ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রজনন হারের কারণে নয়, বরং বড় আকারের অনুপ্রবেশের কারণে। দৈনিক জাগরণ আয়োজিত ‘অনুপ্রবেশ, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র’ বিষয়ক' এক অনুষ্ঠানে দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই মন্তব্য করেছেন।
পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই দেশগুলোতে হিন্দু জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ধর্মান্তরের কারণে নয় বরং তাদের মধ্যে অনেকেই ভারতে আশ্রয় চেয়েছেন’।
শাহের মতে, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ আবার মোটেই বাড়ন্ত প্রজনন হার নয়। বরং, বিরাট সংখ্যায় অনুপ্রবেশ। এরপরেই একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে শাহ বলেন, ‘দেশের মুসলিমদের সংখ্যা ২৪.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে হিন্দু জনগণের সংখ্যা কমেছে ৪.৫ শতাংশ। এমন ভাববেন না যে দেশে ধর্ম নির্বিশেষে জন্মহার কমছে। বরং অত্যাধিক অনুপ্রবেশের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যখন ভারত বিভক্ত হয়, তখন ধর্মের ভিত্তিতে ভারতের দুই পাশে পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে বিভক্ত হয়ে যায়।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৫১ থেকে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে পরিলক্ষিত সমস্ত ধর্মের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বৈষম্য মূলত অনুপ্রবেশের কারণে। তিনি বলেছিলেন যে, তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি ১৯৫১ সাল থেকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ এই তিনটি নীতি গ্রহণ করেছে। সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করবে, ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম মুছে ফেলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে এবং পরবর্তীতে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কাজ করবে। ভোটের অধিকার শুধুমাত্র এই দেশের নাগরিকদের দেয়া উচিত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) এর ওপরেও জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সিএএ কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার জন্য নয় বরং এটি নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য ডিজাইন করা একটি প্রোগ্রাম… হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান বা অন্য কোনও সম্প্রদায়কে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য আইনে কোনও বিধান নেই… এর একমাত্র উদ্দেশ্য হল উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব প্রদান করা'।
একজন ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে এবং জেলা প্রশাসন তাদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয় তবে কীভাবে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যায়? এই প্রশ্ন জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, গুজরাট এবং রাজস্থানেরও সীমান্ত রয়েছে, তবে সেখানে কোনও অনুপ্রবেশ ঘটে না।
শাহের কথায়, ‘যখন অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন তারা দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ভোটের ভিত্তি যখন জাতির স্বার্থে না হয়, তখন গণতন্ত্র কখনোই সফল হতে পারে না।’
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
