ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯ সফর ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

চলতি পথে

ঘুষ খাচ্ছি, ঘুষ দিচ্ছি ঘুষেই আছি ডুবিয়া

শুভ কিবরিয়া
৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার

ঘুষ নিয়ে যত রকমফেরই করি না কেন, ঘুষ রাষ্ট্রের জন্য স্বাস্থ্যকর বিষয় নয়। প্রথমত, ঘুষ প্রাতিষ্ঠানিকতা পেলে রাষ্ট্রের নৈতিকতার ভিত ধসে পড়ে। ন্যায্যতা ভুলুণ্ঠিত হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়। সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় সম্পদের যোগান দেয়া সম্ভব হয় না। সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দেয়। আয় ও ব্যয়ের অসামঞ্জস্যের ফলে বাজেট ঘাটতি বেড়ে চলে। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। ঘুষপ্রবণ সমাজে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের দ্রুত অবনতি ঘটে


অভিজ্ঞতা-১ 

অফিস টাইম সকাল ৮টা হবার পর এক দুপুরে ফটোকপির এক দোকানে গিয়েছি নিজের কিছু কাজে। সেখানে দেখি কম্পিউটারে জন্মনিবন্ধন সনদের বিষয়ে ফরম পূরণ করছেন বেশ ক’জন।

বিজ্ঞাপন
চলছে হুড়োহুড়ি। তাড়াহুড়ো কেন? খেয়াল করলাম, পাশের সরকারি অফিসের ক’জনও ব্যস্ত নানারকম সই-স্বাক্ষর নিয়ে। আরেকটু খেয়াল করতেই বুঝলাম এই কাজে ক’জন দালাল শ্রেণির মানুষও কথা বলছেন সেখানে। তাদের কথোপকথনেই বুঝলাম এই অফিস টাইম বদলের সুযোগ নিচ্ছেন সবাই। দায়িত্বরত কর্মী-কর্মকর্তা এবং দালাল সবারই রেট বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং, অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ, অফিস সময়ের পরিবর্তন, আর নানা বিপত্তিতে অফিসে কাজের নেট সময় যেহেতু কমেছে, সুতরাং ভোগান্তি বেড়েছে আমজনতার। একই সেবা গ্রহণের জন্য তাদের এখন সার্ভিস চার্জ বা ঘুষ দিতে হচ্ছে বেশি বেশি। 

অভিজ্ঞতা-২ 

সেগুনবাগিচা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বেরিয়ে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তায় কলেজ হাসপাতাল লাগোয়া এক সিএনজি চালকের সঙ্গে দরদাম করছি। সিএনজিতে উঠতেই দেখি সামনে হাজির হলেন গেটে দায়িত্বরত দারোয়ান। হাত বাড়াতেই সিএনজি চালক তার হাতে গুঁজে দিলেন ২০ টাকা ও ১০ টাকার এক নোট। সিএনজি চালক, দাড়িওয়ালা এক হৃষ্টপুষ্ট মানুষ। জিজ্ঞাসা করলাম, চাঁদা দিলেন? খুশি মনেই সিএনজি চালক বললেন, না না চাঁদা না। ওদের গেটের সামনে দাঁড়াতে দেয়, এই জায়গায় তো সিএনজি রাখতে দেয়ার কথা না, ফলে ওদের চা-পানি খাবার টাকা দিলাম। ওরা তো জোর জবদস্তি করে না। আপসেই চায়। বললাম, আমার কাছে যখন ভাড়া চাইলেন তখন বলছিলেন আরও ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েন। তার মানে ওকে খুশি করার টাকা যাত্রী হিসেবে আমার কাছ থেকে নিয়ে পুষিয়ে দিলেন। ঘুষের টাকাটাও যাত্রীর পকেট থেকে বেরিয়ে গেল! সিএনজি চালকের তাতে কোনো ভাবান্তর নেই। উনি এতে অখুশিও নন। বুঝলাম, এই ঘুষ নেনেওয়ালা আর দেনেওয়ালার মধ্যে কোনো অপরাধবোধ নেই!! 

