যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে আজ বহুল প্রত্যাশিত বন্দিবিনিময় হবে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে। হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ইসরাইলিদের ফেরত দেয়া হবে। তার বিনিময়ে ইসরাইল প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ও ১৭০০ আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেবে। এ জন্য প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘যুদ্ধ শেষ’ ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সোমবার জিম্মি মুক্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইসরাইলে আসার কথা তার। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হামাস সব ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে।
জিম্মি ও বন্দি বিনিময়ের খবরে সীমান্তের দু’পাড়ে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়ছে। গাজায় দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আত্মীয়কে দেখার জন্য স্বজনরা সমবেত হচ্ছেন। তেল আবিবেও ভিড় জমছে। মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে জিম্মিদের মুক্তির খবরের জন্য। ফিলিস্তিনি যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসের কাছে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা পর্যন্ত (গ্রিনউইচ মান সময় সকাল ৯টা) সময় আছে ৪৮ জিম্মিকে ফেরত দেয়ার। এর মধ্যে ২০ জনকে জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। বিনিময়ে ইসরাইল মুক্তি দেবে ২৫ ফিলিস্তিনি বন্দি ও ১৭০০ আটক ব্যক্তিকে। ট্রাম্প ইসরাইলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং ইসরাইলি সংসদে ভাষণ দেবেন।
এরপর তিনি মিশরে যাবেন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দিতে। মিশরের লোহিত সাগরের পাড়ে অবকাশ যাপন কেন্দ্র শারম আল শেখে এই সম্মেলনে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারসহ আরও বিশ্বনেতারা অংশ নেবেন। ওদিকে তেল আবিবে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন ‘হোস্টেজ স্কয়ারে’। তাদের প্রিয়জনরা অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই খবর শোনার আশায়। সম্প্রতি এক্সে পোস্টে ‘হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরাম’ একটি ছবি শেয়ার করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, অসংখ্য মানুষ বড় স্ক্রিনের সামনে বসে আছে। সেই পর্দায় শিগগিরই সম্প্রচার হবে গাজা থেকে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির খবর।
ইসরাইল ও ফিলিস্তিন- উভয় দেশের পরিবারগুলো এখন অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয়জনদের ফেরার জন্য। কেউ ফিরবেন গাজা থেকে। কেউ ইসরাইলি কারাগার থেকে। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার অংশ হিসেবে এই বিনিময় প্রক্রিয়া আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ দুপুরের আগেই। নেতানিয়াহুর দপ্তরের এক মুখপাত্র ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ইসরাইল আশা করছে জীবিত থাকা ২০ জন জিম্মিকে সকালেই গাজায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট নিউজ জানিয়েছে, সেনা কর্মকর্তাদের ধারণা, মুক্তির প্রক্রিয়া সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যেহতে পারে-সম্ভবত দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তর গাজার তিনটি সম্ভাব্য হস্তান্তর পয়েন্টের একটিতে। জিম্মিদের পরিবারকে জানানো হয়েছে, তারা যেন স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ ইসরাইলের রেইম সামরিক ঘাঁটিতে উপস্থিত থাকে। সেখানে মুক্তির পর জিম্মিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হবে। এএফপি নেতানিয়াহুর মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রায় ২০০০ ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তিকে তখনই মুক্তি দেয়া হবে, যখন ইসরাইল নিশ্চিত হবে-সব ইসরাইলি জিম্মি নিরাপদে সীমান্ত পার হয়ে দেশে পৌঁছেছে।
এএফপি জানায়, হামাস আরও কিছু জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তর করবে। তারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ও পরে নিহত হয়েছেন। ইয়েনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটিও আজ থেকেই শুরু হবে, তবে সম্পূর্ণ হতে কয়েক দিন লাগতে পারে। এছাড়া, ২০১৪ সালের যুদ্ধের সময় নিহত এক ইসরাইলি সেনার দেহাবশেষও হামাস ফেরত দেবে বলে জানিয়েছে এএফপি।
