রিসেট

জুলাই আন্দোলনে আদালতে অভিযোগ: প্রমাণ মেলেনি ৫৬% মামলার

প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর (সোমবার), ২০২৫ Archive 2022Source: অনলাইন ডেস্ক

যুগান্তর

‘জুলাই আন্দোলনে আদালতে অভিযোগ: প্রমাণ মেলেনি ৫৬% মামলার’-এটি যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুর ইসিবি চত্বরে হামলায় গুরুতর আহত দাবি করে ঢাকার আদালতে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন মো. আব্দুল আজিজ। মামলায় আড়াইশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তবে তদন্তে নেমে মামলার বাদীর অস্তিত্ব এবং সাক্ষীদের খুঁজে পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের অনেকেই কখনো ঢাকায়ই আসেননি। শুধু কথিত বাদী আব্দুল আজিজই নন, আদালতে দায়ের করা সিআর (কমপ্লেইন্ট রেজিস্টার) মামলার অনেক বাদী ও সাক্ষীই ভুয়া। তাদের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে না তদন্ত সংস্থা। ফলে তদন্ত শেষে ওইসব মামলায় ‘অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ফাইনাল রিপোর্ট’ দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত পিবিআই-এর তদন্ত করা মামলাগুলোর মধ্যে ৫৬ ভাগের ভাগ্যে এমনটি ঘটেছে। এসব মামলার মধ্যে কিছু কিছুর বাদী নিজেও তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এছাড়া তদন্ত শেষ হওয়ার পর পিবিআই যে ৪৪ ভাগ মামলার চার্জশিট দিয়েছে, সেসবের বেশির ভাগ আসামিও ভুয়া। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনগুলোর ঘটনা নিয়ে মামলার তদন্তের এই হাল কেন-এমন প্রশ্নে পিবিআই-এর প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, ‘মামলাগুলোয় শত শত লোককে আসামি করা হয়েছে। ঘটনা ঢাকার, অথচ চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে ঢাকার মামলায় আসামি করা হয়েছে। যারা কখনো ঢাকার মুখও দেখেননি। তিনি বলেন, কে কোন রাজনৈতিক দলের, সেটা মামলার তদন্তের বিষয় নয়। যদি সম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে কেন কাউকে আসামি করা হবে। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে যাতে সাধারণ ও নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন। কিছু মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। কিছু মিথ্যা মামলাও আছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সেটাই দেব-মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে নিরপরাধ মানুষকে মামলায় ঢুকিয়ে হয়রানি করা হলে, এর জন্য আইনি সুরক্ষা আছে বলে জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী যুগান্তরকে বলেন, যারা মিথ্যা মামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

পিবিআই সূত্র বলছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা ১৯২টি সিআর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এর মধ্যে হত্যা মামলা ২৯টি। হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য ধারায় রয়েছে ১৬৩টি। আদালতের মাধ্যমে দায়ের করা এসব মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৭৮টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি। নিষ্পত্তিকৃত এসব মামলার মধ্যে ৯টি হত্যা এবং ৬৯টি অন্যান্য ধারার মামলা। এর মধ্যে প্রমাণিত ৩৪টি, অপ্রমাণিত ও আপস বা প্রত্যাহার করা মামলা ৪৪টি। প্রমাণ হওয়া মামলার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি ভুয়া। কোনো কোনো মামলার আসামিদের ৯০ ভাগই ভুয়া থাকার তথ্য মিলেছে।

এদিকে নিষ্পত্তি হওয়া ৭৮টি মামলার ২৭টি প্রমাণিত হয়নি। অন্যান্য ১৭টি মামলা বাতিল, রিকলমূলে নিষ্পত্তি, বাদী কতৃক ২৪৮ ধারায় প্রত্যাহার। এ তথ্য বিশ্লেষণ করে আইনজ্ঞরা বলছেন, পিবিআই-এর তদন্তে ৫৬ ভাগ মামলা ভুয়া বলা হলেও এর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘পিবিআই-এর বিশ্লেষণ থেকে এটা স্পষ্ট যে ৫৬ ভাগ মামলা প্রমাণ হয়নি। এ কথাটি বহু আগে থেকে আমরা বলে আসছি। কাজেই পিবিআই নতুন করে কিছু পায়নি বরং আরও পাওয়া দরকার ছিল। সরকার, মিডিয়া এবং আমরা সবাই বলে আসছি-এ মামলাগুলো মিথ্যা, মানে যথাযথ না। সেই মিথ্যা মামলা পিবিআই-এর একটি ফরমালি তদন্তের মাধ্যমে উঠে এসেছে। আমাদের সেই কথাই প্রমাণ হয়েছে। তিনি বলেন, ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মামলা প্রমাণ হবে না, এটা আমরা বলেছি। এ মামলাগুলো চাঁদাবাজির জন্য হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে চরম নৃশংসতা চালায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা নির্বিচারে হত্যা করে ছাত্র-জনতাকে। তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ভুক্তভোগীরা মামলা দেওয়া শুরু করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে নিরপরাধ মানুষকে আসামির তালিকায় ঢোকানো এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর নাম ঢুকিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে জুলাই আন্দোলনের মামলায় আসামি গ্রেফতারে ‘ঊর্ধ্বতনের অনুমতি’ লাগবে মর্মে নির্দেশ দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এছাড়া ভুয়া আসামিদের নাম বাদ দিতে উদ্যোগ নেয় সরকার।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় সারা দেশে থানা ও আদালতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ১০৬টির। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩-এর (অ) ধারায় ৪৩৭টি মামলায় ২ হাজার ৮৩০ জনকে এ পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