অভিজ্ঞতা-৩ 

বছর দুয়েক আগের কথা। দেশের একজন বড় ওষুধ কোম্পানির মালিকের নিজের মুখে তার বড় হওয়ার গল্প শুনতে গেছি। বড় ইন্টারভিউ। বেশ ক’ঘণ্টা সময় দিলেন। কথার ফাঁকে ফাঁকে আজান হলেই নামাজ আদায় করলেন নিজের ঘরেই। তিনি খুব আশাবাদী, একসময় তার ওষুধ কোম্পানি এশিয়ার মধ্যে বড় জায়গা করে নেবে। তার কোম্পানির বাৎসরিক গ্রোথও সে কথাই বলে। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, বাংলাদেশে যেখানে নানাভাবে সুশাসনের ঘাটতি আছে, সেখানে কাজ করতে বাধা পেতে হয় না। আমার আশংকা ছিল, তাকে হয়তো নানা রকম অযাচিত বাধার মুখোমুখি হতে হয়, সেটাকে মোকাবিলা করেই তিনি এতদূর এসেছেন, সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাই বলবেন। অবাক করে দিয়ে বললেন, এখানেই বরং কাজ করার সুবিধা বেশি। ইউরোপ-আমেরিকায় যা করতে পারবেন না, এখানে তা অনায়াসে করা সম্ভব। খরচটা হয়তো একটু বেশি পড়বে। আর ঘুষ পৃথিবীর কোথায় নাই বলুন! আমরা অবশ্য এটাকে সার্ভিস চার্জ হিসেবেই দেখি। বললাম, কিন্তু সেই খরচের দায় তো শেষাবধি, ভোক্তার ঘাড়েই চাপে!! এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কিছু বললেন না। এ নিয়ে তার ভাবান্তরও তেমন হলো না। 

ঘুষ: গবেষণাভাষ্য 

এই তিন অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়লো, সমপ্রতি টিআইবি বাংলাদেশ প্রকাশিত ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২১’, দেখার পর। সেবাখাতে দুর্নীতি ২০২১ জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় ২০২১ সালে ১৭টি খাত বিবেচনায় সার্বিকভাবে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত সাতটি খাত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা (৭৪.৪%), পাসপোর্ট (৭০.৫%), বিআরটিএ (৬৮.৩%), বিচারিক সেবা (৫৬.৮%), স্বাস্থ্যসেবা (৪৮.৭%), স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান (৪৬.৬%) এবং ভূমি সেবা (৪৬.৩%)। ২০২১ সালে সার্বিকভাবে ঘুষের শিকার হওয়া খানার হার ৪০ দশমিক ১ শতাংশ। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঘুষ গ্রহণকারী তিনটি খাত হচ্ছে পাসপোর্ট (৫৫.৮%), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা (৫৫.৭%) ও বিআরটিএ (৫০.২%)। ২০২১ সালে সার্বিকভাবে খানা প্রতি গড়ে ৬ হাজার ৬৩৬ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। সর্বোচ্চ ঘুষ আদায়ের তিনটি খাত হলো বীমা (সেবাগ্রহীতা খানাপ্রতি গড়ে ২১,৭৬৫ টাকা), বিচারিক (সেবাগ্রহীতা খানাপ্রতি গড়ে ১৯,০৯৬ টাকা) ও গ্যাস (সেবাগ্রহীতা খানাপ্রতি গড়ে ১১,৭১০ টাকা) সেবা। জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৮৩০ দশমিক ১ কোটি টাকা, যা ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশে জিডিপি’র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। সার্বিকভাবে ২০১৭ সালের তুলনায় সেবাখাতে দুর্নীতির শিকার খানার হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

 ২০২১ সালে যেখানে দুর্নীতির শিকার খানার হার একই খাত বিবেচনায় পাওয়া গিয়েছে ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০১৭ সালে এই হার ছিল ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থের হার কমেছে কিন্তু ঘুষ আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে। অপরদিকে অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ায় সার্বিকভাবে সেবাখাতে দুর্নীতি বেড়েছে। ঘুষের ক্ষেত্রে শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী খানার শিকার হওয়ার হার বেশি (৩৬.৬% বনাম ৪৬.৫%)। উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানার ওপর দুর্নীতির বোঝা অপেক্ষাকৃত বেশি। সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।  জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরুষসেবাগ্রহীতার তুলনায় নারী সেবাগ্রহীতারা কোনো কোনো খাতে বেশি দুর্নীতির শিকার হয়েছে (স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, অন্যান্য খাত)। কোনো কোনো সেবাখাতে নারীদের তুলনায় পুরুষ সেবাগ্রহীতারা বেশি দুর্নীতির শিকার হয়েছে (শিক্ষা, ভূমিসেবা)। এ ছাড়া ৩৫ বছরের নিচের সেবাগ্রহীতাদের তুলনায় ৩৬ ও এর বেশি বয়সের সেবাগ্রহীতারা অপেক্ষাকৃত বেশি দুর্নীতির শিকার হয়। জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুষদাতা খানার ৭২.১% ঘুষ দেয়ার কারণ হিসেবে “ঘুষ না দিলে  সেবা পাওয়া যায় না”-একথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুষ আদায়ের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে। আমার ধারণা টিআইবি’র এই গবেষণার সঙ্গে আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতার খুব একটা হেরফের হবে না। প্রতিনিয়তই সর্বত্রই সেবাগ্রহীতারা ঘুষ দিচ্ছেন বা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এক খাতে যারা ঘুষ খাচ্ছেন তারাও হয়তো অন্য খাতে ঘুষ দিচ্ছেন, তার ন্যায্য সেবা পেতে। ফলে, ঘুষের প্রাতিষ্ঠানিকতা মোটামুটি একটা সর্বজনীন রূপ পেয়েছে।  

