সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘জুলাই সনদ সইয়ের পর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ঠিক করবে কমিশন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী শুক্রবার সইয়ের পর জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি সরকারকে সুপারিশ করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধে যাতে সনদ সই অনিশ্চয়তায় না পড়ে, সে কারণেই কমিশন এ কৌশল নিয়েছে।
তবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের আগে দলগুলো সনদে সই করবে কিনা-এ প্রশ্নও রয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলগুলো একমত হলেও সময় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে তাদের। বিদ্যমান আইনে, নাকি সংবিধানের সমতুল্য আদেশ জারির মাধ্যমে গণভোট আয়োজন করা হবে- প্রশ্নেও ঐকমত্য নেই। সনদে থাকা ৮৪ সংস্কার প্রস্তাবের যেগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও মতভিন্নতা রয়েছে।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এসব কারণে আগেভাগে বাস্তবায়ন পদ্ধতির সুপারিশ করলে সিদ্ধান্ত যে দলের মতামতের বিপক্ষে যাবে, তারা বেঁকে বসতে পারে। এ কারণে আগে সনদ সই হবে। পরে সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে সরকারকে সুপারিশ করবে কমিশন। সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সমকালকে বলেছেন, মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে চূড়ান্ত সনদ পাঠানো হবে। তবে আর মতামত নেওয়া হবে না। শুধু অবহিত করার জন্য পাঠানো হবে। এই সনদই শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বড় আয়োজনের মাধ্যমে সই করবে সংলাপে অংশগ্রহণ করা রাজনৈতিক দলগুলো।
কমিশনের সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গণভোট কখন হবে-এ বিষয়ক সুপারিশ সরকারকে করা হবে না। তবে মতামত দেওয়া হবে। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের কারিগরি সক্ষমতা, অবকাঠামোগত সুবিধা ও জনবল রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি নির্বাচনের দিন গণভোট চায়। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগে গণভোট চায়। কমিশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল পরামর্শ দিয়েছে, সাংবিধানিক আদেশ জারির মাধ্যমে গণভোট আয়োজন করে আগামী সংসদকে সংবিধান সংস্কারের ক্ষমতা দিতে হবে। আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশন 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' হিসেবে গণ্য হবে। গণভোটের মাধ্যমে শুধু এই অধিবেশনকে সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তনের 'কনস্টিটুয়েন্ট পাওয়ার' দেওয়া হবে।
গত রোববার কমিশনের সভায় একজন সদস্য মতামত দেন, আগামী সংসদকে ৯০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের বাধ্যবাধকতা দেওয়া যেতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার সমকালকে বলেন, অনেক আলোচনাই হয়েছে। কিন্তু এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপি সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার বিপক্ষে। দলটির প্রথম অবস্থান আগামী দুই বছরে সনদে থাকা সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করবে পরবর্তী সংসদ। তবে দলটি এখন বলছে, 'যথাসম্ভব শিগগির' সংস্কার সম্পন্ন করার বিধান করা যেতে পারে। জামায়াত ও এনসিপি প্রথম অধিবেশনেই সংস্কার বাস্তবায়ন চায়।
সংলাপে অংশ নেওয়া ৩০ রাজনৈতিক দল ও জোটের পক্ষে কারা সনদে সই করবেন, তা ইতোমধ্যে কমিশনকে জানিয়েছে সবাই। দক্ষিণ প্লাজায় রাত-দিন কাজ চলছে সনদ সই অনুষ্ঠানের। রাজনীতিক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ তিন হাজারের বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলকে এক জায়গায় আনা সম্ভব হয়েছে জুলাই সনদের মাধ্যমে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও মাসের পর মাস একসঙ্গে বসে তারা এই সনদ তৈরি করেছে। এ অর্জনকে স্মরণীয় করতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান বড় আয়োজনে করার ইচ্ছা রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে সরকার, পুলিশ, প্রশাসন ছিল না। জনগণ দেশকে পাহারা দিয়েছে। তারাই জুলাই সনদের রক্ষক। অনুষ্ঠান থেকে এ বার্তা যাবে।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আগেই নির্ধারিত পটভূমি, ৮৪ সংস্কারের সিদ্ধান্ত ও সাত দফা অঙ্গীকারনামা থাকছে সনদে। গত কয়েক দিনে এগুলোর ভাষাগত পরিমার্জন হলেও মূল ভাব ঠিক রাখা হয়েছে। আগে অবশ্য আট দফা অঙ্গীকার ছিল। গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিধান যুক্ত করায় আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রহিত করা এবং সনদের ব্যাখ্যার দায়িত্ব আপিল বিভাগকে দেওয়ার বিষয়টি থাকছে না।
গত বৃহস্পতিবার কমিশন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি প্রদর্শন-সংক্রান্ত ৪(ক) অনুচ্ছেদ সংবিধান থেকে বাতিলের প্রস্তাবে দলগুলোর মতামত নিয়েছে। তবে সংলাপের আগেই এ বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় এ সংস্কার সনদে থাকছে না বলে জানিয়েছেন মনির হায়দার। তিনি বলেন, সনদে ৮৪টি সংস্কার থাকছে।
এদিকে সমকালের আরেক খবরে বলা হয় ‘রাতে ঢাকায় হঠাৎ মার্কিন দূতাবাসে নিরাপত্তা বৃদ্ধি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ও আশপাশ এলাকায় গতকাল সোমবার রাতে হঠাৎ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট সদস্যরা সেখানে নিয়োজিত ছিলেন। এ ছাড়া পুলিশের গুলশান বিভাগের সদস্য ঘটনাস্থলে যান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাত ১২টার দিকে গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, 'মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।' কেন ও কী কারণে হঠাৎ নিরাপত্তা জোরদার করা হলো- এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। রাতে সোয়াটের এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বাড়তি পুলিশ ওই এলাকায় রয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী সমকালকে বলেন, মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সামনে ও আশপাশ এলাকায় পুলিশের একাধিক গাড়ি দেখা গেছে। এর মধ্যে সোয়াটেরও গাড়ি রয়েছে। দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, দূতাবাসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে অবগত করার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সেখানে মোতাযেন করা হয়। তবে এ ব্যাপারে দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো কিছু গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি।
প্রথম আলো
‘ক্ষুদ্রঋণদাতা এনজিওতে বসবে স্বতন্ত্র পরিচালক’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ব্র্যাক, আশা, টিএমএসএস, বুরো বাংলাদেশ, উদ্দীপনসহ বড় আকারের ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বা এনজিওগুলো এত দিন নিজেদের পর্ষদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। সরকার এখন এসব এনজিওতে দুজন করে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার বিধান করতে যাচ্ছে।
ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদে সদস্যসংখ্যা এখন ৫ থেকে ১০। নতুন বিধান কার্যকর হলে বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হবে দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক।
কোনো প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালনা পর্ষদ। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেখানে স্বতন্ত্র পরিচালকেরা মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। আর প্রতিটি সভায় অংশ নেওয়ার জন্য পান ১০ হাজার টাকা। যদিও ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি ঠেকাতে স্বতন্ত্র পরিচালকেরা কী ভূমিকা রাখতে পেরেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, স্বতন্ত্র পরিচালকেরা অনিয়মের সহযোগী হয়েছেন।
ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিধান এত দিন ছিল না। সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রথমবারের স্বতন্ত্র পরিচালক বসবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও নামে ডাকা হয়। তবে এগুলো মূলত মাইক্রোফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন বা এমএফআই। তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। এর চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
এমআরএ সূত্রে জানা গেছে, তারা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের শর্তসংবলিত আইন ও বিধিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে। সেখানে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসহ নানা বিষয় রয়েছে। মূলত এমআরএর ক্ষমতা বাড়ানো ও ক্ষুদ্র ঋণদাতাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথাই রয়েছে খসড়ায়। এ ধরনের নিয়মকানুন করার বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সালেহউদ্দিন আহমেদ এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। জানতে চাইলে গত রাতে তিনি মুঠোফোনে একটি খুদে বার্তা পাঠিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি এখন মন্তব্য করতে পারছেন না। এমআরএ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি কী আলোচনা করেছে, তা তাঁকে জানতে হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘সেফ এক্সিট’: উপদেষ্টাদের তালিকা এনসিপির হাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা সেফ এক্সিট (নিরাপদ প্রস্থান) খুঁজছেন-এমন মন্তব্য করে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাজনীতির মাঠে যে ঝড় তুলেছেন তা এখনো বইছে। খোদ উপদেষ্টারাই এতে রসদ জোগাচ্ছেন। নানা মন্তব্য করে রীতিমতো ‘আগুনে ঘি’ ঢালছেন তারা। ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচজন উপদেষ্টা নাহিদের বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রকাশ্যে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বেশ কড়া ভাষায় সমালোচনাও করেছেন কেউ কেউ। তবে এনসিপি বলছে, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের নামের তালিকা তাদের হাতে রয়েছে। কে কোন দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিরাপদে সরে পড়তে চাইছেন, তা অবিলম্বে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
প্রসঙ্গত, ৪ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন, তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছেন।’ তার এ বক্তব্য বারুদের মতো ছড়িয়ে পড়ে। মন্তব্য ও ছবি দিয়ে তৈরি ফটোকার্ড নেটদুনিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
বিতর্কের মুখে এনসিপি নেতারা বলছেন, সেফ এক্সিট নিয়ে নাহিদ ইসলাম যা বলেছেন তা অজানা গোপন কিছু নয়। বরং বিষয়গুলো একেবারেই দৃশ্যমান। যতই দিন যাচ্ছে কয়েকজন উপদেষ্টার ভূমিকা পরিষ্কার হচ্ছে। তারা রীতিমতো একটি রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে উঠছেন। হয়তো তারা ধরেই নিয়েছেন নিশ্চিতভাবে তাদের পছন্দের দল ক্ষমতায় আসছে। অথচ তারা শত শত লাশের উপরে পা দিয়ে ক্ষমতার চেয়ারে বসেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক নেতা বলেন, এভাবে কিছু দলীয় আজ্ঞাবহ ব্যক্তিকে উপদেষ্টা পরিষদে নিয়ে আসা ঠিক হয়নি। বরং অভ্যুত্থানের অগ্রভাগে থাকা ছাত্র নেতৃত্ব নিয়ে সরকার গঠিত হলে আজকের পরিণতি দেখতে হতো না। তিনি বলেন, শুধু বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বাসানোর জন্য হাজারো ছাত্র-জনতা রাজপথে অকাতরে প্রাণ দেননি।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, আমাদের দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট নিয়ে যা বলেছেন তা নিছক কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। তিনি (নাহিদ) নিজেও উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন। সরকারের ভেতর থেকে তিনি অনেকের ভূমিকা পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন। তবে কোন কোন উপদেষ্টা সেফ এক্সিট চান তাদের নামের তালিকা হয়তো তার কাছে আছে।
কালের কণ্ঠ
‘জোটের জটিল সমীকরণ: নির্বাচন সামনে রেখে দলগুলোর তোড়জোড়’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোও বসে নেই। বিভিন্ন ইস্যুতে দলগুলো আন্দোলন করলেও ভেতরে ভেতরে সবাই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সব দলের প্রার্থীরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে আলোচনাসহ বিভিন্ন ধরনের জনসংযোগ করছেন। একই সঙ্গে দলের সবুজ সংকেতেরও অপেক্ষায় রয়েছেন মাঠে থাকা প্রার্থীরা। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতারা বলছেন, সারা দেশই এখন নির্বাচনমুখী।
সবাই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ অবস্থায় দৃশ্যমান হচ্ছে ভোটের হিসাব-নিকাশও। নির্বাচনী জোট গঠন নিয়েও চলছে জটিল সমীকরণ। এখন পর্যন্ত চারটি জোট নিয়ে জোর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
দলগুলোর মধ্যে ভেতরে ভেতরে চলছে আসন ভাগাভাগির আলোচনা। তবে ছোট দলগুলো যোগাযোগ রাখছে একাধিক জোটের সঙ্গে। এরই মধ্যে জোটের প্রার্থী হিসেবেই প্রচারণায় নেমেছেন ছোট দলের বড় নেতারা। তবে যত জোটই হোক না কেন, আলাদাই থাকবে বিএনপি ও জামায়াত। আর এ দুই জোটে শেষ সময়ে চমকও আসতে পারে।
জোটগত নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা প্রায় ৬৪টি রাজনৈতিক দল বিগত স্বৈরাচারের সময় যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমাদের সঙ্গে যে রাজনৈতিক দলগুলো আছে, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সবার মতামত নিয়ে আমরা ৩১ দফা দিয়েছি। যে দলগুলোকে আমরা পেয়েছি আমাদের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনে, আমরা চাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে।’
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সেনা সাব জেলে ১৫ কর্মকর্তা’। খবরে বলা হয়, ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। এই কারাগারে কাদের রাখা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট না করলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে করা মামলার চার্জশিটভুক্ত ও সেনা হেফাজতে থাকা ১৫ কর্মকর্তাকে রাখার জন্য ওই ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার বা সাব জেল ঘোষণা করেছে সরকার।
এ দিকে সেনানিবাসের একটি ভবনকে কারাগার ঘোষণার বিষয়ে ওই ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, কোন জায়গাকে কারাগার ঘোষণা করা হচ্ছে, সেটা তাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আসামিকে গ্রেফতার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আনতে হবে। তার পর আদালত যেখানে আসামিকে রাখতে বলবেন, আসামি সেখানে থাকবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেনানিবাসে আদালত ঘোষণার প্রজ্ঞাপনটি গণমাধ্যমের কাছে আসে গতকাল সোমবার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোডসংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত ‘এম ই এস বিল্ডিং নম্বর-৫৪’কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো। যথাযথ কর্তৃপরে অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলের গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দু’টি মামলায় এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা একটি মামলায় মোট ২৫ জন সাবেক ও বর্তমান সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সে দিনই এই তিন মামলায় ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এরপর গত শনিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, ১৫ জন কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমান সেনা কর্মকর্তা। আর একজন কর্মকর্তা অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (এলপিআর) আছেন।
বণিক বার্তা
‘গমের উৎস যুক্তরাষ্ট্র, অর্থ পাবে সিঙ্গাপুর’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে প্রথমবারের মতো গম আমদানি হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। গত ২০ জুলাই ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে গমের চারটি চালান যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে রওনা হয়েছে বলে পরিবহন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রথম চালানটি ২৪ বা ২৫ অক্টোবর নাগাদ বাংলাদেশে পৌঁছার কথা রয়েছে, যার অর্থ পরিশোধ হবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক গম সরবরাহের তৃতীয় পক্ষ প্রতিষ্ঠান এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনালের সিঙ্গাপুরের ব্যাংক হিসাবে।
গম আমদানির এ চুক্তি ও লেনদেন নিয়ে স্থানীয় ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসায়ী মহল থেকে কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, যে পুষ্টিমানের গম আমদানি করা হচ্ছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বিবেচনায় তা তুলনামূলক বেশি। আর সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গম রফতানিকারক হিসেবে সুনাম রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান থাকার পরও সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের এক্ষেত্রে সম্পৃক্ত থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও মনে করেন তারা। তাদের দাবি, এ প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে লক্ষ্য, তার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
গত ২০ জুলাই গম আমদানির চুক্তির পর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টিমান ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে সাত লাখ টন উচ্চমানের গম আমদানির বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর এবং আমেরিকার পক্ষে ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ কে. সোয়ার স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, গমের ক্রেতা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য অধিদপ্তর। বিক্রেতা সিঙ্গাপুরে অবস্থিত এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড। চুক্তি হয়েছে এ দুই পক্ষের মধ্যে। বিক্রেতাকে মনোনীত করেছে ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটস। চুক্তি অনুযায়ী বিক্রেতা ক্রেতার কাছে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ২০২৫ বা সর্বশেষ মৌসুমের ২ লাখ ২০ হাজার টন মিলিং গম বিক্রি করবে।
চুক্তিতে থাকা পরিশোধের শর্ত অনুযায়ী, ক্রেতা একটি অপরিবর্তনযোগ্য এলসি বা ঋণপত্র খুলবে, যার ভিত্তিতে শিপিং নথি গ্রহণের পর ৯৫ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করা হবে। বাকি ৫ শতাংশ অর্থ গুণগত মান ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিশোধ হবে। পণ্যের গুণগত মানের মাপকাঠিতে বলা হয়েছে, গমে প্রোটিনের মাত্রা (ড্রাই ম্যাটার বেসিস) ন্যূনতম ১১ দশমিক ৫ শতাংশ থাকতে হবে। পুষ্টির মাত্রা এর নিচে হলে চালান প্রত্যাখ্যান করা হবে। চুক্তিতে গমের মূল্যবিষয়ক ধারায় বলা হয়, প্রতি টনে দাম ৩০২ দশমিক ৭৫ ডলার। এর মধ্যে পণ্যমূল্য, বীমা, পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। বিক্রেতা তার দেশে সব ধরনের কর ও চার্জ বহন করবে। ক্রেতা বাংলাদেশে সব ধরনের কর ও চার্জ বহন করবে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের অন্যতম বড় উৎস সঞ্চয়পত্র বিক্রি। কিন্তু চড়া সুদের চাপ কমাতে সরকার সঞ্চয়পত্রের ঋণ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে। মানুষের যাতে সঞ্চয়পত্র কিনতে আগ্রহ কমে, সে জন্য ধাপে ধাপে কমানো হচ্ছে সুদহার। এরই অংশ হিসেবে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে সুদের হার আরও দেড় শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই আলোকে আগামী ডিসেম্বরে নতুন সুদহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