পিবিআই-এর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া মামলার বেশির ভাগই বাদী ও সাক্ষীর কোনো অস্তিত্ব নেই।

বাদী মো. আব্দুল আজিজের করা সিআর মামলা নম্বর ৮৯০/২০২৪ (মিরপুর)। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় মিরপুর ইসিবি চত্বরে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেন বাদী। ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনকে আসামি করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। এসআই হুমায়ন কবির তদন্ত শেষে ঢাকার আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট (প্রমাণ হয়নি) জমা দেন। তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাদী আব্দুল আজিজের স্থায়ী ও অস্থায়ী নাম-ঠিকানা ভুয়া। জাতীয় পরিচয়পত্রও জাল। মামলায় যে মোবাইল নম্বরটি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটিও অন্য এক নারী ব্যবহার করেন। আব্দুল আজিজ নামের কাউকেই চেনেন না ওই নারী। সাক্ষী হিসাবে যাদের নাম রয়েছে, তাদেরও নাম-ঠিকানা ভুয়া।

কথিত বাদী আজিজের মামলার ১১ নম্বর আসামি আব্দুল লতিফের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার বেতকান্দি গ্রামে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি কৃষিকাজ করি। গত ১০ বছরের মধ্যে ঢাকায় যাইনি। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা শত্রুতা করে মামলায় আমার নাম ঢুকিয়েছে। এখন পর্যন্ত দুটি মামলায় নাম দিয়েছে আমার। গ্রেফতার করানোরও চেষ্টা করেছে।’ এমন আরেকটি মামলার বাদী মো. রাজিন ওরফে রাজন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিতে আহত হয়েছেন দাবি করে ২ জানুয়ারি আদালতের মাধ্যমে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলার বিবরণীতে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৮ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বনানী চেয়ারম্যানবাড়ীর সামনে আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। পরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেন। মামলায় ১২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলা তদন্ত শেষে পিবিআই-এর পরিদর্শক মো. আজিজুল হক আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, এ মামলার বাদীর সব তথ্য ভুয়া। এমনকি মামলায় যে মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ব্যবহার করেন অপর এক ব্যক্তি। এছাড়া সাক্ষীদেরও কোনো অস্তিত্ব নেই।

সূত্র বলছে, ডিএমপির তেজগাঁও থানার একটি হত্যা মামলার (৯৬০/২০২৪ নম্বর মামলা) তদন্ত করেন এসআই ফিরোজ আহম্মেদ মুন্সী। মামলাটিতে ২০৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়। এসআই ফিরোজ যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি করেন এক উৎসুক জনতা। নিহতের বাবা একই ঘটনায় অন্য একটি থানায় মামলা করায় আদালত সিআর মামলাটি খরিজ করে দিয়েছে।

প্রমাণিত হওয়া মামলায় পিবিআই-এর তদন্তে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময়ের ৩৪টি মামলার মধ্যে বেশির ভাগ আসামির সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা মেলেনি। ওইসব আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে অন্যতম সিআর মামলা নম্বর ৪৪৪৮/২০২৪ (গুলশান)-এর ৭৭.৪২ ভাগ, ০৩/২০২৫ (তুরাগ)-এর ৯০.৪০ ভাগ, ৫৪১/২০২৪ (বাড্ডা)-এর ৫৫.৭০ ভাগ, ৭৭০/২০২৪ (যাত্রাবাড়ী)-এর ৪৮ ভাগ, ৯০২/২০২৪ (যাত্রবাড়ী)-এর ৮৪ ভাগ, ৭৬৭/২০২৪ (যাত্রাবাড়ী)-এর ৬৭ ভাগ, ৯৯৫/২০২৪ (বাড্ডা)-এর ৮৫.২৩ ভাগ, ১৭০৮/২০২৪ (বোয়ালিয়া)-এর ৮১.৮১ ভাগ, ৩৮৪/২০২৪ (রাজপাড়া)-এর ৬৬.৩৩ ভাগ এবং ২৪৭/২০২৪ (জালালাবাদ)-এর ৮২.০৫ ভাগ আসামি ভুয়া।