ঘুষখোরের রকমফের 

ঘুষ কি সবাই খান? না, সেটা বলা যাবে না। অনেক মানুষই আছেন, যারা ঘুষ খান না। সত্যিকার ভাবেই অর্থিকভাবে সৎ ও সজ্জন মানুষ আছেন। তারা সেবাগ্রহীতার কাছে বাড়তি পয়সা না নিয়েও সেবা দিয়ে যান। আরেক ঘরানার মানুষ আছেন, যারা ঘুষও খান না, সেবাও দেন না। এড়িয়ে চলেন সবকিছু। আরেক ধরনের মানুষ আছেন পাঁড় ঘুষঘোর। ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না। বাড়তি খরচ হলেও সেবাগ্রহীতারা এই ঘুষখোরের কাছ থেকে সেবা পান। কিন্তু বিপজ্জনক হচ্ছে আরেক রকমের মানুষ। যারা ঘুষ নেন অথচ ঘুষ প্রদানকারীকে কোনো সাহায্য করেন না। ফলে ঘুষ দিয়েও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না! 

ঘুষ: অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য 

অর্থনীতিবিদরা দুই ধরনের দুর্নীতির তফাৎ করে থাকেন। এক ধরনের দুর্নীতিকে তারা বলেন নির্ভরযোগ্য বা প্রেডিক্টেবল দুর্নীতি।  আরেক ধরনের দুর্নীতিকে তারা বলেন আনপ্রেডিক্টেবল বা অনির্ভরযোগ্য দুর্নীতি।  নির্ভরযোগ্য দুর্নীতি হলো সে ধরনের ব্যবস্থা যেখানে ঘুষ দিলে কাজ হাসিল করা নিশ্চিত হয়।  বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের দুর্নীতিতে অরুচি নেই  বরং তারা এ ধরনের দুর্নীতি পছন্দ করেন। কেননা, ঘুষ দিয়ে তাড়াতাড়ি কাজ করিয়ে নেয়া যায়। যেটা আমাদের মতো দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য লোভনীয়ও বটে!  তবে, অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো অনির্ভরযোগ্য দুর্নীতি। কেননা, অনির্ভরযোগ্য দুর্নীতিতে ঘুষ দিয়েও কার্যসিদ্ধির কোনো নিশ্চয়তা নেই। 

ঘুষের বিপদ

 ঘুষ নিয়ে যত রকমফেরই করি না কেন, ঘুষ রাষ্ট্রের জন্য স্বাস্থ্যকর বিষয় নয়। প্রথমত, ঘুষ প্রাতিষ্ঠানিকতা পেলে রাষ্ট্রের নৈতিকতার ভিত ধসে পড়ে। ন্যায্যতা ভূলুণ্ঠিত হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়। সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় সম্পদের যোগান দেয়া সম্ভব হয় না। সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দেয়। আয় ও ব্যয়ের অসামঞ্জস্যের ফলে বাজেট ঘাটতি বেড়ে চলে। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। ঘুষপ্রবণ সমাজে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের  দ্রুত অবনতি ঘটে। ঘুষ সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্যকেও বড় করে তোলে। ঘুষের দায় বহন করতে হয় সমাজের দরিদ্র ও বিত্তহীন জনগোষ্ঠীকে।  ধনীরা ঘুষ দিয়ে সাত খুন মাফ পেয়ে যায়, বড় অনৈতিক সুবিধা আদায় নিশ্চিত করে। ঘুষের বড় মাসুল দেয় অসহায়, ক্ষমতাহীন, অধিকারবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠী। ঘুষ প্রথার সামাজিকীকরণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। বড় কথা ঘুষপ্রথা সামাজিকভাবে অনিন্দনীয় হয়ে উঠতে থাকলে রাষ্ট্রের গণতন্ত্র দানা বেঁধে উঠতে পারে না। রাষ্ট্র ক্রমশ অগণতান্ত্রিক, স্বৈরমুখিন, কর্তৃত্বপরায়ণপ্রবণতার দিকে ঝুঁকতে থাকে। কাজেই রাষ্ট্রকে যদি আমরা সত্যিকার গণতান্ত্রিক চেহারায় দেখতে চাই তবে ঘুষের চলমান সংস্কৃতিকে রুখে দেয়া ছাড়া আর কোনো পথ নাই। 

