রিসেট

সিপিডি’র ক্লাইমেট উইক ২০২৫ শুরু

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর (রবিবার), ২০২৫ Archive 2022Source: অর্থনৈতিক রিপোর্টার

 ‘আকাঙ্ক্ষাকে কাজে রূপান্তর’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ক্লাইমেট উইক-২০২৫ আয়োজন করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। ১৮ই অক্টোবর থেকে ২১শে অক্টোবর ঢাকায় চারদিনের এই আয়োজনে থাকছে সম্মেলন, সংলাপ, প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। এতে অংশ নেবেন নীতিনির্ধারক, গবেষক, তরুণ প্রজন্ম, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। আলোচনায় থাকবে- জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন, সহনশীলতা ও উদ্ভাবনী সমাধান বিষয়ক নানা দিক। এই আয়োজনটি ডেনমার্ক দূতাবাস ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রথম দিনের আলোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরিত হতে হবে, যাতে পুরো জাতির জন্য একটি উদাহরণ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, নির্গমন কমানো মানে শুধু উৎপাদন নয়, দায়িত্বশীল ভোগও নিশ্চিত করা। টেকসই ভোগ ও উৎপাদনের ওপর জোর দিয়ে তিনি সব খাতে পরিবেশবান্ধব কর্মকৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক সম্মেলন রোড টু কপ-৩০: হাউ ক্যান ন্যাশনাল ইন্টারেস্টস বি অ্যালাইন্ড উইথ গ্লোবাল ক্লাইমেট গোলস’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা জানান, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন অঞ্চলে সবুজ অফিস ভবন নির্মাণ করছে এবং স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় জ্বালানি দক্ষ পরিবেশবান্ধব ভবনের মডেল তৈরি করছে। তিনি বলেন, জলবায়ু অর্থায়নে দ্বৈত হিসাব এবং দুর্বল বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা আস্থার ঘাটতি তৈরি করেছে ও অভিযোজন সহায়তার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। যদি প্রধান অর্থনীতিগুলোর নির্গমন বাড়তেই থাকে, তাহলে শুধু প্রযুক্তি হস্তান্তর সমস্যার সমাধান করবে না, মন্তব্য করেন তিনি।

ইটভাটার পরিবেশগত ক্ষতির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বিকল্প নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যা কার্বন নিঃসরণ কমাবে, কৃষিজমি রক্ষা করবে এবং পাহাড় কাটার প্রবণতা প্রতিরোধ করবে। এ সময় তিনি উর্বর মাটির পরিবর্তে নদী খননের পলি ব্যবহার করে ইট তৈরির কথা বলেন। অভিযোজন পদক্ষেপে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উপকূলীয় বনায়ন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও স্বল্পব্যয়ী লবণাক্ততা অপসারণ প্রযুক্তি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের সহনশীলতা বাড়াতে অত্যন্ত জরুরি।

সিপিডি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য খুশি কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ-এর উপদেষ্টা ড. আইনুন নিশাত, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর উপসচিব ড. শাহ আব্দুল সাদী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক, জার্মান দূতাবাসের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী উলরিশ ক্লেপম্যান, বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শিরিন সুলতানা লিরা এবং এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সিনিয়র ক্লাইমেট চেঞ্জ কর্মকর্তা মৌসুমি পারভীন।

দ্বিতীয় দিনে তরুণ গবেষক ও পেশাজীবীরা উপস্থাপন করবেন অভিযোজন, প্রশমন, সহনশীলতা, সবুজ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে গবেষণাপত্র। সেরা প্রবন্ধগুলো পুরস্কৃত করা হবে এবং প্রকাশনার জন্য বিবেচনা করা হবে।
তৃতীয় দিনে থাকবে তরুণদের নিয়ে নীতিবিষয়ক কর্মশালা ও সংলাপ। এতে আলোচনা হব্তে জলবায়ু বাজেটিং, আর্থিক কাঠামো এবং অভিযোজন পরিকল্পনা নিয়ে। এই সেশনগুলো তরুণ নেতৃত্বকে ক্ষমতায়িত করবে, যাতে তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও প্রমাণভিত্তিক জলবায়ু নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

আর শেষ দিনে থাকবে ক্লাইমেট অলিম্পিয়াড, নীতি বিষয়ক কেস প্রতিযোগিতা এবং গ্রিন প্রজেক্ট প্রদর্শনী। শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবকরা উপস্থাপন করবেন জলবায়ু সমাধান ও নীতি ধারণা। এ ছাড়া সবুজ উদ্যোগ ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রদর্শন করবে টেকসই উন্নয়ন, সার্কুলার ইকোনমি মডেল এবং কমিউনিটিভিত্তিক অভিযোজন প্রকল্প।