গত বছর ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে বুকের পাশে গুলিবিদ্ধ হন সজীব (১৯) নামের এক যুবক। এ ঘটনায় তার বাবা মহসীন বাদী হয়ে ২৫৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন (মামলা নম্বর ৯০২/২০২৪-যাত্রাবাড়ী)। মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই-এর এসআই মো. জামিল উদ্দিন রাশেদ। তদন্ত শেষে মাত্র ২০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। মামলা থেকে ২৩৩ জনের নাম বাদ দেন তিনি। অর্থাৎ, ৮৪ ভাগ আসামি ভুয়া। এ বিষয়ে এসআই মো. জামিল উদ্দিন রাশেদ যুগান্তরকে বলেন, ২৫৩ আসামির মধ্যে মাত্র একজন যাত্রাবাড়ীর। ১৫ থেকে ১৬ জন ঢাকার। অন্য সবাই দেশের বিভিন্ন জেলার। তাদের মোবাইল সিডিআর পর্যালোচনা করে ঢাকায় তাদের লোকেশন বা অবস্থান পাওয়া যায়নি।

প্রথম আলো

দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘সরকারের দেশ চালানো নিয়ে কিছুটা সন্তুষ্ট ৪৯% মানুষ, অত্যন্ত সন্তুষ্ট ৫%’। খবরে বলা হয়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে, তাতে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের মধ্যে কমবেশি সন্তুষ্টি রয়েছে। একটি বড় অংশের মানুষ বলেছেন, তাঁরা সন্তুষ্ট নন, অসন্তুষ্টও নন। আরেকটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে অসন্তুষ্টি রয়েছে।

প্রথম আলোর উদ্যোগে করা এক জরিপে মানুষের এই মতামত উঠে এসেছে। জরিপটি করেছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কি–মেকারস কনসালটিং লিমিটেড।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তিন দিন পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের বয়স হয়েছে ১৫ মাসের কিছু বেশি। জরিপে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে, তাতে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

জবাবে সবচেয়ে বেশি, ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা কিছুটা সন্তুষ্ট। ৫ দশমিক ২ শতাংশের মত, তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। দুইয়ে মিলে সন্তুষ্টি থাকা মানুষের হার দাঁড়ায় সাড়ে ৫৪ শতাংশ। সন্তুষ্ট নন, অসন্তুষ্টও নন, এমন মানুষের হার কম নয়—২৩ শতাংশ।

কিছুটা অসন্তুষ্ট মানুষের হার ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। আর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট মানুষ ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। দুইয়ে মিলে দেখা যাচ্ছে, অসন্তোষ থাকা মানুষের হার সাড়ে ২২ শতাংশ।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, সরকার মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো করেছে বলে মনে করেন সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ। অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং দুর্নীতি দমনে সরকার সবচেয়ে ব্যর্থ বলে মনে করেন জরিপে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক মানুষ।

দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে মানুষের মতামত জানতে প্রথম আলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জরিপ করেছে। এবার প্রথম আলোর জন্য জরিপ করা কি–মেকারস কনসালটিং লিমিটেড গবেষণা ও পরামর্শদানে পেশাদার সংস্থা। জরিপের শিরোনাম ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক–রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ–২০২৫’।

জরিপে অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা, সংস্কার, গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের আর্থিক অবস্থা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দেশের আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ, ধর্মীয় শান্তি-সম্প্রীতি, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের প্রভাব; গণ-অভ্যুত্থান, আইনশৃঙ্খলা ও পরবর্তী নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা; ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন, ভোট দেওয়ার আগ্রহ, রাজনৈতিক দলের জয়ের সম্ভাবনা, নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানের প্রভাব, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা কার, আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশা ইত্যাদি বিষয়ে মানুষের মতামত উঠে এসেছে।

জরিপে দেশের ৫টি নগর এবং ৫টি গ্রাম বা আধা শহর অঞ্চলের প্রাপ্তবয়স্ক (১৮-৫৫ বছর) ১ হাজার ৩৪২ জন মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে পুরুষ ৬৭৪ জন, নারী ৬৬৮ জন। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষেরা বিভিন্ন আয়, শ্রেণি ও পেশার। গত ২১ থেকে ২৮ অক্টোবর জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপকারী প্রতিষ্ঠান বলেছে, এটি একটি মতামত জরিপ। এটা দেশের প্রতিনিধিত্বমূলক জরিপ, তবে নির্দিষ্টভাবে কোনো নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে না। জরিপের নমুনা এমন মানুষদেরই তুলে ধরেছে, যাঁরা অনলাইন অথবা ছাপা পত্রিকা পড়তে পারেন এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জরিপের ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতার (কনফিডেন্স লেভেল) মাত্রা ৯৯ শতাংশ।

১১টি ক্ষেত্রে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা

জরিপে ১১টি ক্ষেত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, নিচের বিষয়গুলোয় অন্তর্বর্তী সরকার কতটা সফল বা ব্যর্থ বলে আপনি মনে করেন? ছয়টি ক্ষেত্রে ৫০ বা তার বেশি শতাংশ মানুষ সরকারকে সফল বলে উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, ধর্মীয় শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখা, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঘটা নির্যাতন-নিপীড়নের বিচার, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লুটপাট ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচার, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি করা এবং নারীর নিশ্চিন্তে চলাফেরা ও নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

পাঁচটি ক্ষেত্রে সরকারকে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেছেন জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ। সেগুলো হলো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, দুর্নীতি দমন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাচার হওয়া টাকা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ।

অন্তর্বর্তী সরকার দেশে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় যেসব কাজ করেছে, তাতে আপনি কতটা সন্তুষ্ট—এমন একটি প্রশ্ন ছিল জরিপে। উত্তরদাতাদের মধ্যে ৫১ শতাংশের কিছু বেশি সন্তুষ্টির কথা বলেছেন। অসন্তুষ্টির কথা বলেছেন ১৫ শতাংশ। বাকিরা (৩৩ শতাংশ) সন্তুষ্ট-অসন্তুষ্ট কিছুই নন।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘ফের তেজিভাব মূল্যস্ফীতির’। খবরে বলা হয়, নিত্যপণ্যের বাজারের উত্তাপ অসহনীয়। শীতের ভরা মৌসুমে শাক-সবজির দাম হাতের নাগালে থাকার কথা থাকলেও দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাধারণ ভোক্তার নাভিশ্বাস অবস্থার যেন শেষ হচ্ছে না! এর মধ্যেই আবার খবর এলো নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়েছে। খোদ সরকারি হিসাবেই পণ্যের দাম বাড়তির এ খবর জানাল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

নভেম্বর মাসে তা আবার বেড়ে হয়েছে ৮.২৯ শতাংশ। এর আগের কয়েক মাস মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে এলেও সবজির ভরা মৌসুমে দাম বাড়তে থাকার এ প্রবণতা ভোক্তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গতকাল রবিবার মাসিক ভোক্তা মূল্যসূচকে (সিপিআই) মূল্যস্ফীতির এসব তথ্য তুলে ধরেছে বিবিএস। কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

সিপিআইয়ের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের একই মাসের তুলনায় চলতি বছরের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এ হার ছিল ১১.৩৮ শতাংশ।

গত বছর জুলাই মাসে আন্দোলনের ধাক্কায় সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড ১১.৬৬ শতাংশে উঠেছিল। কিছুটা কমে ওই বছরের নভেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১.৩৮ শতাংশ।

চলতি বছরের অক্টোবরে তা কমে ৮.১৭ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা ৩৯ মাসের মধ্যে ছিল সবচেয়ে কম। কিন্তু হালনাগাদ তথ্যে নভেম্বরে আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮.২৯ শতাংশ।

সিপিআই সূচক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েক মাস ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি ওঠানামার মধ্যে থাকলেও ৮ শতাংশের ঘরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তিন বছর ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। সদ্যঃসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০.০৩ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭.৩৬ শতাংশ, যা অক্টোবর মাসে ছিল ৭.০৮ শতাংশ। টানা দুই মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। তবে গত বছরের নভেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৩.৮০ শতাংশ, অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে খাদ্য খাতে চাপ কিছুটা কমেছে।

নভেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৯.০৮ শতাংশে। অক্টোবর মাসে এ হার ছিল ৯.১৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯.৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের নভেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কম রয়েছে।

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে গ্রামাঞ্চলে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.২৬ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ৮.১৬ শতাংশ। আর শহরে গড় মূল্যস্ফীতি অক্টোবর মাসের ৮.৩৩ শতাংশ থেকে বেড়ে নভেম্বরে ৮.৩৯ শতাংশ হয়েছে। শহর এবং গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়লেও কমেছে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যমূল্যের দাম।

মূল্যস্ফীতি বাড়ায় খেটে খাওয়া মানুষের পকেটের ওপর চাপ বাড়লেও মজুরি হারের সূচকে কোনো সুখবর নেই। সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার যেখানে ৮.২৯ শতাংশ, সেখানে নভেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮.০৪ শতাংশ। এর অর্থ হলো জীবযাত্রার ব্যয় যে হারে বাড়ছে, মানুষের আয় সেভাবে বাড়ছে না।

দু-তিন বছর ধরে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এনবিআরও তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়। বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানিপ্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়।

সমকাল

‘আসন সমীকরণ মিলছে না, ৫ জোটে বিভক্ত দলগুলো’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের নির্বাচনমুখী দলগুলো এ মুহূর্তে পাঁচটি জোটে বিভক্ত। তবে নির্বাচনী আসন বণ্টন জটিলতায় জোটগুলো অটুট থাকবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিএনপির সঙ্গে আসন নিয়ে টানাপোড়েন চলছে ক্ষুব্ধ মিত্র দলগুলোর। বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত আসন না পাওয়া কয়েকটি দল জামায়াতে ইসলামীর ‘নির্বাচনী সমঝোতা’র বলয়ে ঝুঁকছে। কিন্তু সেখানেও আসন নিয়ে টানাপোড়েন আছে।

গতকাল রোববার নিজেরা পৃথক জোট করলেও বিএনপি অথবা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার পথ খোলা রেখেছে এনসিপি।

ভোটের মাঠে বড় শক্তি নয়, কিন্তু পরিচিত– এমন ৯টি বামপন্থি দলও নির্বাচনী জোট করেছে। জাতীয় পার্টিসহ (জেপি) আওয়ামী লীগের কয়েকটি মিত্র দলের জোটের আজ সোমবার আত্মপ্রকাশ করার কথা আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মতো তৎপরতা নেই ১৪ দলের শরিকদের। আর ফ্যাসিবাদের দোসর তকমা পাওয়া জাতীয় পার্টি এখনও একা। দলটির নির্বাচনী তৎপরতা দৃশ্যমান নয়।

দলগুলো কে কোন জোটে

আগামী ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে আছে ১২ দলীয় জোট, ১১ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, পাঁচদলীয় গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি, বিজেপি, এনডিএম, গণঅধিকার পরিষদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও গণফোরাম।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী সমঝোতায় রয়েছে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, জাগপা, ও বিডিপি। আসন না পেয়ে বিএনপিকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে সঙ্গ ছাড়া লেবার পার্টি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট করেছে। গতকাল এই জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। বিএনপির কাছ থেকে আসনের আশ্বাস না পাওয়া রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন গণতন্ত্র মঞ্চ ছেড়ে এই জোটে এসেছে। আসন না পাওয়া আরও কয়েকটি দল আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য-ন্যাপ, বাসদ (মাহবুব) মিলে গঠন করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট নামে নির্বাচনী মোর্চার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি (জেপি), জাতীয় পার্টি (আনিস-হাওলাদার), জাপা (মতিন), মুসলিম লীগ, এনপিপিসহ ১৬টি দল। জি এম কাদেরের সঙ্গে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে গত আগস্টে জাতীয় পার্টি ভেঙে একই নামে আরেকটি দল হয়। নিবন্ধিত জেপি, জাপা (মতিন), মুসলিম লীগ, এনপিপি ডামিখ্যাত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

নিবন্ধিত ৫৬ দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকা ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, তরীকত ফেডারেশন, বিকল্পধারাসহ কয়েকটি দলের এখন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘নির্বাচন এবং গণভোটের তপশিল এই সপ্তাহেই’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তপশিল চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন ঘোষণা করা হবে। এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকক্ষে গোপনকক্ষ (সিক্রেট বুথ) বাড়ানো এবং ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা থেকে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মীদের আপাতত বাদ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি (ইলেকট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটি) গঠন করছে ইসি, তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথম ইনকোয়ারি কমিটিকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হলো।

