রিসেট

মিঠামইনে সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর (বুধবার), ২০২৫ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের গ্রামের বাড়িতে হামলা  ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদরের কামালপুর গ্রামে সাবেক প্রেসিডেন্টের বাসভবনে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ৩০-৪০ জন ব্যক্তি এই হামলায় অংশ নেয়। তারা বাসভবনের বৈঠকখানার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় হামলাকারীরা বাসভবনের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এছাড়া বাসভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে ও কিছু জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। মিঠামইন থানার ওসি আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে হামলাটি চালানো হয়। এ সময় জানালার কাঁচ, শোকেস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। এছাড়া তারা দু’টি টেলিভিশন ও একটি পুরাতন মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা চলে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সোমবার সন্ধ্যায় মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে উপজেলা সদরে আনন্দ মিছিল বের করেন। মিঠামইন বাজার এলাকায় এ আনন্দ মিছিলে কয়েকশ’ বিএনপি নেতাকর্মী অংশ নেন। এদিকে মিছিল শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে ৩০-৪০ জন ব্যক্তি মিঠামইন উপজেলা সদরের কামালপুর গ্রামে অবস্থিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে যায়। জনশূন্য বাড়িটিতে কোনো ফটক না থাকায় তারা বাড়ির প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা এ সময় ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ও আলমিরা ভাঙচুর করে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে। ভাঙচুর শেষে হামলাকারীরা দু’টি টেলিভিশন ও একটি মোটরসাইকেলসহ কিছু জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিএনপি’র মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ এই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। তবে মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ফ্যাসিস্ট হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর হামিদ সাহেবের বাড়ির কিছু লোকজন ও মিঠামইন থানার মামলার কিছু পলাতক আসামি তার বাড়িতে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিলো। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের উপর চড়াও হয়। এখানে বিএনপি’র লোকজন জড়িত নয়।