রিসেট

ইসরাইলি বাহিনীর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন শহিদুল আলম

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর (রবিবার), ২০২৫ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

ইসরাইলের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। গতকাল ভোরে দেশে পা রেখেই বিকালে রাজধানীর দৃক পাঠ ভবনে 
আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে বন্দি থাকাকালীন নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি। শহিদুল আলম বলেন, আটক করে জাহাজ থেকে নামানোর পর আমাদের ওপর অনেক ধরনের নির্যাতন করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে মানসিক নির্যাতন বেশি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের হাত পেছনে নিয়ে বেঁধে যেখানে হাঁটুমুড়ে বসানো হয়েছিল, সেখানে ইসরাইলি বাহিনী আগে থেকে মূত্রত্যাগ করেছিল। এরপর আমার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইসরাইলি বাহিনী ফেলে দেয়। যতবার সেটি তুলেছি ততবার আমার ওপর চড়াও হয়েছে। সে সময় নিজেদের মধ্যে কথা বলায় অন্য দু‘জন সহযাত্রীকে মেশিনগানের ব্যারেল দিয়ে আঘাত করা হয়। মরুভূমির মধ্যে ইসরাইলের সবচেয়ে গোপনীয় কারাগারে রাখা হয় আমাদের। সেখানে অন্য জাহাজ থেকে আটক হওয়া আরেকজন সহযাত্রী আমাকে জানান, ইসরাইলি বাহিনী ওই ব্যক্তিকে আটক করার পর বলেছিল ‘তুমি হামাসের এজেন্ট, ভেতরে নিয়ে তোমাকে গুলি করা হবে।’ 

দৃকের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আটক অবস্থায় কারাগারে তারা অনশন করেছিলেন। কোনো খাবার খাননি। তবে শারীরিক দুর্বলতার কারণে কয়েকজন খাবার খেয়েছেন। আড়াই দিনে তাদের মাত্র এক প্লেট খাবার দেয়া হয়। তাদের যেখানে শুতে দেয়া হয়েছিল, তা ছিল লোহার।

শৌচাগারগুলোর অবস্থাও ছিল শোচনীয়। তিনি বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ করে ইসরাইলি বাহিনী মেশিনগান নিয়ে সেলের মধ্যে ঢুকে যেতো। তারা জোরে আওয়াজ করতো। আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করতো। দেশে ফিরে আসার পর নিজের পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে শহিদুল আলম বলেন, আমাদের দেশে যেটা করেছি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাস্তায় নেমেছি। আন্দোলন করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। এখান আন্তর্জাতিকভাবে সে রকম একটা জিনিস করা দরকার। তিনি বলেন, অসাধারণ কিছু ব্যক্তি একসঙ্গে হওয়ার কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা এখন আন্তর্জাতিকভাবে একটা নেটওয়ার্ক দাঁড় করাবো। যেহেতু গ্লোবাল লিডাররা করবে না, আমরা অ্যাকটিভিস্টরা কীভাবে করতে পারি সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। একটা ব্লুপ্রিন্ট আমরা করে রেখেছি এবং আমরা ফেরার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আবার আমরা যাবো এবং হাজারটা জাহাজ যাবে।  

গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ঢাকা ছেড়েছিলেন শহিদুল আলম। এরপর ৩০শে সেপ্টেম্বর ইতালি থেকে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন-এফএফসির উদ্যোগে ‘কনশানস’ জাহাজে চড়ে প্রায় ১০০ জনসহ গাজা অভিমুখে রওনা হন। বুধবার ভূমধ্যসাগরে গাজাগামী নৌববহর ফ্রিডম ফ্লোটিলার জাহাজগুলো আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। সেখান থেকে শুরুতেই অপহৃতদের ইসরাইলের আশদদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের দেশটির কেৎজিয়েত কারাগারে বন্দি রাখে ইসরাইলি বাহিনী। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় তুরস্ক হয়ে শনিবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।