গতকাল রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশনের দশম সভা শেষে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর বিধান মতে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের দিয়ে দেশের প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় একটি করে ৩০০টি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থী, তার কর্মী-সমর্থক নির্বাচনি আচরণবিধি ভাঙলে এবং অপরাধ স্বীকার করলে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ঐ কমিটি তাদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে শাস্তি বা ক্ষেত্রবিশেষে জেল-জরিমানা দিতে পারবে। একই সঙ্গে তপশিল ঘোষণার পর প্রথম দিকে সীমিতসংখ্যাক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। ভোটের আগে এ সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। প্রতিটি উপজেলার জন্য দুই জন, প্রতি ৯টি ওয়ার্ডের জন্য দুই জন, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটির জন্য ১৫ জন এবং চট্টগ্রাম সিটির জন্য ১০ জন নির্বাচনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রার্থী বা কর্ম-সমর্থকদের আচরণবিধি তদারকি করবেন।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দশম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ব্যালট পেপার আগের রাতেই কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। সভার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচনি সামগ্রীসহ নির্বাচনের ব্যালট ভোটের দিন সকালে পাঠানোর জন্য প্রস্তাব রেখেছিলেন। কিন্তু বৈঠকে এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আসে। পরে নিরাপত্তা শঙ্কা অগ্রাধিকার বিবেচনায় এই কমিশনারের প্রস্তাব নাকচ হয়। তপশিল ঘোষণার পর ঐ দিন রাতেই নির্বাচনের কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জুম মিটিং করবে ইসি কমিশন।

এদিকে, রবিবার বেলা সাড়ে ১০টায় সিইসির সভাপতিত্বে শুরু হওয়া কমিশন সভা দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত চলে। এরপর সভাটি দেড়টা পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়। পরে দুপুরে আরেক দফা আলোচনার পর বিকালে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এ সময় সভায় চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নয়া দিগন্ত

‘কোটিপতি বেড়েছে ৯ হাজার’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অর্থনীতি ক্রমাগত চাপে- ব্যবসা স্থবির, শিল্পে সঙ্কোচন, মুদ্রাস্ফীতি উচ্চমাত্রায়, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম চরমে। কিন্তু ঠিক এই সময়েই দেশে নতুন আরো ৯ হাজার কোটিপতি আমানতকারী সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরো চমকে দেয়ার মতো তথ্য- এক বছরে কোটিপতিদের অ্যাকাউন্টে ৫৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি নতুন অর্থ জমা হয়েছে।

এ প্রশ্ন এখন তীব্র- যেখানে মধ্যবিত্তের সঞ্চয় ভাঙছে, নিম্নবিত্ত ঋণে ডুবছে, ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ কমাচ্ছে- সেখানে এত বিপুল টাকা কারা জমাচ্ছে? এবং কেন? এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে বৈষম্যের গভীরতর ছবি- যা শুধু সম্পদের বৃদ্ধি নয়, বরং ব্যাংকিং ব্যবস্থার অদৃশ্য অসাম্য, অনিয়ম এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতাশীল গোষ্ঠীর উত্থানকেও উন্মোচন করে।

কোটিপতি তালিকা-সঙ্কটের মধ্যেও ৭.৫% বৃদ্ধি : বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে-গত বছরের সেপ্টেম্বরে কোটিপতি আমানতকারী ছিল-১ লাখ ১৯ হাজার ১৫৪ জন। আর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০ জন। অর্থনৈতিক ধসের সময় কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা প্রায় ৭.৫% বেড়ে যাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘স্বাভাবিক বাজারের আচরণ নয়।’

তাদের মতে-এটি দুটি জিনিস নির্দেশ করে- টাকার সুষম বণ্টন অর্থনীতিতে হচ্ছে না, বরং কেন্দ্রীভূত হচ্ছে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কাছে। অর্থনীতির উৎপাদন অংশ সঙ্কুচিত, কিন্তু অদৃশ্য আর্থিক প্রবাহ বাড়ছে- এর মধ্যে সন্দেহজনক প্রবণতা আছে।

ভয়ঙ্কর তথ্য: সবচেয়ে ‘বড় কোটিপতি’ দ্রুত বাড়ছে : ৫০ কোটি টাকার উপরে আমানতকারীর সংখ্যা গত বছর ছিল ১,৮০০ জন আর এ বছর ১,৯৪৭ জন। এই ১৪৭ জন নতুন বড় কোটিপতি কীভাবে এই সময়েই ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থ জমাতে পেরেছেন-এ প্রশ্ন ব্যাংক খাতেও উচ্চারিত হচ্ছে। শুধু সংখ্যা নয়, তাদের অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ বেড়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। এটি আর্থিক বৈষম্যের সবচেয়ে বড় সঙ্কেত।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর ‘ভোটগ্রহণের সময় বাড়ল এক ঘণ্টা, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের রাখা হচ্ছে না নির্বাচনী দায়িত্বে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে গতকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নির্বাচন কমিশনাররা। এ সময় তারা নির্বাচন আয়োজনের অগ্রগতি সরকারপ্রধানকে অবহিত করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

এর আগে গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দশম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেয়া হয় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এবারের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় বাড়ছে ১ ঘণ্টা। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্বে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার মূলত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব সামলাবেন।

সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত করা এবং সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্যই সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। এ উপলক্ষে বিটিভির মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হবে। আমরা বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ রেকর্ডের জন্য সোমবার (আজ) চিঠি দেব। তবে তফসিল-পূর্ব কার্যক্রমের মধ্যে আমাদের কতগুলো রীতিগত কাজ আছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করব পুরো কমিশন।’

মো. সানাউল্লাহ আরো বলেন, ‘তফসিল-পূর্ব যে কার্যক্রমগুলো এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর স্টেপ নেয়া হয়েছে। যেমন সংলাপ, আইন, বিধির সংস্কার এবং গত সপ্তাহে যে সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে, আজ বা কালকের মধ্যে সেগুলো আমরা হাতে পেয়ে যাব। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার স্টকে নিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এ তালিকায় সংযুক্ত করব। বেসরকারি যে ব্যাংকগুলো আছে, সেগুলো আপাতত বিবেচনায় নিচ্ছি না। তারা (বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা) রিজার্ভে থাকবে।’

আজকের পত্রিকা

‘ভোটের আগে নেশার বাণিজ্য’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে ফেনসিডিলের পাশাপাশি নেশা-জাতীয় একই ধরনের নতুন তিনটি সিরাপের বিস্তার ঘটাতে চাইছে ভারতের মাদক কারবারিরা। বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা ভারতের ১০ জেলার কারখানায় তৈরি এসব মাদক ঢুকছে দেশের আট সীমান্ত জেলা দিয়ে। ইতিমধ্যে ছোট কয়েকটি চালান আটকও হয়েছে। মাদক হিসেবে এখনো অপরিচিত নতুন এসব সিরাপ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে নতুন এসব মাদকের বড় বড় চালান বাংলাদেশে পাঠানোর ছক কষছে ভারতের মাদক কারবারিরা। ফেনসিডিলের মতো এসব সিরাপও কোডিন ফসফেট মিশ্রিত। বোতলজাত এসব মাদকের দেশে প্রবেশ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, ফেনসিডিলের মতো নেশাজাতীয় নতুন এই সিরাপগুলো হলো ‘ব্রনোকফ সি’, ‘চকো প্লাস’ ও ‘উইন কোরেক্স’। এগুলোর মধ্যে ব্রনোকফ সি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অধিদপ্তর। নেশাজাতীয় উপাদান থাকায় কাশির এসব সিরাপ ইতিমধ্যে ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নাম নতুন হলেও এই তিন সিরাপের নেশার মাত্রা ফেনসিডিলের সমান। ফেনসিডিলের বোতলে ভরে নতুন নামের মোড়ক লাগিয়ে পাঠানো হচ্ছে। এর আগে ভারত থেকে এস্কাফ নামের সিরাপও একইভাবে দেশে ঢুকেছিল।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮৩ লাখ। তাদের বেশির ভাগ পুরুষ। নারী ও শিশুদের মধ্যেও মাদকাসক্তি রয়েছে। ৩ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি মাদকসেবী ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদকে আসক্ত।

অধিদপ্তরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অধিশাখা বলছে, এসব মাদক সেবনে গলা শুকিয়ে যাওয়া, ঝিমুনি, লিভার-কিডনি অকেজো হওয়া এবং দীর্ঘ মেয়াদে পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক ক্ষতি হয়।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ভারতের সীমান্তবর্তী ১০টি জেলায় কমপক্ষে ৬২টি কারখানায় নেশাজাতীয় নতুন তিন ধরনের সিরাপ তৈরি হচ্ছে। এসব কারখানা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ, ত্রিপুরার পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চল, সিপাহীজলা, বিলোনিয়া, শান্তির বাজার ও মেঘালয় রাজ্যের একটি জেলায়। এসব কারখানাকেন্দ্রিক ৩৭৪ ভারতীয় মাদক কারবারি বাংলাদেশে মাদক চোরাচালান করে। এসব মাদক ঢুকছে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলেছে, অধিদপ্তর ভারতে মাদক তৈরির এসব কারখানা ও কারবারিদের বিস্তারিত পরিচয়, ঠিকানা, পাঠানোর রুট এবং জিরো লাইন থেকে দূরত্ব পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্য ভারতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিয়ে কারখানাগুলো বন্ধের সুপারিশ করবে বাংলাদেশ সরকার। পাশাপাশি এই মাদক দেশের যে আট সীমান্ত জেলা দিয়ে ঢুকছে, সেখানকার পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক করা হবে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘হাসিনার প্রত্যর্পণ অনিশ্চিত’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক প্রায় সব দল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে দফায় দফায় দাবি তোলা হচ্ছে। তবে দেশটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সহসা প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।

নয়াদিল্লির ক্ষমতাকাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির ‘অবস্থান’ বিবেচনায় নিয়ে এমনটা মনে করছেন ঢাকায় সরকার ও সরকারের বাইরের বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত করে শেখ হাসিনার মৃত্যুদ- হওয়ার পর থেকে ভারত চাপে আছে। তাকে বাংলাদেশ ফেরত চায়। এমন পরিস্থিতিতে তাকে কেন্দ্র করে চার ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ আছে। প্রথমত, তিনি নিজ সিদ্ধান্তে দেশে ফিরে আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করবেন কি না? দ্বিতীয়ত, ভারত তাকে বাংলাদেশ কর্র্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবে কি না? তৃতীয়ত, অন্য কোনো দেশে চলে যাওয়ার জন্য ভারত সরকার তাকে চাপ দেবে কি না? চতুর্থত, তিনি এখন যেভাবে ভারত সরকারের আশ্রয়ে আছেন, সেভাবেই তাকে সেখানে অনির্দিষ্টকাল থাকতে দিয়ে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের দিক থেকে আসা চাপ ক্রমান্বয়ে সইয়ে নেওয়া। শেখ হাসিনা নিজেই ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে তার ক্ষেত্রে ভারত সরকার চতুর্থ পথটি বেছে নিতে পারেন এমনটা মনে করছেন ঢাকার কূটনীতিকরা।

হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের দিক থেকে প্রকাশ্যে আসা সর্বশেষ বক্তব্যের কী ব্যাখ্যা এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ভারত এখন চাপে আছে। কিন্তু তিনি (হাসিনার) নিজে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা মেনে নেওয়া ছাড়া ভারত সরকারের জন্য দৃশ্যত অন্য পথ খোলা নেই। তিনি বাংলাদেশে ফেরত এলে, কিংবা তৃতীয় কোনো দেশে চলে গেলে ভারত বেঁচে যায়।’ দেশ রূপান্তরের এক প্রশ্নের জবাবে বর্তমানে গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট সাবেক এই রাষ্ট্রদূত গতকাল রবিবার এ কথা বলেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে গত শনিবার দিল্লিতে গণমাধ্যম এনডিটিভি প্রশ্ন করে, শেখ হাসিনার যতদিন চান ততদিনই ভারতে থাকতে পারবেন কি না? জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘তিনি (হাসিনার) একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে এখানে এসেছিলেন। আমি মনে করি, সেই পরিস্থিতির স্পষ্ট প্রভাব এ ঘটনার (তার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার) ওপর ছিল। আবার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা তার নিজেকেই নিতে হবে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

’৭১-এ তারা লাখ লাখ মানুষ হত্যা ও মা-বোনের ইজ্জত লুটেছিল-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা বলছেন অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখেছেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের দেখুন, মানুষ তাদের ১৯৭১ সালে দেখেছে। কীভাবে তারা লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে।

গতকাল বিজয়ের মাস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সভায় তারেক রহমান আরও বলেন, ‘কিছু কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শুনেছি বা বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে যে অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, এবার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদেরকে তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। তাদের নতুন করে আর দেখার কিছুই নেই। ’৭১-এ কোনো কোনো গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল। শুধু মানুষ হত্যাই করেনি, তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল, এই কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। সেই দেশকে গড়তেও কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করতে হবে।

যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করবে বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন অরাজকতা বিরাজ করছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমি প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বলে আসছি, আমাদের সামনে সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়। সামনে অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এ দেশের জনগণ। এই ষড়যন্ত্র দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দিতে পারে বিএনপি। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র।’ তারেক রহমান বলেন, দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দিতে হলে পরিকল্পনা থাকতে হবে। বিভিন্ন সময়ে দেশ যখন সংকটের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তখন বিএনপি ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি করেছে। বিএনপি সরকারে গেলে পরিবর্তন হবে। তবে বিএনপি দেশকে মালয়েশিয়া, কানাডা, আমেরিকা বানাতে চায় না। স্বনির্ভর বাংলাদেশ বানাতে চায়।