রিসেট

প্রার্থী নয় ধানের শীষ মুখ্য

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার), ২০২৫ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নয়, ধানের শীষ মুখ্য বলে দলের নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন উনি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে আবার দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে, এই খাল খননের কাজ আবার শুরু করবো। গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি’র উদ্যোগে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’- শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের বসে থাকার সময় নেই। বিভিন্ন এলাকায় আমাদের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। হয়তো এমনও হতে পারে তোমার এলাকায় যেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে, হয়তো তুমি একজনকে পছন্দ করতে- সে হয়তো পায়নি। যে পেয়েছে তার সঙ্গে হয়তো তোমার সম্পর্ক আছে একটু কম। ভাইরে তুমি তো প্রার্থীর জন্য কাজ করছো না, তুমি তো তোমার ধানের শীষের জন্য কাজ করছো। এখানে প্রার্থী মুখ্য নয়, এখানে মুখ্য হচ্ছে- তোমার দল বিএনপি, এখানে মুখ্য হচ্ছে- ধানের শীষ, এখানে মুখ্য হচ্ছে দেশ। মানুষ ধানের শীষের পক্ষে রায় দিলে দেশ গড়ার প্রত্যেকটা পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো এবং করবো ইনশাআল্লাহ্‌।

তিনি বলেন, দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো, এগুলো আমরা পরিকল্পনার মধ্যে রাখবো না। এগুলোকে আমরা যেকোনো মূল্যে ইনশাআল্লাহ্‌ বাস্তবায়ন করবো জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে। আমাদের আজকে প্রতিজ্ঞা, আমাদের আজকের কর্মপন্থা হলো- আমাদের এই পরিকল্পনাগুলোর সঙ্গেই আমরা বাংলাদেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করবো। এটাই হচ্ছে আমাদের পরবর্তী দুই মাসের কাজ। 

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো নিয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষকে সম্পৃক্ত করা, সমর্থন নেয়া ও সমর্থন জোগাড় করার জন্য আহ্বান জানান- বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। খাল খনন, বায়ুদূষণ রোধ, পরিবেশের উন্নয়ন, বর্জ্য অপসারণ, সারা দেশে ক্রীড়ার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বেকারত্ব  দূর, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্বাস্থ্যকার্ডসহ বিএনপি’র পরিকল্পনাসমূহ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে নেতাকর্মীদের তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলেন- তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন খাল খনন করেছিলেন, খাল খনন করার মাধ্যমে উনি একদিকে যেমন বন্যাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, আর একদিকে ঠিক একইভাবে ফসলের সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছিলেন। সেচ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বাংলাদেশের যেখানে একটি ফসল হতো, সেখানে দু’টি ফসল হওয়া শুরু করলো। শুধু পানি সরবরাহ ঠিকভাবে পাওয়ার জন্য, সেচ সুবিধার জন্য। যেখানে দু’টি হতো, সেখানে তিনটি ফসল হওয়া শুরু করলো, শুধু সেচ সুবিধা পাওয়ার জন্য। এই বাংলাদেশ যেখানে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল কয়েক বছর আগে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সেখানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ তো হলো, অল্প পরিমাণ হলেও আমরা বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে ‘আমি ভালো আর সব খারাপ’ এ রকম একটি বিষয় আমরা দেখেছি। দুঃখজনক হলেও ২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরে কেন জানি মনে হচ্ছে- সেটির বোধহয় পরিবর্তন হয়নি। এটির পরিবর্তন হওয়া বাঞ্ছনীয়, এটির পরিবর্তন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। বহুদলীয় গণতন্ত্রে মানুষ বিভিন্ন মতামত দেবে, মতামত দেয়ার অধিকার তার আছে, বক্তব্য দেয়ার অধিকার তার আছে। কিন্তু বিশেষ একজন ভালো আর বাকি সবাই খারাপ, এটি কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না। এই ধারণার পরিবর্তন হতে হবে। এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, এটা গণতন্ত্রের জন্য বিপদজনক।

নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নাই মন্তব্য করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। কেন নেই? বিগত যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি। কেন আন্দোলন করেছি? কারণ সেখানে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। মানুষ বেঁচে আছে কি মরে যাচ্ছে তার কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। একমাত্র গণতন্ত্র সমাজে দেশে এবং রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে একমাত্র নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার।

২৪’র ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড এদেশের জনগণ উল্লেখ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের মাস্টারমাইন্ড দেশের মানুষ, আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে দেশের মানুষ। একজন গৃহবধূ পাঁচ তারিখের সেই আন্দোলন মাস্টারমাইন্ড, মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে- দেশের মোদি দোকানদার, ক্ষুদ্র দোকানদার, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, সিএনজিচালক, বাসের হেলপার, ছাত্র-জনতা, মাদ্রাসার ছাত্র, ইউনিভার্সিটি, কলেজ, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিসহ স্কুল ও কলেজের ছাত্ররা। ওই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ছোট ছোট শিশুরা, ওই আন্দোলনে ৬৩ জন শিশু মারা  গেছে।

তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইমিডিয়েট ভবিষ্যৎ তোমাদের উপরে বাংলাদেশের সামনের দিনে মুভিং ফরওয়ার্ড সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে। তোমরা যদি এগিয়ে আসো, তোমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হও তাহলে এদেশের সামনে একটি ভবিষ্যৎ আছে। তা না হলে একটি ভয়াবহ কিছু হয়তো অপেক্ষা করছে। আমরা যদি আজকে ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে কাজ করি তাহলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আজকে আমাদের আর বসে থাকার সময় নেই।

উদ্বোধনী বক্তব্য বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা (জামায়াতে ইসলামী) কেবলই বলছে যে, এখানে একটু মার্কাতে ভোট দিলে তরতরাইয়া জান্নাতে যাবে। তার আগে ইহকালে কীভাবে চলবো, এর কোনো বক্তব্য নাই। যেই দলের কোনো নীতি-আদর্শ নাই, কোনো পরিকল্পনা নাই, শুধুমাত্র ধর্মের নামে একটা ট্যাবলেট বিক্রি করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার পরিকল্পনা করছে। তাদেরকে জনগণ ইতিমধ্যে চিনেছে, তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদেরকে প্রথমেই বলতে হবে যারা বিনা কষ্টে জান্নাতে যেতে চাচ্ছেন, সেটার বাসস্ট্যান্ড কোথায় একটু আগে জেনে নেবেন। জনগণ এগুলো বুঝে। আমরা বিএনপি যা করছি, সেগুলো হচ্ছে- প্ল্যানিং। প্ল্যানিং ইজ হাফ অব দি জব। ইফ ইউ ডোন্ট প্ল্যান, ইউ আর প্ল্যানিং টু ফেইল। কারণ যদি আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আগে থেকে পরিকল্পনা প্রণয়ন না করি তাহলে আমরা ফেল করার জন্যই পরিকল্পনা করলাম। এই কথা আমাদের ধর্ম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়ে গেল মনে হয়। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি আমরা দেশের মানুষের কাছে সমর্থন চাইছি, ভোট চাইছি। জনগণ আমাদের কাছে কী চায়?  তা আমাদের দিতে হবে। আমরা তো কেবল ধর্মের একটা ট্যাবলেট বিক্রি করতে চাই না। আমরা চাই জনগণের কল্যাণের জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, আমাদের সুষ্ঠু পরিকল্পনা কী আছে সেটা জনগণের সামনে রাখা।

‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’- শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক আমিনুল হক, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মীর শাহে আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।