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, [email protected]

পাঠকের মতামত

রিশাদ শামস জানতে চেয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক কি ভাবে পরিমাপ করা হয়? আসলে সাংবাদিকতা পেশায় কোন সিনিয়র জুনিয়র দিয়ে যোগ্যতা বিচার করা হয়না হয় তার মেধা মনন জ্ঞ্যান দক্ষতা দিয়ে। সাংবাদিকতা পেশায় সর্বোচ্চ পদ সম্পাদক। এর বাইরে সারা জীবন চাকুরী করেন বা নিজ পত্রিকায় কাজ করুন প্রকাশক,সম্পাদক এর উপরে উঠার রাস্তা নেই। এর কারণ হচ্ছে সাংবাদিকতা আর দশটা পেশার মতো নয়। এটা একটা মহান পেশা। সিনিয়র সাংবাদিক এ কথাটা সম্প্রতি লিখা হচ্ছে। আপনার মতো আমারও মনে হয় বয়স বিবেচনা করে লিখা হচ্ছে। এটা আমি যতদূর জানি তার আলোকে বললাম। কারণ আমার পিতাও একজন পেশায় সাংবাদিকতা পেশায় ছিলেন সম্পাদক হিসেবে। কোন দিন উনাকে সিনিয়র সাংবাদিক লিখতে দেখিনি।

মিলন আজাদ
৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১:১৫ অপরাহ্ন

দবছর দুয়েক আগের কথা। দেশের একজন বড় ওষুধ কোম্পানির মালিকের নিজের মুখে তার বড় হওয়ার গল্প শুনতে গেছি। বড় ইন্টারভিউ। বেশ ক’ঘণ্টা সময় দিলেন। কথার ফাঁকে ফাঁকে আজান হলেই নামাজ আদায় করলেন নিজের ঘরেই। তিনি খুব আশাবাদী, একসময় তার ওষুধ কোম্পানি এশিয়ার মধ্যে বড় জায়গা করে নেবে। Some of those pharmaceutical company owners become media mogul.

Mohhammad
৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

ভাই, সিনিয়র সাংবাদিক কিভাবে পরিমাপ করা হয়? এটি কি বয়ঃভিত্তিক নাকি পেশার বয়স ধরে?

রিশাদ সামস
৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

Halal ghush ? Haram ghush ?

Ratan
৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

বর্তমানে দেশের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে যে ভাবে হরিলুট চলছে তা দেখার জন্য কেউ আছে বলে মনে হয় না। কার বিচার কে করবে, সবাইতো এক পালের গোদা। কোন সরকারি অফিসে একটি কাজও বিনা ঘুষে করা সম্ভব নয়। তবে এটা ঠিক পয়সা নিলে তারা বেইমানী করে না। টাকা দিলে ওরা আপনার প্রয়োজনীয় গোপন ফাইলটিও বাসায় দিয়ে যায়। সব সম্ভবের দেশ এখন বাংলাদেশ। ধন্যবাদ।

SM Rafiqul Islam
৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

এই ঘুষ নেনেওয়ালা আর দেনেওয়ালার মধ্যে কোনো অপরাধবোধ নেই!! This is the reality of Bangladesh. 99% involved with this practice. They are bound to do the same. It is a regular practice for the last 40 years.

