্তব্যগুলো থেকে এসব কথা উঠে এসেছে। 

তিনি বলেন, পাহাড়ের সমস্যা নিরসনে পথরেখা সৃষ্টি করতে হবে যার মধ্যে ভূমি সংস্কারের বিষয়, স্থানীয় সরকার সংস্কার, বিভিন্ন ধর্মীয় জাতিসত্তাগুলোর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে স্বার্থরক্ষা করা; অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন; কাপ্তাই হ্রদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, স্থানীয়দের জন্য শিল্পস্থাপন, স্থানীয়দের নিয়ে ইকো সিস্টেম পর্যটন সস্প্রসারণসহ সংশ্লিষ্ট সকল সমপ্রদায়ের অংশীদারিত্ব নিশ্চিতমূলক সমাজব্যবস্থা নিশ্চিতের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে থাকতে হবে। অংশগ্রহণকারীদের নানান বক্তব্যের সারমর্ম তুলে ধরে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে শুরু করে পাশ্বর্বর্তী দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক সমস্যার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান সমস্যা এখন আর আঞ্চলিক সমস্যা নয়! তাই পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় সংহতি হিসেবে রাজনৈতিকদলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংযুক্ত করতে হবে। 

এদিকে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ এখন একটা দোলাচলার মধ্যে আছে। একদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে আমরা যে পরিবর্তনগুলো চেয়েছি সেই পরিবর্তনগুলোকে টেকসই করার ক্ষেত্রে একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে প্রয়োজনীয়তা; সেই প্রক্রিয়ার ভেতরে আমরা ঢুকছি। তবে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে আমরা অনিবার্য পরিণতির দিকে এগিয়ে যাওয়াকে আরেকটি পদক্ষেপ হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। অপরদিকে; ভীতিমুক্ত ভোটার. প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং শক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা; এসবগুলোর দৃশ্যমান এখনো দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এই দৃশ্যমান চিহ্ন আনার জন্য আগামী যে কয়েক সপ্তাহ সময় রয়েছে তারজন্য সরকার নির্বাচন কমিশন এবং সর্বোপরি সেনাবাহিনী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তারা তাদের ভূমিকা পালন করবে সে লক্ষ্যে আস্থার সৃষ্টি করতে বর্তমান সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেটা যেমন আমরা আশা করছি তেমনিভাবে রাজনৈতিক দলগুলো এক্ষেত্রে বড় খেলোয়াড়ের ভূমিকায় রয়েছে। এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। এতে রাঙ্গামাটির চাকমা সার্কেল চিফের স্ত্রী ইয়ান ইয়ান, হেডম্যান-কার্বারী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবর্গ; এনজিও ব্যক্তিত্ব; কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন।