জাতীয় পার্টির একাংশ এবং জাতীয় পার্টি (জেপি)’র নেতৃত্বে ১৬টি রাজনৈতিক দলের একটি জোট হচ্ছে। আসছে ৬ই ডিসেম্বর এই জোটের ঘোষণা আসতে পারে। গতকাল এই দলগুলোর এক সভা থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টি একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ভাড়া করা লোক নিয়ে এসেছে দেশের কাজ করতে। নির্বাচন হবে ভালো কথা। কিন্তু প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে রক্তপাত। প্রার্থীর বিরুদ্ধে মশাল মিছিল হচ্ছে। নির্বাচনে যাবো- না মরতে যাবো। আইনশৃঙ্খলা কে নিয়ন্ত্রণ করবে? পুলিশের কাপড় বদলায় কিন্তু চরিত্র বদলায় কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলে না। এখন কেউ স্বাধীনতার কথা বলে না, এখন বলে পিটাবো, মারবো। সবাই বলে লুটেরা ব্যাংক লুট করেছে। কে করেছে সেটা বলে না। ক্ষমতায় যাওয়ার পর বলে অমুক করছে।
সভাপতির বক্তব্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এই জোটটা শুধু নির্বাচনী জোট না ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসবে কি আসবে না আমরা এখনো জানি না। যদি অংশ নিতে না পারে ২৫ শতাংশ ভোট রয়েছে। এখানে তৃতীয় ধারা তৈরি করার সুযোগ আছে। যারাই ক্ষমতায় আসুক একটা শক্তিশালী বিরোধী দল হওয়ার সুযোগ আছে।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির অনেক সফলতা রয়েছে। আমাদের সময় ড. মিলন মারা গেলেন। তখন এরশাদ সাহেব বলেছিলেন, আর রক্তপাত চাই না। আমি রিজাইন করবো এবং নির্বাচন করবো। আমরা এখন নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার। নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা কোথায়? খুলনায় দুইজনকে আদালতে খুন করা হলো। এই অবস্থায় কী করে তারা মনে করেন সুন্দর নির্বাচন উপহার দেবেন।
এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী ৬ তারিখে জোট ঘোষণা করা হবে। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করি। আমরা দেশের জন্য কাজ করতে চাই।
জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, তৃতীয় ভদ্রলোকদের রাজনীতি করার জন্য একটা প্ল্যাটফরম প্রয়োজন। এই জন্যই এই জোট। ৫ই আগস্ট ফ্যাসিবাদ দূর হয়েছে। কিন্তু আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে। মববাজি করে একে সরিয়ে দাও, ওকে সরিয়ে দাও। এটা অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া অনেকেই চায় না। এখন এমন সরকার আছে; যারা নিজেদের সুবিধার জন্য নানান কাজ করছে। এই সরকারের অধীনে গণভোট হতে পারে না। মতবিনিময় সভায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট নামে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক জোট গঠন করার লক্ষ্যে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। জোটের মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত করা হয় জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। এ ছাড়া জোট আত্মপ্রকাশের আগে জোটের অন্তর্ভুক্ত সকল দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, জাপা’র কো- চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, জনতা পার্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ এন এম সিরাজুল ইসলাম, মহাসচিব জাফর আহমেদ জয়, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এডভোকেট মহসিন রশিদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ সালাউদ্দিন সালু, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আশরাফুল হক, বাংলাদেশ ইসলামিক জোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওহেদ ফারুক, জাতীয় সংস্কার জোটের সভাপতি মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টির চেয়ারম্যান মো. আখতার হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা’র সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলু, বাংলাদেশ সার্বজনীন দলের সভাপতি নূর মোহাম্মদ মনির, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, পিস অ্যালাইন্সের চেয়ারম্যান হাজী এস এম এ জলিল, ন্যাপ ভাসানীর মহাসচিব জহিরুল ইসলাম। বাংলাদেশ গণধিকার পার্টির চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন, এস এম আশিক বিল্লাহ চেয়ারম্যান ডেমোক্রেটিক পার্টি ও গণতান্ত্রিক জোট বাংলাদেশ, মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।