জানা গেছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমিয়ে ট্রেজারি বিল-বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ধার করা বাড়ানো হয়েছে। কারণ, ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার সঞ্চয়পত্রের তুলনায় কম। এতে সরকার আর্থিকভাবে লাভবান হলেও বিপাকে পড়ছেন সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর নির্ভরশীল মানুষ, বিশেষ করে অবসরে যাওয়া নাগরিকেরা।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি সরকারের সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা পড়ছে। তবু সুদহার কমানো হচ্ছে, যা বিনিয়োগ-কারীদের নিরুৎসাহিত করবে। এখন সরকার ট্রেজারি বিল-বন্ড থেকে সস্তায় ঋণ পাবে। এতে সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে। এটা সরকারের জন্য ভালো। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য এটি চাপ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সরকার চলতি বছরের ১ জুলাই জাতীয় সঞ্চয়পত্রের প্রধান স্কিমগুলোর মুনাফার হার ৪৭ থেকে ৫৭ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে। তখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে সুদহার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ করা হয়, যা আগে ছিল ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একইভাবে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সুদহার করা হয় ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা আগে ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ। পরিবার সঞ্চয়পত্রের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে সুদহার ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ করা হয়। আর পেনশনার সঞ্চয়পত্রের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্তিতে সুদহার এখন ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর আগে ২০২১ সাল থেকে কয়েক দফায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হয়েছে। পাশাপাশি আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি শর্ত।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘জুলাই জাতীয় সনদ: আরেক দফা পরিবর্তন আসছে অঙ্গীকারনামায়’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে স্বাক্ষরের আগে আরেক দফা পরিবর্তন করা হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায়। এর আগে দুই দফা পরিবর্তন করা হয়। প্রথম দফায় আট অঙ্গীকারের কথা থাকলেও দ্বিতীয় দফায় সাতটি চূড়ান্ত করা হয়।
১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর গ্রহণ অনুষ্ঠান। এর আগে আজ অথবা আগামীকাল সনদের চূড়ান্ত কপি পাঠানো হবে দলগুলোর কাছে। তার আগে বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে অঙ্গীকারনামায় পরিবর্তন আনা হবে।
অঙ্গীকারনামার মূল বিষয় ঠিক রেখে কিছু পরিবর্তন করা হবে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘বাক্য-শব্দেরও কিছু পরিবর্তন থাকবে।’ কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে-প্রশ্নে তিনি জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। কারণ সনদ স্বাক্ষরের আগে জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত কপি দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে।’ কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দলের আপত্তি রয়েছে অঙ্গীকারনামায়। তারা বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েছে। পরে বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে অঙ্গীকারনামায় কিছু বিষয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে যেসব দল অঙ্গীকারনামা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল তারা এখন সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে।
এর আগে সাত দফা অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এখন তাতে স্বাক্ষর করলে এ সনদ নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না দলগুলো। কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমতসহ (নোট অব ডিসেন্ট) ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে এ চূড়ান্ত খসড়ায়। এ ছাড়া সনদের চূড়ান্ত খসড়ার পটভূমি এবং অঙ্গীকারনামায় বেশ কিছু বিষয় যুক্ত ও পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনসহ পরবর্তী বিভিন্ন ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয় স্থান পেয়েছে, যা খসড়া কপিতে ছিল না।