Nadim Ahammed
৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবিবার, ১১:৪২ অপরাহ্ন

আইন অর লাঠি দিয়ে অপরাধ মুক্ত জাতি কেয়ামত পর্যন্ত গঠন করা যাবেনা। ঘুষ দুর্নীতি দেশের ক্ষতি করে, খুণ খারাবি, ধ্বর্ষণ ব্যভিচার, ইত্যাদি দৃষ্টিতে জগন্যতম অপরাধ। এইসব অপরাধ করলে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি পেতে হবে এই শিক্ষাই দিয়ে থাকি। কিন্তু আমাদের জাগতিক শিক্ষাঙ্গনে কোনো বিষয়ে ঐ শিক্ষা দিই না যে এইসব অপরাধ করলে ঈমান থাকিলেও কোটি কোটি বছর জাহান্নামে জ্বলতে হবে। জাহান্নামের আগুনের শাস্তি কত তিব্র? দুনিয়ার আগুনের চাইতে ৭০ গুন বেশি। পক্ষান্তরে আমরা দেখতে পাই, যারা জাহান্নামের শাস্তির শিক্ষা পেয়েছে তারা ঘুষ দুর্নীতি জেনা ব্যভিচার জুলম নির্যাতন ইত্যাদি অপরাধ থেকে কোটি মাইল দূরে এবং শতভাগ আমানতদার। যেমন; মাদ্রাসা গুলোর দিকে তাকাই, সাধারণ মানুষের চাঁদা ছদগা ফিতার যাকাতের টাকায় কওমী মাদ্রাসা গুলো পরিচালিত হয়, ছাত্রদের পড়াশোনা কিতাব খাওয়া থাকার ব্যবস্থা করা হয়। প্রায় প্রতিটি মাদ্রাসা বিশাল জায়গা জুড়ে সুসজ্জিত দালান অথচ সরকারের কোনো বাজেটের মুখাপেক্ষী হয়না, জাহান্নামের ভয় না থাকিলে আলেম ওলামারা আমানতদার হতনা, মাদ্রাসা গুলো সুসজ্জিত দালান, ছাত্রদের প্রাপ্য এবং সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতনা। মাদ্রাসার ওস্তাদেরা মাসের পর মাস বেতন না পাইলেও কেউ মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যায়না, বেতনের জন্য অভিযোগ আন্দোলন করেনা পক্ষান্তরে সরকারি বাজেট পরিচালিত স্কুল কলেজ তাকাইলে কি দেখি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে আর স্কুলের দেয়াল খসে পড়ছে, মাসের শেষে বেতন না আসলে রাজপথ গরম হয়ে যায়, মাসের বেতন পাইলেও তাদের অভাব দুর হয়না অর্থাৎ ২৪ অভাবের হাহাকার।

শাজিদ
৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবিবার, ১০:২৪ অপরাহ্ন

Ageo silo ghush tobe eai vabe bepok hare noy ,kintu ghush nia mitha shonoddhari ojoggo bektider chakuri mele jai ,ghush dia manusher jaiga jomin dokhol onumoditohin jaigai ghor bebsha protishtan nodir jaigao dokhol kore . Daktari , bicharpoti versity shond driving licence shoboi mele khuner ashami sara pai ar custom sholko bivag passport police db shoboi dhora sowar bahire emonki bimaner ticket shob chakuri khetro.je desher shikkha montri(prakton ) tahar boktitai bole shohonnio porjaie ghush nen shekhane kothai shotota asha korbo?

Nannu chowhan
৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবিবার, ৮:২৯ অপরাহ্ন

If I do 10 jobs/day, out of that might be 9 jobs legal and one is Ghush/bribe! W/out ghush in BD noting can possible! It’s a Digital BD.

Rahman
৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবিবার, ৭:৫৩ অপরাহ্ন

আমাদের দেশে যে লক্ষণ তাতে গণতন্ত্র ধুয়ে মুছে যাওয়ার অবস্থা। ঘুষ ও তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন উপায়, আল্লাহ ভরসা।

মোঃ হানিফ
৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবিবার, ৫:০৪ অপরাহ্ন

Your writings are all very constructive. If most of us follow them our country would have real Shonar Bangla. I read Bangla Newspaper whenever I have time. I was trying to comment in Bangla. But from here in California I donno how to write. Thank you for your effort.

Dr. Surajit Barua
৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবিবার, ২:৫৪ অপরাহ্ন

Bribery became a disease in Bangladesh. No Govt can control it unless the mentality of the people is changed. We need a " KHOMEINI " type leader to eradicate corruption & bribery in Bangladesh.

Mustafizur Rahman
৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, রবিবার, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status