রিসেট

বৈষম্য দূর না হলে নির্বাচন-সংস্কার কোনোটিই সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়

প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর (রবিবার), ২০২৫ Archive 2022Source: অর্থনৈতিক রিপোর্টার

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাট ফরমের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে না পারলে ন্যায়বিচার, নির্বাচন ও সংস্কার কোনোটিই সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে না। এজন্য কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োজন। 

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম আয়োজিত বৈষম্যবিরোধী আইন প্রবর্তন বিষয়ক নাগরিক সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন। 

দেবপ্রিয় বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে আমাদের মনে হয়েছে বৈষম্যবিরোধী কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে একটি বিশেষ আইন দরকার। এজন্য সর্বজনীন ব্যবহারযোগ্য আইনের চেষ্টা গত সরকারের সময়ে শুরু হয়েছে। কিন্তু ওই সরকার এ আইনের বিষয়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা সাহস দেখায়নি। আর অন্তর্বর্তী সরকার এসেছে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে ধারণ করে। ফলে এই আইন এখন সময়ের দাবি। 

তিনি বলেন, তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি ন্যায়বিচার চান, তাহলে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, অধিকার রক্ষা করতে হবে। একইভাবে যদি আমরা চাই নির্বাচন, তাহলে বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োজন। সর্বজনীন অধিকার না থাকলে সংস্কার কার্যকর হবে না। বৈষম্যবিরোধী কথা বলবো, কিন্তু কোন কোন বৈষম্য নিয়ে কথা বলবো, আর কোন কোন বৈষম্য নিয়ে কথা বলবো না এটা হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, সবার কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছানো না গেলে, আঞ্চলিক বৈষম্য থাকলে, প্রবীণ গোষ্ঠীকে যদি সুরক্ষা না দেয়া যায়, তাহলে কি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হলো? যদি একটি মানুষ দার্শনিকভাবে ভিন্নমত পোষণ করে তাহলে তার মনোভাবকে স্তিমিত করার জন্য তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করবো, সেটা বৈষম্যবিরোধী চেতনার অংশ হতে পারে না। 

তিনি বলেন, যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা তার আত্মপরিচয়ের চেষ্টার ভেতরে আছে তাকে যদি আমরা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি না দিই, ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আছে তারা যদি জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অসহায়ত্ববোধ করে তাহলে আমার বৈষম্যবিরোধী চেতনা হলো না। অবস্থানগত কারণে কেউ উত্তরবঙ্গে থাকছে তার কাছে উন্নয়নের সুফল না পৌঁছাতে পারে; এই ছোট দেশের মধ্যেও যদি আঞ্চলিক বৈষম্য থাকে তাহলে সুষম উন্নয়ন হলো না। প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে যদি ব্যাপকভাবে সুরক্ষা দিতে না পারি তাহলে কী বৈষম্যবিরোধী কথা আমরা বললাম।’

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, দলিত, নারী, উর্দুভাষী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় নানাবিধ কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিচারপ্রাপ্তি, শিক্ষা, সরকারি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ আবাসনের ক্ষেত্রেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সারা হোসেন আরও বলেন, বৈষম্য নিরসনের দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকেও এই দায়িত্ব নিতে হবে।

তিনি জানান, সংবিধান, প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক আদেশে বৈষম্য নিরসনের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং অর্থনীতিবিদ ড. এস আর ওসমানী।

বাংলাদেশে বৈষম্য নিরসনের আইনি প্রেক্ষাপট, বর্তমান বাস্তবতা ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন।